ঢাকা, শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি ২০২২, ৭ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ধামরাইয়ে কুয়াশামাখা ভোরে সাকরাইন উৎসব 

প্রকাশনার সময়: ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ১৩:৩২

পৌষের বিদায়ক্ষণ আজ। বাঙালির সংস্কৃতিতে বারো মাসে তেরো পার্বণের একটি পার্বণ হলো পৌষ সংক্রান্তি। পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি বাঙালির সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ উৎসবের দিন। বাংলা পৌষ মাসের শেষের দিন এই উৎসব পালন করা হয়। বারো মাসে তেরো পার্বনের দেশে এই পৌষ মাসের শেষ দিনটিতে শুরু হয়েছে ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাকরাইন মেলা।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) ধামরাই পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে অবস্থিত যাত্রাবাড়ির বটতলায় কাক ডাকা ভোরে শুরু হয় মেলা। শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে সকাল থেকে হাজারো দর্শনার্থীদের ভিড়ে মিলন মেলায় পরিণত হয়ে উঠেছে বটতলা মাঠ।

সকাল থেকেই বাসা বাড়ির ছাদ বা খোলা আকাশের নিচে সূর্যোদয় থেকে চলছে ঘুড়ি উড়ানোর প্রস্ততি। ঘুড়ি উড়ানোর জন্য সুতা মাঞ্জা দেওয়া থেকে শুরু করে পিঠা উৎসবের আয়োজন শুরু হয়েছে।

এই দিন বাঙালিরা বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। তার মধ্যে পিঠা খাওয়া, ঘুড়ি উড়ানো, মাছের মেলা, রসগোল্লা মেলা, ষাঁড় লড়াই সহ নানান আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যের আলো যখন মেলে উঠে, তখনি আকাসে উড়তে শুরু করে ঘুড়ি। বাসা-বাড়ির ছাদে কিশোর কিশোরীদের ঢল আর হৈ-হুল্লোড়। আকাশে দেখা দিতে থাকে চোখদার, পানদার, বলদার, দাবাদার, লেজওয়ালা, পতঙ্গ ইত্যাদি নামের ঘুড়ির আগমন। শুরু হয় নিজের ঘুড়িকে সর্বোচ্চ উপরে উঠার প্রতিযোগিতা। শুরু হয় ঘুড়ি কাটাকাটির লড়াই।

আরো দেখা যায়, ধামরাই পৌর এলাকার কয়েকটি বাসার সাদ বা উঠানে এখনি শুরু হয়েছে সাউন্ড আর সিস্টেমে গান বাজনা।

আজ দুপুরের পর থেকেই আকাশের বুকে বাড়তে থাকবে ঘুড়ির সংখ্যা। ঘরে ঘরে হবে পিঠাপুলির উৎসব। বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেই আকাশে ওড়বে রঙবেরঙের ফানুশ। আতশবাজির আলোয় উজ্জ্বল হবে আকাশ। সন্ধ্যা পার হলেই শুরু হবে সাউন্ড সিস্টেম আর নাচ-গান।

কোথাও আজ সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে কোথাও বিকেলে, কিছু এলাকায় আগামীকাল এভাবে আগামী তিন দিন বিভিন্ন সময়ে মেলা অনুষ্ঠিত হবে ধামরাইয়ের কালামপুর, সোমভাগ, সানোড়া, গোপালপুর, সীতিপাল্লী, হাজিপুর, রামরাবন, বাড়িগাও, বালিয়া, আমতাসহ বিভিন্ন এলাকায়।

নয়া শতাব্দী/এম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়