ঢাকা | সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮

মটর চালক লীগের কমিটি অনুমোদন দিলেন বিএনপি নেতা  

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশনার সময়

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:০১

ফরিদপুরের নগরকান্দায় উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ফিরোজ খানের বিরুদ্ধে নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী মটর চালক লীগের কমিটি অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির পদধারী নেতা হয়েও আওয়ামীলীগের কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা সমালোচনা ও বিরুপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত নেতাকর্মীদের একাংশ। ঘোষিত কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে ফিরোজ খান ও শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর নামও রয়েছে।

এছাড়া ফিরোজ খান পদধারি বিএনপি নেতা হয়েও আওয়ামী লীগের পদ ব্যবহার করে এলাকায় পোস্টার, বিলবোর্ড টানানোর ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভুয়া পদ ব্যবহার করে রাতারাতি তিনি আওয়ামী লীগ নেতা সেজে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা মটর চালকলীগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই ফরিদপুর জেলা আওয়ামী মটর চালকলীগের সভাপতি রুহুল আমিন তালুকদার (খোকন) সাধারণ সম্পাদক মাসুদ মাতুব্বর ও সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার স্বাক্ষরীত প্যাডে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট নগরকান্দা উপজেলা মটর চালকলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ঘোষিত ওই কমিটির সভাপতি গুলজার হাসান ও সাধারন সম্পাদক করা হয় হানিফ পাটোয়ারীকে। তবে জেলা কমিটির স্বাক্ষরীত প্যাডে নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ফিরোজ খান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেনকেও অনুমোদন দিতে দেখা যায়। বিপত্তি ঘটে এখানেই। ফিরোজ খান উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা হয়েও কিভাবে আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠনের কমিটি অনুমোদন দিলেন এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে। অপরদিকে বেলায়েত হোসেন মিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হয়েও কিভাবে মটর চালকলীগের কমিটি অনুমোদন দেন এ নিয়েও উপজেলাব্যাপী আলোচনা সমালোচনা চলছে।

সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, ফিরোজ খান যুদ্ধাপরাধীর ছেলে হিসাবে এলাকায় আগে থেকেই পরিচিত। ফিরোজ খানের পিতা মকবুল খান উপজেলা শান্তি কমিটি (রাজাকার) সক্রিয় সদস্য ছিলেন। একাত্তরে উপজেলার শহিদনগরে পাক বাহিনীর চালানো তান্ডবে তার প্রত্যক্ষ মদদ ও সহযোগিতা ছিলো। এছাড়া উপজেলা শান্তি কমিটির তালিকায় ১১ নাম্বারে মকবুল খানের নাম রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ৪ দলীয় জোট সরকারের সময়ে ফিরোজ খান বিএনপির ক্ষমতা ব্যবহার করে নগরকান্দার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের হামলা-মামলায় জর্জরিত করে রেখেছিলেন ফিরোজ খান। সম্প্রতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষ ও হামলায় তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিএনপি উপদেষ্টা ফিরোজ খান বলেন, শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর নির্দেশ মোতাবেক কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনুমোদন আছে বলেই তো তিনি করেছেন। না থাকলে তো আর করতেন না। তাছাড়া কমিটির কাগজে আরো অনেক নেতা স্বাক্ষর করেছেন। অনেকেই করেছেন বলে আমিও স্বাক্ষর করেছি। এই কমিটির সভাপতি ও থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারির কাছে ফোন করে জেনে দেখতেও বলেন তিনি।

নগরকান্দা উপজেলা মটর চালকলীগের সভাপতি গুলজার খান বলেন, ‘শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর নির্দেশনায়ই কমিটি অনুমোদন হয়েছে। আমাকে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। তবে মটর চালক লীগের কমিটিতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্পাদক ও যুগ্ন সাধারন সম্পাদকের স্বাক্ষর লাগে না এটা আমার জানা ছিলো না। এটা জেলা কমিটিই ভাল বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফরিদপুর জেলা মটর চালকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘মাস দুয়েক আগে আমরা নগরকান্দা উপজেলা মটর চালকলীগের কমিটি অনুমোদন দিয়েছি। অনুমোদিত প্যাডে জেলা সভাপতি সম্পাদক ও আমার স্বাক্ষর রয়েছে। তবে এর পরে যদি কেউ ওই প্যাডে অনুমোদন দিয়ে থাকে সেটা আমার জানা নেই। তবে জেলা কমিটির বাহিরে অন্য কারো অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ নেই। আর মটর চালকলীগের মত সহযোগী সংগঠনের কমিটি আওয়ামীলীগের পদধারি কেউ অনুমোদন দিতে পারেন না।

কমিটি অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও জবাব মেলেনি।

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x