ঢাকা | শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮

ঝাঁজ দেখাচ্ছে পেঁয়াজ

তামীম রহমান, চট্টগ্রাম
প্রকাশনার সময়: ০৯ অক্টোবর ২০২১, ০৭:০৮
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের সর্বত্র পেঁয়াজের দামে ঊর্ধ্বগতি। পেঁয়াজ নিয়ে বাজারে এক রকম অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারো পেঁয়াজের দামে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এতে ক্রেতাসাধারণ ও ভোক্তা পর্যায়ে সকলের মাঝে অসন্তোষ ও চাপা ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে।

ক্রেতাসাধারণের অনেকেই এতে প্রশাসনের গাফিলতি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ততাকে দায়ী করছেন। অন্যদিকে দাম বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এক দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ।

গত সপ্তাহে খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৩৫-৪০ টাকায়। চলতি সপ্তাহে তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে পেঁয়াজ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মজুদ থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ কেন পেঁয়াজের দাম বাড়ছে তার কোনো সদুত্তর নেই ব্যবসায়ীদের কাছে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, প্রতি বছর দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় তা দিয়ে চাহিদা মেটে না। চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানি করতে হয়। ভারতে বিভিন্ন প্রদেশে অতিবৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন কম হয়েছে। এতে বুকিং রেট বাড়ায় দেশে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেশি পড়ছে।

বৃহস্পতি ও শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যের বৃহত্তম বাজার খাতুনগঞ্জের পাইকারি আড়তে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৫৩-৫৫ টাকায়, মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকা আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৮ টাকায়। যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকায়। তবে ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর অজুহাত মানতে নারাজ কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র বলেছে, প্রতি বছর দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২৮ লাখ টন। যার মধ্যে দেশে উৎপাদন হচ্ছে ৩৩ লাখ টন। সংরক্ষণের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হলেও বাকি থাকে ২৩ লাখ টন। আর প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। ফলে চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ সবসময় উদ্বৃত্ত থাকে।

তাই হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। সূত্র জানায়, ভারত, মিয়ানমারসহ অন্যান্য যেসব দেশ থেকে বাংলাদেশ পেঁয়াজ আমদানি করে থাকে, সেসব দেশ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করেনি। এছাড়া বড় কোনো সমস্যাও নেই। তাহলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ কেন ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়বে? এটা সিন্ডিকেটের কারসাজি ছাড়া কিছুই না বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পেঁয়াজ আমদানিকারকরা বলছেন, ভারতে বন্যার কারণে ফসল নষ্ট হয়েছে। ফলে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ভারতে। এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে। এদিকে নগরীর রিয়াজুদ্দিন বাজার, বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার, চকবাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৭০ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

যেখানে এক সপ্তাহ আগে তা বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। পেঁয়াজের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা। কেউ কেউ আবার বিক্রেতার সঙ্গে জড়াচ্ছেন বাকবিত-ায়। কথা হয় চকবাজার এলাকায় বাজার করতে আসা মো. সেলিম নামে এক কর্মজীবী ক্রেতার সাথে। তিনি বলেন, চাল, চিনি, তেলের পর এবার দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। বাজারের দাম অনুযায়ী আমাদের বেতন তো আর বাড়ছে না। সামনে যে পরিস্থিতি আসছে আমাদের তো খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকায় কথা হয় বোরহান উদ্দীন নামে আরেক ক্রেতার সঙ্গে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে একটির পর একটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। এসব দেখার কি কেউ নেই? এভাবে সাধারণ মানুষদের পকেট কাটার মানে কি? আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি দয়া করে যেন তারা দ্রুত দাম কমাতে ব্যবস্থা নেয়। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গত এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের ৪৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ ও আমদানি করা পেঁয়াজের ২৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ দাম বেড়েছে।

নয়া শতাব্দী/এমআর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন