ঢাকা, বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কেমন যাচ্ছে ফাল্গুনী, সুব্রতর সংসার জীবন?

প্রকাশনার সময়: ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৪৮

ফাল্গুনী আর সুব্রতর বিয়ে নিয়ে যেমন মানুষের মাঝে নানা কৌতূহল ছিল, তেমনি তাদের সংসার কেমন চলবে বা চলছে তা নিয়েও প্রশ্নের হিসাব-নিকাশের শেষ ছিল না। বিয়ের এক মাস অতিবাহিত করে ফেলেছেন ফাল্গুনী ও সুব্রত দম্পতি। তারা জানালেন, তাদের সংসার সুখে ও খুব সুন্দর ভাবেই কাটছে।

সুব্রত তো অনুযোগই করে বসলেন, বিয়ের পর তাকে যেন আর চেনেই না তার পরিবারের সদস্যরা। ফাল্গুনীকে নিয়েই বাসার সবাই ব্যস্ত থাকে।

১ জানুয়ারি বিয়ের এক মাস হয়েছে বেসরকারি সংস্থা কোডেক-এর মাঠ কর্মকর্তা সুব্রত মিত্র ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগে কর্মরত ফালগুনী সাহার।

বাড়ি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপায়। বিয়ের পর বসবাস করছেন বরিশাল নগরীর বিএম কলেজ সড়কে। বাড়িতে ঢুকে দেখা যায়, দুই হাত না থাকা ফাল্গুনী চা করছেন। ঘরের সব কাজই তিনি এভাবে করে যান। ২০০২ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে তার হাত দুটি কেটে ফেলতে হয়েছে।

ছোটবেলা থেকেই ফাল্গুনীকে চেনেন সুব্রত। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দুজনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কথা হয়। ফালগুনীর হাত না থাকা কোনো সমস্যা মনে হয়নি সুব্রতর। একসময় প্রেমে পড়ে যান। এমনকি প্রস্তাবও দেন।

সুব্রত বলেন, প্রথম যখন ওকে প্রেমের প্রস্তাব দিই, তখন ও আমাকে রিফিউজ করে। ফাল্গুনী ভেবেছিল হয়তো আমি ওর সঙ্গে টাইম পাস করব। যখন বুঝতে পারে সত্যিই ভালোবাসি, তখন থেকে আমাদের একসঙ্গে চলা শুরু।

দুই হাত না থাকা মেয়েকে বিয়ের বিষয়ে পরিবারকে রাজি করানো সহজ ছিল না সুব্রতর। তিনি বলেন, ‘আমি পরিবারের একমাত্র ছেলে। দুই হাত ছাড়া মেয়ের সঙ্গে আমার বিয়ে হবে সেটা কেউ মেনে নিতে পারছিল না। তাদের মানানোটা পাহাড় সরানোর মতো কঠিন ছিল। পরিবারের সবার সঙ্গে আমি সিঙ্গেল টু সিঙ্গেল কথা বলি। তারপর সবাইকে রাজি করাই। আমি আসলে পরিবারের বাইরে কিছু করতে চাইনি। এরপর ১ ডিসেম্বর নগরীর নতুনবাজারস্থ শংকর মঠ মন্দিরে বিয়ের পিঁড়িতে বসি। তবে বিয়ের পর সবাই ভালোভাবেই ফাল্গুনীকে মেনে নিয়েছে।’

সুব্রত বলেন, ‘বিয়ের বিষয়ে যাদের ঘোর আপত্তি ছিল, তারা এখন আমাকেই চেনে না। বাসায় বেড়াতে এলে ফাল্গুনীকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে। আমার ভাগনে-ভাগনি ওকে এতটাই পছন্দ করে যে ডাকলেও আমার দিকে ফিরে তাকায় না। সবাই ফাল্গুনীকে নিয়ে খুশি।

ফালগুনী বলেন, ‘সংসার জীবন দারুণ কাটছে। আমার শাশুড়ি আমাদের সঙ্গে থাকছেন। আমাকে সব সময় কাজে সহায়তা করেন। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই তো চাকরি করি। দিন শেষে যখন ফিরি, তখন হাসি-আনন্দেই থাকি। আর পাঁচটা দম্পতির মতো আমাদেরও কথা-কাটাকাটি হচ্ছে। তবে ভালোবাসা আছে অফুরন্ত।‘

নয়া শতাব্দী/এম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়