ঢাকা | বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

বাঁশ শিল্পে স্বাবলম্বী মতি মিয়া

প্রকাশনার সময়: ০৭ নভেম্বর ২০২১, ১৫:৪৪
সিলিং কাজে নিয়োজিত মতি মিয়া

লেখা পড়ায় প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্বেও বাবার অভাবের সংসার ও কানে কম শুনতে পাওয়ার কারণে স্কুল ত্যাগ করেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের নিরাহারগাতি গ্রামের মতি মিয়া। বয়স ৬০ছুইছুই।

আর্থিক অস্বচ্ছলতায় কিশোর বয়সে বাবার হাত ধরেই মতি বেছে নেয় বাঁশের তৈরি ঘরের বেড়া, সিলিং, দরমার কাজ। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এ কাজে নিয়োজিত তিনি। এখন বাঁশের তৈরি সিলিং কাজে একজন দক্ষ কারিগর মতি। মাসে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় তার।

বাঁশ দিয়ে ঘরের বেড়া, সিলিং, দরমাসহ নানা জিনিস তৈরি করেন। তবে দুই এক দিন পর পর গ্রামে ঘুরে ঘুরে বাঁশ কিনতে হয় তার। তারপর সেই বাঁশ এনে তার থেকে তৈরি করেন ঘরের বেড়া, সিলিং। তার অধীনে ৬জন শ্রমিক কাজ করেন। তার নিপুণ হাতে আকর্ষনীয় করে তোলেন প্রত্যেকটি কাজ। কাজে বিমোহিত হয়ে দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই ছুটে আসেন তার কাছ থেকে ঘরের সিলিং ক্রয় করতে। এজন্যই তার ব্যস্ততা অনেক বেশি। কানে কম শুনেন তিনি। তাই অনেক সময় মানুষের কথা বুঝতে কষ্ট হয়। তবুও থেমে নেই তার পথচলা।

মতি মিয়া জানান, তার তৈরি ঘরের বেড়া, সিলিং, দরমা স্থানীয়ভাবে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও কিশোরগঞ্জ জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার সৌখিন মানুষেরা ঘরের সিলিং, বাঁশের তৈরি বেড়ার জন্য অগ্রিম বায়না দিয়ে থাকে তার কাছে। একটি মাঝারি ধরনের সিলিং বিক্রি হয় ১৫০০ থেকে ১৮০০টাকায়। এতে তার মাসিক আয় হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এ উপার্জন দিয়ে সে সংসারের খরচ ও পাঁচ ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। মতির দেখাদেখি গ্রামের অনেক বেকার যুবক এ পেশায় এগিয়ে এসেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় মতি মিয়াসহ অনেকেই বিপাকে পড়েছেন।

মতি মিয়ার প্রতিবেশী সুরুজ মিয়া জানান, একজন দক্ষ বাঁশের কারিগর মতি নিজের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করে সমাজে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাইয়ুম খোকন জানান, মতির মতো আরও অনেকেই এ কুটির শিল্প কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তবে সরকারের সামান্য পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা পেলে তারা তাদের ভাগ্য বদলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এহসানুল হক জানান, নিরহারগাতি গ্রামের বাঁশের কারিগর মতির মতো আরও ৩৬ জন কারিগরদের নামের জরিপ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

হোসেনপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো.আবুল কাশেম বলেন, ‘উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বাঁশ-বেতের পণ্য তৈরি করে অনেক পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা এনেছেন। অন্যান্য স্থানেও এই কাজ করে স্বাবলম্বী হতে পারেন সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’ উপজেলায় অনেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে সরকারি ঋণ গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে যদি কারো সরকারি ঋণের প্রয়োজন পড়ে তাহলে যোগাযোগ করার জন্য বলেন তিনি।

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন