ঢাকা | রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

ভূতিয়ার বিলে ফোটেনি পদ্ম, নেই পর্যটক

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, খুলনা

প্রকাশনার সময়

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:১২

খুলনার তেরখাদা উপজেলার ভূতিয়ার বিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে অধিক পরিচিতি পেয়েছে নয়নজুড়ানো পদ্ম ফুলের কারণে। প্রতি বছরই পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রচুর দর্শনার্থীর আগমন ঘটে এ বিলে। কয়েক বছর ধরেই এ বিল কাছে টেনেছে ভ্রমণপিপাসুদের। পদ্মবিল সুনাম বাড়িয়েছে তেরখাদারও।

কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। ফোটেনি পদ্ম ফুল। এ কারণে পর্যটকও আসেনি এ বিলে। কারণ, বেড়িবাঁধ ভেঙে বিলে নোনা পানি প্রবেশ করায় দৃশ্যপট বদলে গেছে।

ভূতিয়ার বিলের হৃদয় বিমোহিত করা পদ্ম ফুল কাছে টানত দূর-দূরান্তের পর্যটকদের। করোনা পরিস্থিতিতে সব বিনোদন স্পট যখন বন্ধ ছিল, তখনও মুক্ত বাতাসের স্বাদ নিতে তেরখাদার পদ্মবিলে যাওয়ার জন্য উন্মুখ ছিল সকলেই; তবে বেড়িবাঁধ ভেঙে নোনা পানি প্রবেশ করায় এবার ফোটেনি পদ্ম ফুল। ফলে এবার আসেনি মাঝিদের সচ্ছলতা আর জমেনি মৌসুমি ব্যবসায়ীদের পসরাও।

খুলনার তেরখাদা উপজেলার ভূতিয়ার বিলে মনোরম পরিবেশে মুগ্ধ হয়ে প্রতিবছর গণমাধ্যমকর্মীরাও ছুটে আসতেন সচিত্র প্রতিবেদন করতে। এবার আসেননি তারাও। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক ভ্রমণপ্রেমী এখানে বেড়াতে আসতেন। পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য তাদের স্বাগত জানাত। ভূতিয়ার বিলে প্রতি বছরের বর্ষার ন্যায় এবার পদ্ম ফুল ফোটেনি। এর মাধ্যমে মৌসুমি কর্মসংস্থানও চাঙ্গা হয়ে ওঠেনি।

এদিকে, ভ্রমণপিপাসুদের অনুপস্থিতিতে নৌকার কদর ভুলতে বসেছে সবাই। বিলে পদ্ম ফুলের পুরো অংশ নৌকায় করে দেখতে ২০০-৫০০ টাকা গুনতে হতো পর্যটকদের। আর এ অর্থে সচ্ছল হয়ে উঠত শ’খানেক নৌকার মাঝি পরিবারের। নৌকার মাঝি শিপলু চৌধুরী, আবুল কালাম শেখ, মনু শেখ ও তাজমুল চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন মাঝি বলেন, আগের বছরগুলোতে এ সময়ে নৌকা নিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতাম। যা আয় হতো তা দিয়ে বেশ ভালোই চলত। এবার এখন পর্যন্ত ফুল ফোটেনি, তাই পর্যটকরাও আসেনি। আমাদেরও আয়-ইনকাম নেই। এ বিষয়ে তেরখাদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ভূতিয়ার বিলের আয়তন প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর। এর মধ্যে মাত্র ৪০-৫০ হেক্টর জমিতে পদ্ম ফুল ফুটত। বাকিটুকু শ্যাওলা ও আগাছায় ভরা। তিনি আরো বলেন, গত ২৭ মে চিত্রা নদীর মসুন্দিয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ভূতিয়ার বিলসহ কয়েকটি বিল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। লবণাক্ত পানিতে প্রায় ২৭শ’ হেক্টর জমির বোনা আউশ-আমন ধান নষ্ট হয়ে যায়। লবণ পানির কারণে এবার পদ্ম ফুল এবার আর ফোটেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূতিয়ার বিলে পদ্ম ফুলের নতুন কুঁড়ি দেখা দিয়েছে, ফুল হয়তো ফুটবে। তবে তখন আর ভ্রমণ পিপাসুরা আসবে কিনা, সে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে মাঝিদের মনে।

নয়া শতাব্দী/এমআর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x