ঢাকা | শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
প্রেম করে বিয়ে

যৌতুকের বলি মেধাবী শিক্ষার্থী অপি

প্রকাশনার সময়: ১৯ অক্টোবর ২০২১, ২২:১০

প্রেম করে বিয়ের দু’বছর পূর্ণ না হওয়ার আগেই যৌতুকের বলি হলেন মেধাবী শিক্ষার্থী নুরেন রিয়ান তাজপিয়া অপি (১৮)। গত ১১ অক্টোবর তাকে নির্যাতনের পর মারা গেলে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। স্বামী-শশুরবাড়ির লোকজন ক্ষমতাধর হওয়ায় মামলার পরও প্রশাসনিক সহযোগিতা মিলছে না।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীর কচ্ছপিয়া এলাকার নুরুন্নবীর মেয়ে ও কিশলয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের দশম শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী অপি হত্যার বিচার ও হত্যাকারিদের গ্রেফতার এবং ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধনে এসব কথা বলেছেন তার সহপাঠি ও স্বজনরা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্যে বলা হয়, কিশলয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতন থেকে ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন নুরেন রিয়ান তাজপিয়া অপি (১৮)। বছর তিনেক আগে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কুমারী আড়াইমাইল ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার আবদুর রহিমের ছেলে মিরাজের। একপর্যায়ে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে অপিকে ফুঁসলিয়ে তুলে নিয়ে যায় মিরাজ। ঘটনা জানার পর দু’পরিবার বসে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারে। এরপর কিছুদিন সুখে চললেও ব্যবসার কথা বলে ধীরে ধীরে যৌতুকের জন্য চাপাচাপি শুরু করে স্বামী বেকার মিরাজ ও পরিবারের লোকজন। ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবীতে বিভিন্ন সময় অপিকে শারীরিক নির্যাতন করে মিরাজ। পাশাপাশি মানসিকভাবে নির্যাতন করতো তার পরিবারের অন্য সদস্যরা। এ ব্যাপারে বিভিন্ন সময় শালিসি বৈঠক হলেও কোন সমাধান হয়নি। গত ১১ অক্টোবর যৌতুকের টাকা নিয়ে বাড়াবাড়ির একপর্যায়ে অপিকে প্রহার করে স্বামী মিরাজ। সেই প্রহারে বাড়ির অন্যরাও যোগ দেয়। পরে নির্যাতনে মারা গেলে মিরাজের বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে। পুলিশ আসার আগে তাকে আবার নামিয়ে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় অপির ভাই শাহরিয়ার বাদী হয়ে বান্দরবানের লামা থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০২/২১)।

মানববন্ধনে অপির বাবা নুরুন্নবী বলেন, অপি আমার খুবই আদরের মেয়ে। অবুঝ বয়সে মেয়েকে বাগিয়ে বিয়ের পর যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে মেরে ফেলা হলো। এ যন্ত্রণা মেনে নেয়া যায় না। আমার মত আর যেন কোন বাবা’র বুক খালি না হয়। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। স্বামী মিরাজ, তার বাবা মেম্বার রহিমসহ হত্যায় জড়িত সবার ফাঁসি চাই।

মানববন্ধনে কিশলয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতন ২০২০ ব্যাচ এর শিক্ষার্থীরা ‘অপি হত্যার বিচার চাই, খুনী মিরাজের ফাঁসি চাই’, ‘যৌতুকের লোভী থাবায় আমার বোনের লাশ কেন.? বিচার চাই বিচার চাই, এদেশের মাটিতে খুনি পরিবারের ঠাই নাই’সহ নানা শ্লোগান লেখা বিভিন্ন ফেস্টুন হাতে নিয়ে খুনীদের ফাঁসির দাবী তুলেন অপির সহপাঠিরা।

কিশলয় ছাত্র সংসদ এর সভাপতি কাজী সাইফুর রহমানের সভাপত্বিত্বে ও শাহরিয়ার খানের সঞ্চালনায় মানবনবন্ধনে বক্তব্য রাখেন, খুটাখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. তারেক, সাবেক মহিলা মেম্বার রাজিয়া বেগম, ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী ছৈয়দ আলম, বর্তমান সংরক্ষিত ১,২,৩ ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার রাজিয়া, ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার ওয়াসিম আকরাম, খুটাখালী ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক ইমরান হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা রমজান আলী মোরশেদ রায়হান, মামুন, জিয়া হায়দার, জনি চৌধুরী। এতে খুটাখালী কিশলয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের ২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় স্বামী মিরাজের বাবা লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কুমারী আড়াইমাইল ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার আবদুর রহিমের মুঠোফোনে। ফোনে রিং হলেও একাধিক বার কল করার পরও ফোন রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলে, তারও উত্তর করেননি তিনি।

ঘটনার বিষয়ে লামা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, অপি নিজে ফাঁসি খেয়ে মারা গেছেন বলে স্বামীর পরিবার দাবি করলেও পুলিশ তার মরদেহ পেয়েছে চকোরিয়া হাসপাতালে। সেখান থেকে সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় চকোরিয়া থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল স্বামীর বাড়ি লামার ফাসিয়াখালী হওয়ায় লামা থানায় মামলা নথিভূক্ত করা হয়েছে। যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যার পর ফাঁসিতে ঝুলানোর অভিযোগে মামলা করা হয়। আমরা ঘটনার তদন্ত করছি, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর মুল কারণ জানা যাবে। ঘটনার পর থেকে স্বামী মিরাজ ও অন্য অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। তাদের ধরতে অভিযান অব্যহত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওসি মিজান।

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন