ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ৫ কার্তিক ১৪২৮

বালিয়াকান্দিতে হেলে পড়েছে সেতু, দুর্ভোগে স্থানীয়রা

মোঃ আজমল হোসেন, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশনার সময়: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:২৮ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৩৬

রাজবাড়ী সদর উপজেলার সাথে বালিয়াকান্দি উপজেলার কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগের মাধ্যম সড়কের নির্মাণকৃত ত্রাণের সেতু হেলে পড়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তর সুত্রে জানাগেছে, বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের সাঙ্গুরা-রতনদিয়া সড়কের কেদার হালটে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট কর্মসূচি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ১৭ লক্ষ ৯৩ হাজার ৬৭৯ টাকা ব্যায়ে ২২ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। কাজটি করেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হাকিম সাধণের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিএম ট্রেডার্স।

সাঙ্গুরা গ্রামের বিষ্ণু শেখ, মফিজুল মিয়া, মোস্তাফিজুর রহমান, ওবায়দুল শেখ, কামাল হোসেন, রোকন মিয়া বলেন, জামালপুর ইউনিয়নের সাঙ্গুরা, নলিয়া, সন্ধ্যা, নটাপাড়া, রতনদিয়া, রাজবাড়ী সদর উপজেলার কোলারহাট, সায়েস্তাপুর, উদয়পুর, মুচিদাহ গ্রামের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম এ সড়কটি। ইতিপুর্বে কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও পানির চাপের কারণে তা ভেঙ্গে যায়। পরে এখানে ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। ব্রীজ নির্মাণের শুরুতেই নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় ওই বছরই ফাটল দেখা দেওয়াসহ ব্রীজের নিজ থেকে বালু সরে যায়। এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলে ব্রীজের দু’পাশের সংযোগ সড়কটি পানির চাপে ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেই সাথে ব্রীজটি হেলে পড়ে। পানি থাকাকালীন সময়ে এ এলাকার মানুষের দুই সেট পোশাক নিয়ে বের হতে হয়। একসেট দিয়ে ভিজে সাতরিয়ে সড়ক পারাপার করতে হয়। এতে করে পথচারীসহ সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দুভোর্গে পড়তে হচ্ছে হাজারও মানুষকে।

তারা আরও বলেন, ব্রীজটির সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে ও হেলে পড়ার ফলে শত শত হেক্টর জমির ফসল প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে বাড়ীতে তুলতে হবে। সাঙ্গুরা নিম্নাঞ্চল ও কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় হাজারও কৃষকের ঘরে ফসল তোলার একমাত্র পথ এটি। রাস্তা ও ব্রিজটির এমন হাল হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের।

স্থানীয় কৃষকরা আরও বলেন, ‘এ মাঠে পিয়াজ, রসুন, ধান, পাটের ব্যাপক আবাদ হয়। ব্রীজটির সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় ও হেলে পড়ার কারণে হিসেবে বলেছেন ব্রীজটি নির্মাণ করা মোটেও সঠিক হয়নি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের টাকাটা এমনি দিয়ে দিলেই ভালো হতো। নৌকা পারাপারের মাধ্যমে যাতায়াত করা সম্ভব হতো।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা বলেন, আমি যোগদানের আগেই ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। তবে ব্রীজের ফাটল দেখা দেওয়াসহ হেলে পড়ার বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিএম ট্রেডার্সের জামানত ফেরত বন্ধ করা হয়েছে। জনসাধারণের চলাচলের লক্ষে নতুন করে ব্রীজ নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, নির্মাণের এক বছর পরই ‘ব্রিজটিতে ক্রুটি দেখা দেয়। এখন হেলে পড়েছে। তবে এবারের বর্ষার পানির বৃদ্ধির পরই ব্রিজটি একবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে।’

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন