ঢাকা | শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২ আশ্বিন ১৪২৮

বিলের পর বিল শুধু লাল-সবুজের সমারোহ

মোজাম্মেল মুন্না, গোপালগঞ্জ ব্যুরো

প্রকাশনার সময়

১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:০৩

যতদূর চোখ যায় তত দূর শুধু লালের সমাহার। চারিদিকে শুধু লাল আর লাল। এ যেন বিস্তীর্ণ সবুজের মাঝে লাল গালিচা বিছানো। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়, এ দৃশ্য দেখলে মনে হবে দেশের ভিতর আরেকটি বাংলাদেশ।

এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দুর-দুরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন। তারা উপভোগ করেন প্রাকৃতিক এ অপার সৌন্দর্য। অনেকে ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় ঘুরে লাল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করেন। কেউ কেউ ছবি তোলার জন্যও আসেন। এ দৃষ্টি নন্দন দৃশ্য ক্যামেরায় বন্দি করে আনন্দ উপভোগ করেন।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার শতকরা ৮০ভাগ জমি বছরের ৬/৭ মাস পানির নিচে ডুবে থাকে। এসব জমি সাধারনত এক ফসলি। এখানে বোরো মৌসুমেই শুধুমাত্র ধান চাষ করা হয়। ধান কাটতে কাটতে জমিতে বর্ষার পানি ঢুকে পড়ে। বিগত ১৯৮৮ সালের বন্যার পর থেকে অল্প অল্প করে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় লাল শাপলা। এই লাল শাপলা ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে। এখন বিলের অধিকাংশ এলাকা জুড়ে জন্ম নেয় লাল শাপলা। আগে এসব বিলের জমিতে সাদা, নীল ও সবুজ শাপলা জন্ম নিত।

এ শাপলা একদিকে যেমন বিলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে, আবার এলাকার খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষ তা বাজারে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে থাকেন। অনেকে এ শাপলা সবজি হিসেবে খেয়ে থাকেন। কেউ কেউ আবার আশপাশের জেলায় নিয়ে বিক্রি করেন। এ শাপলায় প্রচুর পরিমান আয়রন ও সিলিকন রয়েছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের এ শাপলা খাওয়ানো হয়ে থাকে। এতে তাদের শরীরে আয়রণের ঘাটতি পূরণ হয় বলে জানাগেছে।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জোয়ারিয়া, পাথরঘাটা, মিত্রডাঙ্গা, সোনাশুর, বালাডাঙ্গা, তাড়াইল ও কোটালীপাড়া উপজেলার ছত্রকান্দা, কুরপালা, কান্দি, নয়াকান্দি বিলের শত শত হেক্টর জমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় এই লাল শাপলা। হঠাৎ দেখলে মনে হবে কোন গায়ের নববধু লাল শাড়ি পরে সারিবদ্ধভাবে কোন উৎসবে যাচ্ছে বা বাবার বাড়িতে আসছে।

কোটালীপাড়া উপজেলার ছত্রকান্দা গ্রামের চিন্ময় বাকচী ও জাহাঙ্গীর কাজীর সাথে কথা হলে তারা বলেন, ‘আমাগে এলাকায় এটা রক্ত (লাল) শাপলা নামে সবাই চেনে। শাপলা দেখতি গোপালগঞ্জ জেলাসহ আশপাশের জেলা থেকে অনেক মানুষ এহানে আসেন। তারা ছোট ছোট নৌকা নিয়ে এসব বিলে ঘুরে অনেক আনন্দ করেন।’

তিনিআরও বলেন, আগে কোটালীপাড়া ও টুঙ্গীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন বিলে প্রাকৃতিকভাবে সাদা শাপলা জন্মাতো। কিন্তুু ৮৮ সালে বন্যা হবার পর থেকে আমাগো বিলে প্রাকৃতিকভাবে লাল শাপলা জন্মানো শুরু হয়। বর্ষা মৌসুমে আষাঢ় মাস থেকে অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত পুরা বিলে রক্ত শাপলা ভরে থাকে।

কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ বলেন, ‘কোটালীপাড়ার বিলগুলোতে সবুজের মাঝে লাল শাপলা ফুটে থাকে। দেখলে মনে হয় এ যেন প্রাকৃতিক পতাকা। এই দৃশ্য দেখতে শুধু গোপালগঞ্জের মানুষ নয়, ঢাকাসহ আশ পাশের জেলা থেকেও ভ্রমণ পিপাষুরা আসেন এখানে। তাদের স্থানীয়রা নৌকা দিয়ে সাহায্য সহযোগীতা করে থাকে।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী বলেন, ‘লাল শাপলা একটি উপাদেয় সবজি। এই শাপলায় অনেক প্রোটিন আছে। এলাকাসহ আশপাশ জেলার মানুষ এই শাপলা খেয়ে খাকে। জেলার কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন বিলে এ শাপলা জন্ম নিয়ে থাকে। এতে প্রচুর পরিমান আয়রন, সিলিকন ও আয়োডিন রয়েছে। যা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। পাশাপাশি বিলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও ব্যাপক ভূমিকা রাখেছে।’

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x