ঢাকা | বৃহস্পতিবার ৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৫ জিলহজ ১৪৪২

বেডে ও মেঝেতে জায়গা নেই, গাছতলায় চলছে চিকিৎসা

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশনার সময়: ০৬ জুলাই ২০২১, ২২:১০ | আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ২২:৩৬

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীর যশোরের হাসপাতালে শয্যা অনেক আগেই পূর্ণ হয়ে গেছে। এমনকি জায়গা নেই রুমের মেঝেতেও। হাসপাতালের মধ্যে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় কারো কারো গাছতলায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইয়োল জোন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে রুমের মেঝেতে রেখে অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মেঝে পরিপূর্ণ হওয়ায় পাশে গাছতলায় রাখা হয়েছে করোনার উপসর্গ থাকা একাধিক রোগীকে। সেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডারের মাধ্যমে গুরুতর অসুস্থ বাঘারপাড়া উপজেলার বারবাগ গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী রিনা খাতুনকে (৫৫) চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পাশে থাকা আব্দুল আজিজ জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রিনা খাতুনের অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু বেড নেই, মেঝেতেও জায়গা নেই। এজন্য ইয়োলো জোনের পাশে গাছতলায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শুধু রিনা খাতুনের নয়, ইয়োলো জোনের গেটেও এক নারীকে ভ্যানের উপর রেখে চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ড. আরিফ আহম্মেদ জানান, যশোর জেনারেল হাসাপাতালের কোভিড জোনের শয্যা সংখ্যা ১২৯টি। ৬ জুলাই পর্যন্ত রোগী ভর্তি আছে ২৩৫ জন।

আর সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য কর্মকর্তা ড. রেহেনেওয়াজ জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার ৭৮২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৭৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার প্রায় ৪০ শতাংশ। নতুন করে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ছয় জন করোনা রোগী ছিলেন। বাকি ছয় জনের উপসর্গ ছিল।

এই পরিস্থিতিতে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৯৮টি ও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে ১০০ শয্যার বেড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর চিকিৎসার জন্য ২০ জন ডাক্তার চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামান জানান, রোগীর চাপ বাড়ায় ৪০ টি বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের প্রত্যেকটির ২০টি করে ৪০টি বেড এবং আর মহিলা পেইং ওয়ার্ডের আরো ২৪টি বেড করোনা রোগীর চিকিৎসায় যুক্ত হবে। এভাবে হাসাপাতালটি করোনা ডেডিকেটেড বেড ২১৬ তে উন্নীত করান সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে বেডের ব্যবস্থা করা সম্ভব হলেও ডাক্তার সংকট নিরসন সম্ভব না। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে ৫৫ জন চিকিৎসকের বিপরীতে ৪৩ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। ১২টি পদ শূন্য রয়েছে। এজন্য করোনা ও অন্য রোগীদের চিকিৎসায় ২০ চিকিৎসক চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালককে ৩ জুন চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সরকারি হাসপাতালে শয্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালে ১০০ শয্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শহরের জনতা হাসপাতালে ৩০টি ও ইবনে সিনায় ২০টি করোনা ডেডিকেটেড বেডের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। এছাড়া করোনা রোগীদের জন্য নোভা মেডিকেল সেন্টারে ১৫টি, জেনেসিস হাসপাতালে ১৫টি, আধুনিক ও কুইন্স হাসপাতালে ২০টি বেড সংরক্ষণে রাখা হবে। এসব হাসপাতালে সব মিলিয়ে ১০০টি ‘করোনার শয্যা’ সংরক্ষিত থাকবে।

নয়া শতাব্দী/এমএইচ

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এই পাতার আরও খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x