ঢাকা, শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩

কেন্দুয়ায় সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে হাজারো পরিবার

প্রকাশনার সময়: ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:০২ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:২৩

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের কোনাপাড়া-কাউরাট গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সাইডুলি নদীতে ব্রিজ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ১০/১২টি গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার। যুগের পর যুগ চলে গেলেও এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ মেলেনি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, হাওড় বেষ্টিত নওপাড়া ইউনিয়নের বহুলী গ্রামে দিয়ে সাইডুলি নদী প্রবেশ করে ইটাচকি, শিশূলাটি গনিতাশ্রম, কাউরাট, কোনাপাড়া, পাচহার হয়ে গোগবাজার ত্রীবেনী ঘাটে মিলিত হয়। যে কারণে ইউনিয়নে কোনাপাড়া ও পাচহার গ্রাম দুটি ভৌগোলিক অবস্থান নদীর পূর্বপাশে। তাছাড়া আশেপাশে সড়কপথ না থাকায় কোনাপাড়া খেয়াঘাট পার হয়ে ইউনিয়নে ইটাচকি, শিশূলাটি গনিতাশ্রম, কাউরাট নাপাড়া, পাচহার কুতুবপুরসহ পার্শ্ববর্তী মদন উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ দৈনন্দিন কাজে নদী পারাপার হতে হয়।

এই নদীতে সেতু না থাকায় কয়েক হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত দৈনন্দিন কাজে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তাদের মৌলিক চাহিদা মিটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে, কৃষি কাজে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চাষাবাদ করা, ফসলি জমির সার ওষুধ পরিবহনে অসুবিধা, জমির ফসল ক্রয়-বিক্রয়ে অসুবিধা, শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠ গ্রহণে অসুবিধা, এ ছাড়া অসুস্থ লোকজনকে দ্রুত চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হতে হচ্ছে।

যুগ-যুগ ধরে কোনো প্রয়োজনে নদীর পশ্চিম পাশে আসতে হলে তাদের নদীতে ভিজে বা খেয়া নৌকা দিয়ে পার হয়ে আসতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে এক বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন স্থানীয়রা। আবার বর্ষা মৌসুমে তাদের বিড়ম্বনার শেষ নেই। খেয়া নৌকা দিয়ে নদী পার হতে গিয়ে পানির শ্রোতে নৌকা ডুবে শিক্ষার্থীদের যেমন বই-খাতা হারায়, তেমনি পথচারীদের মূল্যবান সম্পদ হারিয়েও ক্ষতিগ্রস্ত হন। রোগী পারাপারেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ছাড়া নদীর পূর্ব তীরে কোনো বাজার বা হাট না থাকায় তারা পশ্চিম তীরের হাটবাজারের ওপর নির্ভরশীল।

নদীর পূর্বপাশে বাজার না থাকায় নদীর পূর্ব পারের কোনাপাড়া ও কুতুবপুর গ্রামের লোকজন তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করতে না পেরে ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার, ওষুধপত্র এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে না পেরে পূর্ব তীরের মানুষ খুব কষ্টে দিনযাপন করছে।

শুষ্ক মৌসুমে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে নদীতে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে যাতায়াতের সুবিধা সৃষ্টি করেন। কিন্তু বর্ষায় ভারী বর্ষণের ফলে স্রোতে সাঁকো তৈরি করা সম্ভব হয় না। নদী পারাপার হয়ে ১০/১২ টি গ্রামের মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। দীর্ঘ দিনের এ কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে গ্রামবাসী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের কাছে বহুবার সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে।

নদীর পূর্বপারের কোনাপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ভূট্রো জানান, শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কম থাকে তাই আমরা এক বাঁশের একটি সাঁকো তৈরি করে চলাচল করি। আমাদের দুঃখ-কষ্ট দেখার কেউ নেই। নির্বাচন আইলে (আসলে) নদীতে ব্রিজ করে দিবেন সবাই প্রতিশ্রুতি দেন ঠিকই কেউ আর কথা রাখেননি। নদী পার হতে গিয়ে কত মানুষের কতকিছু হারাইয়াছে হিসাব নেই। বর্ষা মৌসুমে নদীতে অন্তত ৩০ ফুট গাভীর পানি থাকে। স্রোত থাকে প্রচুর। যেকারনে জীবনের চরম ঝঁকি নিয়ে খেয়া নৌকা দিয়ে আমরা নদী পার হই। এই সময়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা সময়মত স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। যাতায়াতের অসুবিধায় আমাদের উৎপাদিত ফসল ন্যার্য্যমূল্যে বিক্রয় করতে পারি না। নদীতে একটি সেতু নির্মাণের জন্য এমপিসহ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

নওপাড়া ইউপির বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল ফারুক ছানা জানান, এই নদীটি ইউনিয়নটিকে দুইভাগে বিভক্ত করে রেখেছে। নদীতে একটি সেতু নির্মাণ হলে নদীর পূর্বপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা ধরণ পাল্টে যাবে।

এব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান ভূঁইয়া জানান, নদীতে সেতু নির্মাণ জন্য সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল এর মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি খুব শিঘ্রই এই সেতুটি নির্মাণের অনুমোদন পাবে।

নয়া শতাব্দী/জিএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ