ঢাকা | শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

তিন বন্ধুর যে কৌশলে ধরা ইকবাল

প্রকাশনার সময়: ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৪৫

নিছক ঘুরতে গিয়ে ‘হিরো’বনে গেছেন নোয়াখালী চৌমুহনী সরকারি এস এ কলেজের তিন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে এই তিন শিক্ষার্থীই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। মেহেদী হাসান মিশু, অনিক রহমান, সাইফুল ইসলাম সাইফ নামের তিন বন্ধু কক্সবাজারের সুগন্ধা সি-পয়েন্টে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সময় কাটাচ্ছিলেন। সাগরের উত্তাল টেউয়ের সঙ্গে মেলাচ্ছিলেন গলা। তিন বন্ধু-সহযোদ্ধার গানে ছোট একটা জটলা তৈরি হয় সাগরপাড়ে। এ জটলায় এসে যোগ দেয় কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রেখে উধাও হওয়া ইকবাল হোসেন।

গান গাওয়ার এক ফাঁকে মেহেদী হাসান মিশুর চোখ আটকে যায় ইকবাল হোসেনের চেহারায়। মাথায় ঘুরতে থাকে কুমিল্লার ঘটনায় ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ। এ পর্যায়ে কৌশলে ইকবালের ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপ করেন নোয়াখালী পুলিশ সুপারকে। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার সেই ছবি ফরোয়ার্ড করেন কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ইকবালকে শনাক্ত করলে নোয়াখালী পুলিশ সুপার ও কক্সবাজার পুলিশ সুপারের পরামর্শে একের পর এক কৌশলে আটকে রাখেন ইকবালকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় নয়া শতাব্দীকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ছাত্রলীগ কর্মী অনিক রহমান।

ওইদিন সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সময়ের অনুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী ও চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের মাস্টার্সের ছাত্র অনিক রহমান দাবি করেন, আমি ও বন্ধু মেহেদী হাসান মিশু এবং সাইফুল ইসলাম সাইফ মিলে ইকবালকে ধরিয়ে দিয়েছি।

ছাত্রলীগের তিন কর্মীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা ও কক্সবাজার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইকবালকে ধরা হয় বলে নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এএসপি শাহ ইমরান। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ কর্মী অনিক ও মিশু আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইকবালের তথ্য দেন। তারা ইকবালকে ধরিয়ে দিতে সহায়তা চান। পরে আমি কুমিল্লা ও কক্সবাজারের পুলিশের সঙ্গে ইকবালকে গ্রেফতারের জন্য যোগাযোগ করি।

ইকবালকে গ্রেফতারের ঘটনা বলতে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী অনিক বলেন, ১৯ অক্টোবর সোমবার রাতে বন্ধু মেহেদী হাসান মিশু ও ঢাকার তিন ব্যবসায়ী বন্ধু রায়হান, মামুন ও হৃদয়সহ পাঁচজন কক্সবাজার বেড়াতে যাই। ২০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে থাকা আরেক বন্ধু সাইফুল ইসলাম সাইফ আমাদের সঙ্গে যোগ দেন। এরপর বিকেল ৪টায় দরিয়ানগরে ঘুরতে বের হই। সেখানে ছয় বন্ধু মিলে সময় কাটাতে গান গাওয়ার সময় ইকবাল পাশে এসে গানে সুর মেলায়।

এসএ কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র এবং ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী হাসান মিশু বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে তারা সুগন্ধা পয়েন্টে গেলে ইকবালের সঙ্গে তাদের আবার দেখা হয়। তখন আমরা তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলি। এক পর্যায়ে সে পালিয়ে যেতে চাইলে, তাকে নাস্তা ও সিগারেট খাইয়ে কৌশলে আটকে রাখি। এ সময় তার নাম জানতে চাইলে, সে ইকবাল বলে জানায়। তখন আমরা কৌশলে তার ছবি তুলি, নোয়াখালীর এএসপির সঙ্গে যোগাযোগ করি ও ছবি পাঠাই।

তিনি আমাদের কুমিল্লার পুলিশ সুপারের মোবাইল নম্বর দেন। এরপর কুমিল্লার পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছবি পাঠাই। তিনি কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টায় পুলিশ এসে ইকবালকে আটক করে নিয়ে যায়।

এর আগে, কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় ১৬ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমের কাছে সরবরাহ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মসজিদ থেকে কীভাবে পবিত্র কোরআন শরিফ নিয়ে বের হয়ে পূজামণ্ডপের দিকে যান এবং মণ্ডপ থেকে হনুমানের গদা হাতে নিয়ে ফেরেন।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন