ঢাকা | বৃহস্পতিবার ৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৫ জিলহজ ১৪৪২

৪০০ বিয়ের ঘটক জামাল এখন লাখপতি

আশরাফ আহমেদ, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :

প্রকাশনার সময়: ০৬ জুলাই ২০২১, ১২:২৩ |

‘পাত্র-পাত্রী যেমনটি চান, ভাবনা কিছুই নাই/ জুটিয়ে দেবেন আনন্দরাম, যেমনটি ঠিক চাই/ আনন্দরাম ভালই জানেন আপন কর্মধারা,/ খুঁতের সাথে খুঁত মিলিয়ে দুইটি হৃদয় জোড়া/ এই ভাবেতে শতশত বিয়ে দিয়ে তিনি/ ঘটক কুলে পরিচিত ঘটক চূড়ামণি।’-‘ছড়ার নায়ক ঘটক আনন্দরাম এর ঘটক, ঘটকালি ও বিয়ে—নিয়ে ঘটকালির প্রচলন আদি যুগ থেকেই ছিল।

তবে দিনমজুর থেকে ঘটকালি করে এখন লাখপতি হয়েছেন মোঃ জামাল উদ্দিন। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হুগলাকান্দী গ্রামে। তার বয়স ৪০।

ছোট থেকেই অন্যের বাড়িতে দিনমজুরি করে বাবার সংসারের হাল ধরেন। দরিদ্রতার কষাঘাতে নিষ্পেষিত সে। প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও লেখা পড়া হয়ে উঠেনি।

কোনমতেই সংসারের অভাব অনটন দূর হচ্ছে না। জামালের বিয়ের পূর্বেই পরিচয় হয় পাকুন্দিয়ার ঘটক বাচ্চু মিয়ার সাথে। খুব সখ্যতা গড়ে ওঠে দুজনের মধ্যে। বাচ্চু মিয়ার সাথে শুরু করে ঘটকালি পেশা। সেই ২০ বছর বয়স থেকেই শুরু হয় তার এ ঘটকালির পেশায় পথ চলা। আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

এ পর্যন্ত ৪০০টি বিয়ে সম্পন্ন করেছেন ঘটক জামাল উদ্দিন। দৈনিক তার দুই থেকে তিন হাজার টাকা উপার্জন। খুবই প্রত্যুষে বাড়ি থেকে বের হয়ে এক পাত্রের বাড়ি থেকে অন্য পাত্রীর বাড়ি কিংবা এক শহর থেকে অন্য শহরে পাত্র- পাত্রীর সন্ধানে ছুটে চলেন। সংসারে তার২ মেয়ে ১ ছেলে।

মেয়ে দুজনকে বিবাহ দিয়েছেন ভালো জায়গায়। একমাত্র ছেলে অনার্স তৃতীয় বর্ষের লেখাপড়া করছে। এই ঘটকালির পেশায় নিয়োজিত থেকে এ পর্যন্ত ১৫ কাঠা জমি ও নিজে থাকার সুন্দর একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন জামাল। এখন সংসারের নেই কোনো অভাব অনটন। আরাম-আয়েসের জন্য ঘরে ফ্রিজ, কালার টিভি সহ বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী রয়েছে।কর্ম ব্যস্ততার দরুন সময় বাচানোর জন্য এখন কিনেছেন একটি মোটরসাইকেল ।

তার ডায়রিতে অনেক পাত্র পাত্রীর বায়োডাটা।বিভিন্ন দূর-দূরান্ত থেকে অভিভাবকরা তার সাথে যোগাযোগ করেন। ফলে ব্যস্ততায় কাটে তার সময় । তার কাছে নাম এন্ট্রি করলে পূর্বেই দিতে হয় কিছু টাকা।

এ পেশা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলে জামাল বললেন, কাজটি মজার। সম্পর্ক গড়ে দেওয়া। কথাবার্তা চালানোর মধ্যে কোনোটি যখন লেগে যায়, তখন আর আনন্দের সীমা থাকে না। বিয়ে পর্যন্তই কাজ, তা কিন্তু নয়। অনেকে পরেও যোগাযোগ রাখেন।

আজকালকার যুগে যখন মুঠোফোনে ডেটিং অ্যাপ পর্যন্ত আছে, ছেলেমেয়েরা হরদম নিজেদের পছন্দে বিয়ে করছেন, সেখানে ঘটকালিটা একটু সেকেলে হয়ে গেল না? জবাবে জামাল বললেন, বিয়ে হলো আল্লাহর কুদরত। এমন অনেক ছেলেমেয়ে আছেন, যাঁরা শুধু লেখাপড়াটাই করেছেন, সম্পর্ক গড়ার সুযোগ পাননি, অনেকে এখনো পরিবারের অমতে বিয়ে করতে চান না।

এখন হাতে তাঁর দুইশত ফাইল বিয়ে হলে পাত্র-পাত্রী উভয় পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। তবে অতিদরিদ্রদের কথা আলাদা। এত বছর ধরে ঘটকালিতে। কীভাবে টিকে আছেন? ঘটক জামাল বললেন, তিনি তিনটি জিনিস মানেন, ১৮ বছরের নিচে বিয়ের সম্বন্ধ করেন না; যে বিয়েতে পাত্রপক্ষ যৌতুক চায়, সে বিয়ে এড়িয়ে যান। আর কখনো কেউ মিথ্যা বললে সম্পর্ক নিয়ে এগোন না। মিথ্যার ওপর সম্পর্ক টেকে না—এই তাঁর বিশ্বাস।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এই পাতার আরও খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x