ঢাকা | সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ আশ্বিন ১৪২৮

সাগরে বিলীনের পথে কুয়াকাটা পর্যটন পার্ক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশনার সময়

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:১৪

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ভাঙন যেন কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। সমুদ্র উত্তাল হলেই নোনা পানি পৌঁছে যায় কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট যে কোনো নিম্নচাপ আকস্মিক আঘাত হানতে পারে কুয়াকাটা সৈকতের একমাত্র ট্যুরিজম পার্কে। ২০১৮ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. মো. মাছুমুর রহমান এই পার্কের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন এবং ২০২০ সালের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী এটির উদ্বোধন করেন। এতে ব্যয় হয় কোটি টাকার বেশি। কুয়াকাটায় নির্মিত একমাত্র পর্যটন পার্কটিতে ওয়াশ জোন, বিশ্রামাগার, ক্যান্টিনসহ সব ধরনের সুবিধা রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে বাউন্ডারি।

কুয়াকাটার জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়েও নজর কাড়ে এই পার্কটি। ক্রমাগত প্রকৃতির ধ্বংসলীলায় কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের সকল সৌন্দর্য আজ হুমকির মুখে। সমুদ্রের কোলঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে ট্যুরিজম পার্কটি। গত ২৫ মে উপকূলে আঘাত হানা ইয়াসের প্রভাবে ল-ভ- হয়েছে কুয়াকাটা সৈকত। যাতে কিছুট সৌন্দর্য হারিয়েছে সৈকতের পাশে থাকা মানবসৃষ্ট পর্যটন পার্কটি।

কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের সেবা বাড়াতে পর্যটন পার্ক করা হয়েছে। কিন্তু সেটি এখন ভাঙনের মুখে। পার্কটি রক্ষায় দ্রুত উদ্যোগ না নিলে সৌন্দর্য হারাবে কুয়াকাটা। কারণ অগণিত দুর্যোগে কুয়াকাটার অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ বিলীন হয়েছে। বাকিগুলো রক্ষা করা দরকার।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, কুয়াকাটার পর্যটন পার্কটির ব্যাপারে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কুয়াকাটা সমুদসৈকত রক্ষায় জিও টিউবের ব্যবহার শুরু করেছেন। হয়তো পর্যটন পার্কটি রক্ষার ব্যবস্থাও করা হবে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন নয়া শতাব্দীকে জানান, পার্কটি এখন ভাঙনের মুখে। তবে পাউবো ভাঙন ঠেকাতে শিগগির উদ্যোগ নেবে। জরুরিভাবে ভাঙন রক্ষা করতে জিও টিউব ও জিও ব্যাগের ব্যবহার করা হয়েছে। তবে শুধু পর্যটন পার্ক নয়, স্থায়ীভাবে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত রক্ষায় আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে বিস্তারিত জানিয়েছি। এ ব্যাপারে একনেকে প্রধানমন্ত্রী প্রজেক্টটি অনুমোদন দিলে কাজ শুরু হয়ে যাবে। তবে করোনার কারণে দুটি বছর আমরা পিছিয়ে গেছি। বাংলাদেশে কক্সবাজার ও কুয়াকাটা দুটি সমুদ্র সৈকত রয়েছে। যার মধ্যে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত ঢাকা থেকে কাছাকাছি হওয়ায় এর গুরুত্ব অনেক বেশি। কুয়াকাটা সৈকত স্থায়ীভাবে রক্ষার জন্য যে পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে তাতে সমুদ্রের ভাঙন বন্ধ হয়ে সমুদ্রসৈকত ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করবে। তবে সৈকতটির স্থায়ী ভাঙন রক্ষার কাজ শুরু হতে কিছুটা দেরি হতে পারে। আর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত স্থায়ীভাবে শুরু হয়ে গেলে পর্যটন পার্ক ও সব স্থাপনা রক্ষা পাবে।

নয়া শতাব্দী/এমআর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x