ঢাকা | বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

বিলুপ্তির পথে জাতীয় পাখি দোয়েল

প্রকাশনার সময়: ১৬ নভেম্বর ২০২১, ১৬:৫৯

আমাকে একটি দোয়েল বলেছে/এই বন ছেড়ে গেলে গান ভুলে যাবো। এমন সবুজ আর কোথায় আছে/কোথায় পাবো আমাকে- মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান এর গানে দোয়েল পাখির মিষ্টি সুরের কথা বলা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আনাচে-কানাচে, বাড়ির আঙ্গিনায়, উঠোনে, শীমের মাচায় কিংবা লাউ গাছের মাচায়, লেবু তলায় প্রচুর পরিমাণে দোয়েল পাখি দেখা যেত। সকাল বেলায় সূর্য ওঠার সাথে সাথে দোয়েল পাখির সুমধুর শিসে ঘুম ভাঙ্গতো এ অঞ্চলের মানুষের। সবুজ প্রকৃতি জুড়ে ছিল দোয়েল পাখির অবাধ বিচরণ। দোয়েল পাখি ছিল সুরের পাখি। মিষ্টি সুরে মানুষের মনকে বিমোহিত করতো পাখিটা। মাটিতে যখন দোয়েল পাখি নেচে নেচে চলতো দেখতে তখন ভীষণ ভালো লাগতো। দোয়েল পাখির আনাগোনায় প্রকৃতি যেন আরো সৌন্দর্যময় ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতো। দোয়েল পাখি ছিল কৃষকের উপকারী বন্ধু। ফসল বিনষ্টকারী পোকামাকড় ছিল দোয়েল পাখির প্রধান খাদ্য। এ পাখিটি জাতীয় পাখি হিসেবে পরিচিত।কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সেই ইতিহাস- ঐতিহ্যে এবং স্মৃতিতে জড়িয়ে থাকা দোয়েল পাখি বর্তমানে হারিয়ে যাওয়ার পথে।

কিন্তু পরিবেশ দূষণ, নির্বিচারে গাছ কাটা, জমিতে কীটনাশকের অবাধে ব্যবহার, পাখির বিচরণ ক্ষেত্র ও খাদ্য সংকট পাখি বিলুপ্তির কারণ। নতুন প্রজন্মের কাছে অজানা ও অচেনাই রয়ে যাবে এসব পাখি। তবে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে বই-পুস্তক আর জাদুঘরে স্থান পাবে এ পাখির এমন আশংকায় করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের দ্বীপেশ্বর গ্রামের টুনু মুন্সি (১০১) বলেন, এক সময় দোয়েল, ময়না, কোকিলসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির পাখি গ্রামাঞ্চলের বিলে-ঝিলে, ঝোপে-ঝাড়ে, গাছের ডালে, বাগানে কিংবা বাড়ির আঙিনায় আসত। পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙত অনেকের। কিন্তু এখন আর শোনা যায় না পাখির কিচিরমিচির।

টিয়া, ঘুঘু, কাক, মাছরাঙা, ইত্যাদি পাখি বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেলেও জাতীয় পাখি দোয়েল তেমন আর মানুষের চোখে পড়ে না।

পাখি পালনকারী হোসেনপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, দোয়েলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্ম ওই পাখি দেখতে পায় না। বাধ্য হয়ে বাড়িতে বসেই বেশ কিছু প্রজাতির পাখি পালন করেছি। যাতে করে নতুন প্রজন্ম পাখি সম্পর্কে জানতে পারে।

হোসেনপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক নাজমুন নাহার বলেন, ‘যেসব পাখির ডাক ও সুর মানুষকে মুগ্ধ করত, সেই পাখিই হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশেষ করে দোয়েল পাখির এখন আর দেখাই মিলছে না।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আব্দুল মান্নান বলেন, ‘শীত মৌসুমে পাখি শিকারের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে। বন্যপ্রাণী ও পশু-পাখির আবাসস্থলে সামান্য খাদ্যের সংকট রয়েছে। কৃষিতে অবাধে কীটনাশক প্রয়োগে আক্রান্ত পোকা-মাকড় খেয়ে বহু পাখি মারা যায় বলে জানান তিনি।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন