ঢাকা, শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩

সারি সারি হাঁস, খামারির হাসি বার মাস

প্রকাশনার সময়: ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:৫২

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন টাঙ্গাব ইউনিয়নের ভরপুর গ্রামের দুই সহোদর শ্রী অন্তর চন্দ্র বর্মণ ও শ্রী সুজন চন্দ্র বর্মণের হাঁসের কোলাহলে ভোর হল দোর খোল বার্তা পাওয়া যায়। তিনি প্রায় ৬ শতাধিক হাঁস পালন করেন। গ্রামীণ জনপদে বাড়ি বাড়ি হাঁস-মুরগি পালন অনেকটাই রেওয়াজের মতো। আজো আছে তার ধারাবাহিকতা বাংলার গ্রামাঞ্চলে। তবে দেশে পোল্টি শিল্পের বিকাশে এসব লালন পালনের ধারণা পুরোটাই বদলে দেয়। ক্রমে ক্রমেই শহর থেকে বিস্তীর্ন গ্রামীণ জনপদে কর্মঠ বেকারদের আদর্শ পেশা হয়ে দাড়ায়।

মুরগির তুলনায় হাঁস পালনে খরচ কম বলে হাঁসের খামার গড়তে লেগে যায় অনেকেই। খাল-বিল, নদী-নালা বেষ্টিত এলাকা বলে হাঁসের পাল জলে নেমে পড়ে জলকেলিতে। পানিতে ভেসে বেড়ানো হাঁসের এই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয় অনেকেই। আর ভোরের দৃশ্য তো চোখ ফেরানো যায় না। সেই সময় সাদা ডিমের আচ্ছাদিত চারপাশের মনকে মুগ্ধ করে তোলে। এ এক অন্য রকম সৌন্দর্য, ভিন্ন রকম আনন্দ। মাঝঁ বেলায় রাখাল গরুর পাল লয়ে যেমন বাড়ি ফেরে, তেমনি দেখা যায় শত শত হাঁসের পাল সারি সারি বাড়ি ফিরছে কিশোর-কিশোরীর সনে। উদয়াস্তে হাঁসের পাল নদী আর খাল-বিলে শামুক আর ছোট মাছে উদর পূর্ণ করে হেলে দুলে বাড়ি ফিরছে। এতে খামারির খরচও নেই ঝামেলাও নেই।

তবে বাডফ্লুর মতো মহামারি অনেককেই পোল্টি থেকে বিমূখ করেছে। অধিক সহজ আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে গৃহস্থ থেকে বানিজ্যিক বা পেশাদারিকভাবে অনেকেই শুরু করেছেন হাঁস পালন। দেখা থেকে শেখা এভাবেই গফরগাঁও উপজেলার টাঙ্গাব ইউনিয়নের ভরপুর গ্রামের দুই সহোদর শ্রী অন্তর চন্দ্র বর্মণ ও শ্রী সুজন চন্দ্র বর্মণ শুরু করেন হাঁস পালন।

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা থেকে ২৮ টাকা দরে এক দিনের হাজার খানেক হাঁসের বাচ্চা কিনে নিয়ে আসেন এই দুই সহোদর। তা থেকে বেঁচে থাকে ৯ শতাধিক হাঁসের বাচ্চা। এর মধ্যে তিন শতাধিক পূরুষ হাঁস শনাক্ত করেন দুই সহোদর। পরে সেই তিন শতাধিক পূরুষ হাঁস প্রায় দেড় লাখ টাকা বিক্রি করেন। এখন তাদের খামারে রয়েছে ৬ শতাধিক হাঁস। এ হাঁসগুলো বড় করে তুলতে খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। এখন খামারে ওই ৬ শতাধিক হাসের অধিকাংশই ডিম দেয়া শুরু করেছে। আগামী এক সপ্তাহের সকল হাঁসেই ডিম দেয়া শুরু করবে। এবার অন্তত ৮ লাখ টাকার ডিম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা এই দুই সহোদরের।

টাঙ্গাব ইউনিয়নের ভরপুর গ্রামের দুই সহোদরের হাঁসের কোলাহল দেখে টাঙ্গাব ইউনিয়নের অনেকেই উৎসাহী হয়ে শুরু করেন হাঁস পালন।

খামারি অন্তর চন্দ্র বর্মণ জানায়, একটি হাঁস সাড়ে চার মাস বয়স থেকেই ডিম দেয়। একটি হাঁসী ১ বছরে ২৯০ থেকে ৩০০ টি ডিম দেয়। প্রতি হালি ডিম এখন বাজারে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। তেমন নেই খাবার খরচ কিংবা রোগ বালাই। তবে ডায়রিয়া বা কলেরা হাঁসের জীবন নাশের অন্যতম কারণ। এজন্য খামারিরা স্বল্প মূল্যের পশুর কলেরা নিরাময়ী ওষুধ রাখেন হাতের কাছেই। সহজেই খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া যায়। ফলে প্রান্তীক জনগোষ্ঠির অনেকেই আজ হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কম খরচে এমন উদ্যোগ মানুষের ভাগ্য বদলে সহায়ক হবে বলে আমাদের বিশ্বাস’।

নয়া শতাব্দ/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ