ঢাকা | শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮

‘লাখপতি ফাঁদে’ ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও এনজিও

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশনার সময়: ১৩ অক্টোবর ২০২১, ২২:৩৮

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর বাজারে বেস্টওয়ে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি (বিএমসি এন্টারপ্রাইজ) নামের এক এনজিওর মালিকের বিরুদ্ধে গ্রাহকের ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক মাওলানা মো. আফজাল হোসেন (৪১) ওই এলাকার মাধবপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইয়াকুব মেম্বারের ছেলে।

জানা গেছে, গ্রাহকেরা তাদের আমানতের টাকা ফেরত চাইলে গড়িমসি করতে থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে চাপের মুখে গত শনিবার এলাকাছাড়া হন আফজাল। এরপর থেকে বিএমসি এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে তালাবদ্ধ।

স্থানীয়রা জানান, ২০১২ সালে মাইক্রো ক্রেডিট অথরিটির নিবন্ধনে চান্দহর বাজারে মজিবর রহমানের বিল্ডিং ভাড়া করে বিএমসি এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন আফজাল।

এরপর এলাকাবাসীকে মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেন। আর তা দিয়েই তিনি নিজের মালিকানায় গড়ে তোলেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এগুলো হচ্ছে- ঢাকাতে বালাদ মেটাল, সাভারে শেফা হোমিও হল, বালাদ বেকারি, মানিকনগরে বালাদ ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসা, মাধবপুরে ইকরা আধুনিক উচ্চ বিদ্যালয়, চান্দহরে শেফা ফার্মেসি, বালাদ মুদি স্টোর ও গার্মেন্ট ব্যবসায়।

বুধবার সরেজমিন চান্দহর বাজারে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। ভুক্তভোগী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি দেড় বছর আগে লাখ প্রতি মাসিক ১ হাজার টাকা লাভে বিএমসিতে ৫ লাখ টাকা রেখেছিলেন। দুই-তিন কিস্তিতে লাভের টাকা পেয়েছেন। কিন্তু ছয় মাস যাবৎ লাভ তো দূরের কথা, মূল টাকাও পাচ্ছেন না। তিনি আরো বলেন, আমরা স্থানীয়ভাবেও কয়েকজন মিলে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে রেখেছিলাম। ওই টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আমাদের মতো অনেকেই লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত জমা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

অপর গ্রাহক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার পরিবারের কষ্টার্জিত প্রায় দেড় লাখ টাকা ওই প্রতিষ্ঠানে জমা রেখেছি। মালিকের গা-ঢাকা দেয়ার খবর শুনে আমাদের হতাশায় দিন কাটছে। তার (আফজাল) ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে এলাকায় ফিরে টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এলাকায় ফিরছেন না তিনি। অফিস সংলগ্ন বাড়ির জনৈক হবি মিয়ার কন্যাও ওই প্রতিষ্ঠানে তাদের টাকা জমা রাখার কথা স্বীকার করেন। গ্রাহকরা তাদের কষ্টার্জিত আমানতের টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযুক্ত বিএমসি এন্টারপ্রাইজের মালিক মাওলানা মো. আফজাল হোসেন গ্রাহকদের আমানতের ৭ কোটি টাকা জমা রাখার কথা স্বীকার করে বলেন, করোনাকালীন ব্যবসায়িক ধসের কারণে এরকম অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায় বিনিয়োগসহ সব মিলিয়ে এখনো ৪ কোটি টাকার উপরে সম্পদ আছে। আমি আস্তে আস্তে গ্রাহকদের আমানতের পুরো টাকা পরিশোধ করে দেব।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা সমবায় অফিসার আখিনুর ইয়াসমিন বলেন, আমার জানামতে বিএমসিএস নামের কোনো প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নেই এবং আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতিও নেয়নি।

নয়া শতাব্দী/এম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন