ঢাকা | বৃহস্পতিবার ৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৫ জিলহজ ১৪৪২
সিলেটে কোটি মানুষের ভরসা মাত্র ২৯ আইসিইউ

‘স্যার একটি আইসিইউ হবে?’

প্রকাশনার সময়: ০৪ জুলাই ২০২১, ০৯:০১ |
  • কোন হাসপাতালে খালি নেই আইসিইউ
  • সহসা বাড়ছে না আইসিইউ
  • থমকে আছে ওসমানী হাসপাতালের আরও ১০ শয্যার কাজ

সিলেট বিভাগের কোটি মানুষের জন্য সরকারি ভাবে রয়েছে মাত্র ২৯ আইসিইউ বেড। যার ১৬ টি সিলেটের ডা. শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। আর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ আছে আরও ৮ টি। এবং মৌলভীবাজারে রয়েছে মাত্র ৫ আইসিইউ শয্যা। কিন্তু মৌলভীবাজারের এ শয্যাগুলোতে এখনো কেন্দ্র্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা নেই।

অপরদিকে হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ আর ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা হবিগঞ্জে নেই কোন আইসিইউ শয্যা। এমন অবস্থায় সিলেটজুড়ে আইসিইউ’র জন্য চলছে হাহাকার। সেই সাথে আইসিইউ না পেয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। কিন্তু বাড়ছে না আইসিইউ শয্যা। এমনকি বাজেট না থাকায় কাঠামো নির্মাণ হলেও থমকে আছে ওসমানী হাসপাতালেও আরও ১০ শয্যার কাজ।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শামসুদ্দিন হাসপাতালের ১৬ টির মধ্যে দু’টি সার্বক্ষণিক ডায়লাসিসের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও এখন খালি রাখা হয়েছে মাত্র ১ টি। বাকি ১৫ টিতেই রোগী ভর্তি। অপরদিকে ওসমানী হাসপাতালের সকল বেডেই রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। খালি নেই মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আইসিইউ বেড। প্রতিদিন এসব হাসপাতালে আসছে অগণিত ফোন। চাওয়া হচ্ছে করোনা রোগীর জন্য আইসিইউ বেড।

সিলেটের শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আরএমও মিজানুর রহমান নয়া শতাব্দীকে বলেন, গেলো প্রায় ১৫ দিন থেকেই আমাদের এখানে কোন আইসিইউ বেড খালি নেই। এমনকি সিলেটের কোথাও খালি আছে বলেও আমার জানা নেই। প্রতিদিন আমাদের কাছে অসংখ্য কল আসছে আইসিইউর জন্য। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল থেকেও ফোন দিয়ে চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা পারছি না। প্রতিদিন বিভিন্ন জন কল করে জানতে চাচ্ছেন, স্যার একটি আইসিইউ বেড হবে কি। অথচ আমাদের ওয়ার্ডে যারা ভর্তি তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে ৫ জনের আইসিইউ লাগে। তাদেরকেই দিতে পারছি না। আসলে আমরা অসহায়। কারণ আমাদের এখানে দু’টি বেড সার্বক্ষণিক ডায়লাসিসের জন্য খালি রাখতে হলেও এখন চাপ বাড়ায় মাত্র একটি বেড ডায়লাসিসের জন্য রেখে বাকি ১৫ টিতেই রোগী ভর্তি। এদের মধ্যে কেউ উন্নতি করলে অথবা মারা গেলে তবেই অন্যজন সুযোগ পাচ্ছেন।

এদিকে সরকারি হাসপাতালের এসব আইসিইউর বাইরেও সিলেট নগরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য কিছু আইসিইউ বেড রয়েছে। এরমধ্যে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য ১৮ টি, মাউন্ড এডোরা হাসপাতালে ৯ টি ও নুরজাহান হাসপাতালে আরও ১১ টি আইসিইউ বেড রয়েছে। তবে এসব হাসপাতালে আইসিইউ বেডে রোগী ভর্তি করলে গুনতে হয় লাখ লাখ টাকা। যা মানুষের সামর্থ্যের চেয়েও দ্বিগুণ। তাছাড়া এখন এগুলোতেও শয্যা খালি নেই।

তবে সিলেটে আইসিইউ সংকট নিরসনে এতদিন কিছুটা আশার খবর থাকলেও সংকটকালে এসে শুনা গেলো হতাশার খবর। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এতদিন আরও ১০ বেড আইসিইউ বাড়ার কথা জানানো হলেও এবার নানা কারণে তা থমকে থাকার সংবাদ জানালেন হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়। তিনি নয়া শতাব্দীকে বলেন, আরও ১০ শয্যার একটি আইসিইউ ইউনিট প্রস্তুত করা হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগ থেকে এটার কাঠামোগত কাজ হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র্রীয় অক্সিজেন বা যন্ত্রাংশের বাজেট না থাকায় তা এখন হচ্ছে না।

অপরদিকে আইসিইউ’র চেয়ে অক্সিজেন বেশি জরুরি বলে মন্তব্য করলেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম। সংকট বিবেচনায় আইসিইউ বাড়ানোর কোন প্রস্তুতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইসিইউ চাইলেই রাতারাতি বাড়ানোর যাবে না। তবে আইসিইউ’র চেয়ে অক্সিজেন জরুরি। সেটি সিলেটে পর্যাপ্ত আছে।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এই পাতার আরও খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x