ঢাকা, শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩

পদ্মায় স্রোত কমলেও ফেরি চলাচল সীমিত

প্রকাশনার সময়: ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:০৯

শীত মৌসুমে পদ্মায় স্রোতের গতি কমে নদী প্রায় শান্ত হলেও বাংলাবাজার-শিমুলীয়া নৌরুটে বাড়ানো হয়নি ফেরির সংখ্যা। মাত্র ৪-৫ টি ফেরি দিয়ে চলছে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স, ব্যাক্তিগত গাড়ি ও যাত্রী পারাপার। এতে দক্ষিনাঞ্চলে পণ্য পরিবহনে ও এরুট ব্যবহারকারী যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।

জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে পদ্মায় তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচলের সময় পদ্মা সেতুর পিলারে বারবার ফেরির ধাক্কার ঘটনায় বাংলাবাজার-শিমুলীয়া নৌরুটে গত বছরের ১৮ আগষ্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে বিআইডব্লিউটিসি। এরপর কয়েক দফায় সীমিত আকারে ফেরি চালু ও বন্ধ করা হয়। শরীয়তপুরের জাজিরার মাঝিকান্দি ঘাটে স্থানান্তরিত করা হয় ফেরিঘাট। কিন্তু ওই রুটের বিভিন্ন পয়েন্টে ডুবোচর জেগে ওঠায় বন্ধই থাকে ফেরি চলাচল।

এরপর গত ৭ নভেম্বর থেকে বাংলাবাজার-শিমুলীয়া রুটে প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ৪-৫ টি ফেরি দিয়ে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স, ব্যাক্তিগত গাড়ি ও যাত্রী পারাপার শুরু করা হয়। একইদিন থেকে মাঝিকান্দি-শিমুলীয়া রুটে প্রতিদিন বিকেল ৪ টা থেকে পরদিন সকাল ৮ টা পর্যন্ত ৪-৫ টি ফেরি দিয়েও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স, ব্যাক্তিগত গাড়ি ও যাত্রী পারাপার শুরু করে বিআইডব্লিউটিসি। তবে ফেরি পারাপারে বন্ধ রাখা হয় পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রী বোঝাই পরিবহন।

গত ৭ ডিসেম্বর থেকে মাঝিকান্দি-শিমুলীয়া রুটে ২৪ ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস চালু হয়েছে। এরুটে দিনের বেলা ২ টি ফেরি ও সন্ধ্যার পর থেকে ৪ টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও ব্যক্তিগত গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে। তবে বর্ষা মৌসুমে ফেরি সার্ভিসের অচলাবস্থায় শুরু থেকেই এরুট ব্যবহারকারী দক্ষিনাঞ্চলের পণ্যবাহী ট্রাকগুলো পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুট ঘুরে চলাচল করছে। এতে সময় ও জ্বালানি খরচ দুটোই বেড়েছে। যার প্রভাব পড়ছে বাজারগুলোতে।

অপরদিকে ফেরিতে যাত্রীবাহি পরিবহন পারাপার বন্ধ থাকায় দক্ষিনাঞ্চলের যাত্রীরা অতিরিক্ত সময় ও ভাড়া দিয়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুট ঘুরে চলাচল করছে। অথবা অতিরিক্ত টাকা ব্যায়ে প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাস ভাড়া করে বাংলাবাজার-শিমুলীয়া রুট ব্যবহার করে চলাচল করছে। আর গাড়ি পারাপারের সুযোগ না থাকায় অনেক যাত্রীই লঞ্চে পারাপার হচ্ছে। শীত মৌসুম শুরু হওয়ায় পদ্মা নদী এখন শান্ত। নৌচ্যানেলে ডুবোচরে ফেরি আটকে যাওয়ার ভয়ও নেই। তবুও বাংলাবাজার-শিমুলীয়া রুটে পারাপারে ফেরি সংখ্যা না বাড়ানো ও পণ্যবাহী ট্রাক এবং যাত্রীবাহি বাস পারাপার শুরু না করায় এরুট ব্যবহারকারী যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। আর অধিকাংশ ফেরি বন্ধ থাকায় রাজস্বও কমে গেছে কয়েকগুন।

বরিশাল থেকে লোকমান হোসেন বলেন, সব সময় বাসে করেই ঢাকা যাই। কিন্তু এখনতো ফেরিতে বাস পারাপার বন্ধ। ৬ ব্যবসায়ী মিলে মাইক্রোবাস ভাড়া করে বাংলাবাজার ঘাটে এসে ৩ ঘণ্টা ধরে ফেরির অপেক্ষা করছি। ফেরি চলে মাত্র ৩-৪ টি। তাই কখন ফেরি পাবো বুঝতে পারছি না।

মংলার সোনালী আক্তার বলেন, এখনতো শীত মৌসুম। পদ্মায় স্রোতও নেই। তাহলে ফেরি সংখ্যা বাড়াচ্ছে না কেন? বেশি ফেরি চললে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে অপেক্ষা করতে হতো না। তাই সরকারের কাছে এরুটে ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছি।

বরগুনার আল আমিন শেখ বলেন, বর্ষা মৌসুমে পদ্মায় স্রোত ছিল, সেতুর পিলারের সাথে ফেরি ধাক্কা লাগতো তাই ফেরি সংখ্যা কমিয়ে জরুরি সেবা চালু রাখা হয়েছিল সেটা বুঝতে পারছি। কিন্তু এখনতো শীতকাল। নদীতে স্রোতও নেই। এখনতো সকল ফেরিই চলতে পারে। আর পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহি পরিবহনও পারাপার করতে পারে। এটা কর্তৃপক্ষের দেখা উচিত। আমরা দক্ষিনাঞ্চলের মানুষ অনেক ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।

বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ঘাট ম্যানেজার মো: সালাউদ্দিন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক বাংলাবাজার-শিমুলীয়া রুটে প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ৫-৬ টি ফেরি দিয়ে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়ি ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। আর মাঝিকান্দি-শিমুলীয়া রুটে প্রতিদিন দিনের বেলা ২ টি ও সন্ধার পর ৪ টি ফেরি দিয়েও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়ি ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ