ঢাকা, বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

শুক্রবার যেন তাদের ঈদ 

প্রকাশনার সময়: ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭:০৭

প্রতি শুক্রবার নামাজ শেষে নজিপুর বাসস্ট্যান্ড ধামইর রোডের তৃপ্তি হোটেলের সামনে টেবিল চেয়ারে বসে ২০/৩০ জন মানুষের খাবার খাওয়ার দৃশ্য দেখে মনে হবে এখানে কোন বিয়ের অনুষ্ঠানের খাবার খাওয়ানে হচ্ছে। আসলে তেমন কিছুই নয়, এখানে ভিক্ষুক অসহায় মানুষদের একবেলা পেট ভরে ভাল খাবার খাওয়ান স্থানীয় যুবক সহজ এন্টারপ্রাইজ এর মালিক জিয়াউর রহমান জনি।

প্রতি শুক্রবারের ন্যায় আজ দুপুরেও ২০ জন অসহায় মানুষ টেবিল চেয়ারে বসে মাছ, ডাল, ভাজি দিয়ে আনন্দ উল্লাসে ভাত খাচ্ছেন। তাদের মেহমানদারী করছেন জনি। একবেলা তৃপ্তি সহকারে ভাল খাবার খেয়ে তাদের চোখে মুখে আনন্দের ঝিলক।

খাবার খেতে আসা ষাটোর্ধ্ব রাসেদা বলেন, ‘আমার ছেলেরা আমার দেখাশোনা করে না। স্বামী মারা যাওয়ার পর ১০ থেকে ১২ বছর ধরে মানুষের বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে খাই। ভিক্ষা করে তিন বেলা ঠিকমতো খাবার জোটে না। মাছ-মাংস বছরে একবারও কেনার সামর্থ্য হয় না। আগে তো কোরবানির ঈদে এলে মাংস খাইতাম। কিন্তু এখন প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার এলে আমার কাছে তো ঈদের দিন মনে হয়। এখন প্রতি শুক্রবার এলে দূরে কোথাও না গিয়ে নজিপুর শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করে দুপুরে নজিপুর তৃপ্তি হোটেলে এসে কোনো দিন মাংস ও কোনো দিন মাছ দিয়ে পেট ভরে ভাত খাই। খেতে কোনো টাকা লাগে না।’

খেতে আসা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আব্বাস আলী বলেন, ‘জন্মের পর থেকে আমার দুই চোখ অন্ধ নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসে বাসে ভিক্ষা করি। দুই মেয়ে বিয়ে হয়ে গেছে, ছেলে নাই। ভিক্ষার টাকায় কোনোমতে জীবন বাঁচাই। ভালো-মন্দ খাবার আশা করাই তো দোষের। সপ্তাহে এক দিন এখানে আসি একটু ভালো খাবারের আশায়। জনি ভাই আমাদের খাওয়ান। এর জন্য কোনো টাকা নেন না। আল্লাহ যেন তার ভালো নসিব করে। আমরা সবাই খাই, হোটেল বিল দেন জনি।’

এমন মহতী উদ্যোগের বিষয়ে কথা জিয়াউর রহমান জনির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কোনো প্রচার-প্রচারণা উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, অসহায় ব্যক্তিদের জন্য আমার মন কাঁদে। আমার যেটুকুাে সামর্থ আছে তা থেকেই মানুষকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। বন্যা, করোনা মহামারী, প্রচন্ড শীতে বিভিন্ন দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে ছিলাম। গত এক মাস যাবত অভাবী ও দুঃখী মানুষদের মুখে এভাবে এক বেলা খাবার দিয়ে আসছি। আল্লাহ সামর্থ্য দিলে যত দিন বেঁচে থাকব, তত দিনই এমন মহৎ কাজ করে যেতে চাই। হোটেলে খাওয়ানোর জন্য খরচ বেশী তবে লোক সংখা বাড়লে আলাদা রান্নার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানান, সবাই যদি এগিয়ে আসে তাহলে এই মানুষগুলোর কোন সমস্যা থাকবেনা

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়