ঢাকা | শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮

সিলেটে সম্প্রীতির এক ভোর

প্রকাশনার সময়: ১৩ অক্টোবর ২০২১, ২০:২১

মঙ্গলবার ভোর। তখনো সপ্তমী পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়নি। কেবল পূর্ব আকাশে সৌর্যের আলো ফুটেছে। এমন সময় সিলেটের রামকৃষ্ণ মিশনে প্রবেশ করলেন সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা ও মাথায় টুপি পরিহিত দুজন লোক। মুখ ভর্তি দাঁড়ি। দুইজনেরই বয়স পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব। পায়ের জুতা খুলে খালি পায়ে কিছুসময় দাঁড়ালেন দুর্গা দেবির সামনে। মিনিট পাঁচেক সময় দুর্গামূর্তি দর্শন শেষে ফের বেরিয়ে গেলেন। দেখে স্বাভাবিক ভাবেই বুঝা যায় কোন মাদ্রাসা শিক্ষক কিংবা মসজিদের ইমাম। দাঁড়ানো বা দর্শনের ভঙ্গিমাতেও অনেকটা শ্রদ্ধার চিত্রই দেখা গেছে। তাইতো এটিকে সম্প্রীতি হিসেবেই মূল্যায়ন করলেন আয়োজকবৃন্দ।

রামকৃষ্ণ মিশনের সহ-সভাপতি দিবাকর ধর রাম এটিকে সম্প্রীতির অন্যান্য উদাহরণ উল্লেখ কবে বলেন, সিলেটে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অনেক ভালো। আমাদের এখানে সকল ধর্মের লোকই আসেন। এটা সিলেটের জন্য মঙ্গল। দেশের অন্য জায়গার জন্য এটি অনুকরণীয়।

অপরদিকে পূজা দেখতে আসা দুইজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, ফজরের নামাজ শেষে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। প্রতিদিনকার মত রামকৃষ্ণ মিশনের সামন দিয়ে হেঁটে যাওয়ার পথে ভেতরে পূজার আয়োজন দেখে প্রবেশ করলেন। দুইজনের ইচ্ছা পূজার আনুষ্ঠানিকতা দেখা। তবে নাম পরিচয় জানতে চাইলে আর কথা বলতে রাজি হননি তারা দুজন।

অবশ্য সিলেটে ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সম্প্রীতির এমন দৃশ্য বরাবরই নজর কাড়ে। রাজনৈতিক মাঠের প্রতিপক্ষরাও এসে এক হন বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সিলেটের মানুষ এক হয়েই পালন করেন উৎসব।

আর এজন্যই হয়ত কবি নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘মিথ্যা শুনিনি ভাই/এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোন মন্দির-কাবা নাই’

তবে কবির এ সাম্যের গানে প্রায়ই টান পড়ে দেশের বিভিন্ন জায়গার সাম্প্রদায়িক দাংগা। যে দাংগা দূর করতে মিলেমিশে থাকার বার্তাই দিয়েছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

অবশ্য দেশের যেখানে যেমন হোক সিলেটে ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বরাবরই নজর কাড়ে বলে জানালেন সিলেট মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত।

তিনি বলেন, আমাদের সিলেটের মানুষ বরাবরই সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। পূজা আসলে সকল ধর্মের লোকজনই মণ্ডপ পরিদর্শনে আসেন। আবার কেউ কেউ দেখা যায় পূজার সময় নানা ভাবে ত্যাগ করেন। কারণ পূজা আসলে দেখবেন শহরে অনেক যানজট হয়। বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় পূজা থাকায় মানুষের চলাচলে অনেক কষ্ট হয়। কিন্তু সকল ধর্মের মানুষ এই কষ্টটা মেনে নিয়ে চলাচল করে। সুতরাং সিলেটের মানুষ বরাবরই সহমর্মিতা ও সহাবস্থানে থেকে উৎসব পালন করে।

পূজা উদযাপন পরিষদের সাথে কথা বলে জানা যায় সিলেট নগরে ৬৬ টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হচ্ছে। সকল মণ্ডপকেই সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। এসব মণ্ডপে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের মানুষের ব্যাপক আনাগোনাও দেখা গেছে।

সিলেটের এ সম্প্রীতির ব্যাপারে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সিলেটে সম্প্রীতির উদাহরণ আছে। আবার মাঝেমধ্যে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাও ঘটে। তবে কিছু মানুষ থাকেই যারা অপকর্ম করে দাংগা লাগিয়ে রাখতে চায়। তা না হলে সিলেটের মানুষ বরাবরই ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। আর সকলে সহমর্মিতা বজায় রেখে চলার মধ্যদিয়ে সুন্দর আগামী গড়া সম্ভব বলেও বিশ্বাস করেন তিনি।

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন