ঢাকা, বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

মাধবপুরে সরকারি পুকুর দখলমুক্ত করতে অভিযান

নির্মাণ হবে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে ও পার্ক 
প্রকাশনার সময়: ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:১৩

হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌর বাজারের ভেতরে শত কোটি টাকা মূল্যের সরকারি পুকুর অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে এক্সভেটর ও বিপুল সংখ্যক শ্রমিক নিয়ে উচ্ছেদ চালায়। এ সময় থানা পুলিশ, উপজেলা সার্ভেয়ার মো. শহিদুল ইসলাম, সদর তহসিলদার মো. মঈনুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, মাধবপুর পৌরসভার বাজার প্রতিষ্ঠার সময় কাটিয়ারা মৌজার ১০২৭ দাগে ১ একর ৩১ দশমিক ৮৭ শতাংশ ভূমির ওপর একটি পুকুর খনন করা হয়। পরবর্তীতে পুকুরের চারপাশের মালিকরা আস্তে আস্তে পুকুরের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে বহুতল ভবন ও দোকান ঘর নির্মাণ করে তা মজ্জা পুকুরে পরিণত করে। এবং পুকুরে যাওয়ার রাস্তাগুলো প্রায় বন্ধ করে রাখে। যার ফলে পুকুরটি জনসাধারণের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এমনকি কয়েকবার বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা রাস্তা না থাকায় ওই পুকুরের পানি ব্যবহার করতে পারেনি। বাজারের ব্যবসায়ী সমাজ বিভিন্ন সময় পুকুরটি খননসহ রাস্তাগুলো পুনরুদ্ধার করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তীতে অদৃশ্য কারণে তা থেমে যায়।

বর্তমান বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী এমপির কাছেও ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজ পুকুরটি খননসহ রাস্তাগুলো পুনরুদ্ধার করার জন্য দাবি করেন। বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী পুকুরের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে তা খনন করে জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. মঈনুল ইসলাম মঈন জানান, বর্তমান জেলা প্রশাসক মহোদয় যোগদান করার পর পরই তিনি পুকুরটি পরিদর্শন করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে তা জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে তৈরি করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ দখলদারদের তৈরি করা স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য বার বার আহ্বান করা হয়। কিন্তু তারা এগুলো না সরিয়ে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। ইতোমধ্যেই উচ্ছেদ অভিযান আবারও শুরু হয়েছে। শতভাগ দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুকুরটি খনন, দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে ও পার্ক তৈরি করার জন্য প্রায় ৬০ লাখ টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিউদ্দিন জানান, এক ইঞ্চি সরকারি জায়গাও ছাড় দেওয়া হবে না। যারা অবৈধভাবে দখল করে বহুতল ভবন তৈরি করেছে তাদের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। তা সম্পন্ন না হওয়া পর্যস্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়