ঢাকা | বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

নবীনগরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা

প্রকাশনার সময়: ২৫ নভেম্বর ২০২১, ১৮:৪৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সহিংসতায় মাসুদ মিয়া নামে এক ব্যক্তির হাতের ও পায়ের রগ কেটে নিশংসভাবে খুন করেছে প্রতিপক্ষ। তিনি উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ভিপি মারুফের সমর্থক ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে মাসুদ তার ভাগ্নিকে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে খাগাতুয়া ভোরের বাজারের দিকে যান। পরে চা খাওয়ার সময়, ৩টি সিএনজি যোগে নৌকার সমর্থক অ্যাডভোকেট রব মিয়া, শফিক মিয়া, আলম মিয়া, ফজু ও লিটন মিয়ার নেতৃত্বে একদল যুবক এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মাসুদকে রক্তাক্ত অবস্থায় সিএনজি যোগে উঠিয়ে নিয়ে যায়।

পরে খাগাতুয়া পশ্চিম পাড়া কবরস্থান সংলগ্ন নৌকার নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে দ্বিতীয় দফায় কুপিয়ে তার হাত ও পায়ের রগ কেটে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে গেলে স্থানীয়রা ও পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নবীনগর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকা নেয়ার পথে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাসুদ মারা যান। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে যাওয়ার পরপরই এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাগাতুয়া গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক।

প্রত্যক্ষদর্শী মাসুদের ভাগ্নি শারমিন আক্তার জানান, ‘আমি এবং আমার মায়ের চোখের সামনে অ্যাডভোকেট রব মিয়া, শফিক মিয়া ও আলমসহ কয়েজন সন্ত্রাসী সিএনজি দিয়া আইসা আমার মামাকে কোপায়। পরে সিএনজি দিয়ে তুলে নিয়ে পশ্চিম পাড়া শাকিল মিয়ার নৌকার অফিসের সামনে আবার কুপায়ছে, পরে এই বাজারে অটু রিকশা দিয়া আইন্না ফালাই গেছে। আনারস মার্কার নির্বাচন করার কারণে আমার মামারে খুন করেছে।’

ভিপি মারুফ জানান, আমার জনপ্রিয়তায় ঈশ্বার্ণীত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন বুধবার রাতে মিটিং করে মাসুদের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাকে নিশংসভাবে খুন করেছে। প্রতিপক্ষের লোকজন আমার কর্মী-সমর্থকের উপর বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।

নৌকার প্রার্থী শাকিল বলেন, ‘এই ঘটনার অবশ্যই কঠিন বিচার হওয়া উচিত, কোনো সন্ত্রাসী এবং মাদকসেবীকে আমি আশ্রয়-প্রশ্রয় দেই না। মারামারি কাটাকাটি পছন্দ ও সমর্থন করি না। এইটা তাদের পূর্ব বিরোধের জের ধরে ঘটেছে।’

নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুর রশিদ বলেন, ‘পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল ছিদ্দিক বলেন, ‘এই ঘটনা আমি অবগত হওয়ার সাথে সাথে ওসি এবং সার্কেলকে জানিয়েছি। তদন্ত স্বাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নবীনগরে নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তার কোনো বিকল্প আমরা ভাবছি না।’

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন