ঢাকা, শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি ২০২২, ৭ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে সেবা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়

প্রকাশনার সময়: ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ০১:১৮ | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৭:২৫

ময়মনসিংহের নান্দাইলে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও লেখাপড়ায় বিশেষ অবদান রাখছে সেবা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। ২০০৯ সালে অল্প সংখ্যক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৫১ জন। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের বোঝা না মনে করে সমাজের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষে ২০০৯ সালে নান্দাইল পৌরসভায় চন্ডিপাশা এলাকায় সাংবাদিক মো.ইউসুফ আকন্দ মুজিবুর প্রতিষ্ঠা করেন সেবা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানটি সেবা ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত হয়ে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে প্রতিবন্ধীদের মাঝে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউর রহমান জানান, বিদ্যালয় পরিচালানার জন্য কমিটি রয়েছে। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাস নেওয়া হয়। তাদের যাতায়াতের জন্য স্কুলের ভ্যান রয়েছে। বয়স অনুযায়ী মা ও শিশু শ্রেণি (০ থেকে ৬ বছর), শিশু শ্রেণি (৬ থেকে ১২ বছর), বিশেষ শিশু শ্রেণি (১২ থেকে ১৬ বছর), বৃত্তিমূলক (১৬ বছরের উর্ধে) এবং স্পেশাল (সর্বোচ্চ ৩ বছর) তাদের জন্য পৃথক-পৃথক ক্লাস রয়েছে। শিক্ষকরা প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও গান-বাজনার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।

বিদ্যালয়ে শারীরিক, দৃষ্টি, বাক, শ্রবণ, বুদ্বি এবং অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধীরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে পড়াশোনা করছে। ৫ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে তাদের পাঠদান করানো হয়। বর্তমানে স্কুলটিতে ১৮ জন শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছে। তার মধ্যে পুরুষ শিক্ষক ১০ জন, নারী শিক্ষিকা ৮ জন, কর্মচারী রয়েছে ১০ জন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চলে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, এ বিদ্যালয়ে পড়তে পেরে তাদের ভালো লাগছে।

সহকারী শিক্ষিকা উম্মে সালমা বলেন, আমাদের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা সুন্দর ছবি আকতে পারে, গান গাইতে ও নাচতে পারে। একজন মানুষকে সন্মান জানাতেও পারে তারা।

সহকারী শিক্ষক রিয়াদ সরকার বলেন, সাধ্যমত চেষ্টা করছি প্রতিবন্ধীদের মেধাবিকাশ করাসহ প্রাথমিক পর্যায়ের ধাপগুলো পার করার।

প্রধান শিক্ষক জানান, এ স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রতিবারই স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও ২১ফেব্রুয়ারির মত জাতীয় অনুষ্ঠান গুলোর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে একাধিকবার ২য় ও ৩য় পুরষ্কার পেয়েছে। জাতিয় পর্যায়ে ২য় স্থান অর্জন করেছে।

২০১৮ সালে জাতিয় যুব দিবসে ১ম স্থান অর্জনকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক পুরষ্কারপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো.ইউসুফ আকন্দ মুজিবুর বলেন, নান্দাইলে প্রতিবন্ধী শিশুরা দিনের পর দিন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিল। তাদেরকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার লক্ষে বিদ্যালয়টি স্থাপন করি। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে রয়েছে নানা ধরনের সমস্যা। সরকারি সহযোগীতা পেলে বিদ্যালয়টি দ্রুত এগিয়ে যাবে।

নয়া শতাব্দী/জিএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়