ঢাকা, বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কক্সবাজারে দ্বিতীয়বারের মতো আলট্রা-ম্যারাথন

প্রকাশনার সময়: ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:৩৩

'দেশ আমার, দায়িত্ব আমার'- এই স্লোগানকে সামনে রেখে কক্সবাজার-টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কে ৩ ক্যাটাগরির ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন দেশি-বিদেশি প্রায় ৩০০ দৌড়বিদ। একই সঙ্গে এবার অংশ নিয়েছেন অর্ধশতাধিক তৃতীয় লিঙ্গ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ।

কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্যের প্রতি ইতিবাচক মানসিকতার প্রসার ঘটাতে, এই ম্যারাথন বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্বাস ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারীদের। আর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মেরিন ড্রাইভ আলট্রা ম্যারাথন আয়োজন করার স্বপ্ন দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার ঘড়ির কাঁটা তখন ঠিক ৬টা, বেজে উঠে হুইসেল। কক্সবাজারের ইনানী সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে শুরু হয় ৩ শতাধিক দৌড়বিদের দৌড়।

বালিয়াড়ি পেরিয়ে মেরিন ড্রাইভ, চলতে থাকে প্রতিযোগিতা। সময়ের সঙ্গে বাড়ে সূর্যের তেজ, তবুও নেই ক্লান্তি। কেউ এবারই প্রথম, কেউবা দ্বিতীয়বার। অংশগ্রহণ করতে পেরেই যেন দারুণ খুশি তারা। এক দৌড়বিদ বলেন, পরিবেশ অনেক সুন্দর। এসেই মন ভরে গেছে। আরেকজন বলেন, সুন্দর, তারুণ্যদীপ্ত থাকতে আমরা দৌড়াই। অরণ্যঘেরা পাহাড় আর বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত দেখতে দেখতে টেকনাফ সৈকতে শেষ হবে দৌড়। আবারও সেই একই পথে ফিরতে হবে ইনানী সৈকতে। এবারের আয়োজন ব্যতিক্রম আরও এক ভিন্ন কারণে। এবারই যে অংশ নিচ্ছে অর্ধশতাধিক তৃতীয় লিঙ্গ আর বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষ। তৃতীয় লিঙ্গের এক প্রতিযোগি বলেন, প্রথম আমরা ম্যারাথনে যোগদান করেছি। এই বার্তা দিতে চাই যে, আমরাও মানুষ।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী তানজিনুর রহমান বলেন, ম্যারাথনে এই প্রথম অংশগ্রহণ করলাম। আমাদের মধ্যে যে একটা প্রতিভা আছে, সেটা আমরা ম্যারাথনের মাধ্যমেই দেখাতে পারছি।

তিনি বলেন, আমি অন্ধ বলে পরিবারের সদস্যরা বোঝা মনে করতো। অনেকবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম। আজ ম্যারাথনে অংশ নিয়ে নিজেকে চিনতে এবং বুঝতে শিখলাম।

সব মিলিয়ে স্তুতি ঝরল আয়োজকদের কণ্ঠেও। স্বপ্ন দেখছেন ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মেরিন ড্রাইভ আলট্রা ম্যারাথন আয়োজন করার। এ সম্পর্কে মেরিন ড্রাইভ আলট্রা ম্যারাথনের রেস ডিরেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা সামনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখানে আল্ট্রা ম্যারাথন আয়োজন করার ব্যাপারে আশাবাদী। কক্সবাজারের ব্রান্ডিং করার ক্ষেত্রেও ম্যারাথন বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। সমন্বয়ক ওমর ফারুক বলেন, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের বৈষম্য দূর করা যাবে। প্রতিবন্ধীদের বোঝা মনে করে তাদের পরিবারের সদস্যরা। এখানে অংশ নেওয়া অনেকেই যুবক। তাদের মাদক সেবন থেকে দূরে রাখা ম্যারাথনের মাধ্যমে সম্ভব।

ইনানী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত তিন ক্যাটাগরি ৫০, ১০০ ও ১৬১ কিলোমিটার দূরত্বের এই আলট্রা ম্যারাথনের সময়সীমা ১০, ২৪ ও ৩৬ ঘণ্টা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে এই মেরিন ড্রাইভ আলট্রা ম্যারাথনের আয়োজক ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ।

নয়া শতাব্দী/এমআর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়