ঢাকা | শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০ আশ্বিন ১৪২৮

নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত ময়মনসিংহ গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা

সামান্য বাতাসে কাঁপতে থাকে ঘরগুলো

আজহারুল হক, ময়মনসিংহ ব্যুরো

প্রকাশনার সময়

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৪৭

বাংলাদেশের জনসংখ্যার সিংহভাগ বসবাস করে গ্রামে। গুচ্ছগ্রামও গ্রামের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দুলালবাড়ি চরে অবস্থিত গুচ্ছগ্রামের মানুষের জীবন অনেকটাই দুর্বিষহ। সেখানে আজ নানা রকম সমস্যা বিরাজ করছে। কিছু কিছু সমস্যা দৃশ্যমান যা গুচ্ছগ্রামের মানুষের ভালো না থাকার জন্য যথেষ্ট। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দুলালবাড়ি চরে নির্মিত গুচ্ছগ্রামে প্রায় দুই হাজার লোকের বসতি। ব্রহ্মপুত্র নদের এ চর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা থাকলেও নেই রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র ও হাটবাজার। সামান্য বাতাসে কাঁপতে থাকে ঘরগুলো। পাকা সেতু না থাকায় সাঁকোতে করে নদ পারাপার হতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে সদর উপজেলার খাগডহর ইউনিয়নের চরবাহাদুরপুর গ্রামের দুলালবাড়ি চরে এ ‘গুচ্ছগ্রাম আবাসন প্রকল্প’ এর বাস্তবায়ন করা হয়। প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪০টি টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়। ২ শতাংশ জমিসহ প্রতিটি ভূমিহীন পরিবারকে একটি করে ঘর হস্তান্তর করা হয়।

সম্প্রতি গুচ্ছগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বরাদ্দ করা ঘরগুলোর অবস্থা খুব ভালো নয়। জোরে বাতাস বইলেই কাঁপতে থাকে ঘরগুলো। মেঝে পাকা না হওয়ায় ইঁদুরের উৎপাত অনেক। ঘরের দরজাজানালাগুলো নড়বড়ে। কিছু ঘরের সিমেন্টের খুঁটি ভেঙে পড়ছে। এখনো কয়েকটি ঘর খালি পড়ে আছে, বাসিন্দারা ওঠেনি।

জহির মিয়া, ইউসুফ আলীসহ আরও অকেকেই বলেন, তাঁদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে কিন্তু সমস্যাও রয়েছে। ঘরগুলোর মেঝে কাঁচা। বৃষ্টি হলে আঙিনা ও মেঝে তলিয়ে যায়। ঘরের মেঝে স্যাঁতসেঁতে ও কর্দমাক্ত হয়ে যায়। পানি বের হওয়ার জন্য পাকা নালা নির্মাণের কথা থাকলেও তা নির্মাণ করা হয়নি। বর্ষাকালে ঘরের সামনে হাঁটুপানি জমে।

তারা আরও বলেন, তাঁদের ঘরগুলো চরের মাঝখানে অবস্থিত। একদিকে ব্রহ্মপুত্র নদ, অন্যদিকে খাল। ফলে যাতায়াতে সমস্যা হয়। পাকা সেতু না থাকায় স্থানীয়ভাবে বাঁশ ও কাঠের সাঁকো করে পারাপার হতে হয়। গ্রামের কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। নদের পানি বৃদ্ধি পেলে ভোগান্তির মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

গৃহবধূ শহর বানু বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। গ্রামে কোনো স্কুলও নেই। দুটি গ্রাম পার হয়ে গিয়ে ছেলেমেয়েদের স্কুলে ভর্তি হতে হয়। এদিকে বেশির ভাগ নলকূপে পানি ওঠে না। এলাকায় বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির সংকট রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আশরাফ হোসাইন বলেন, ‘গ্রাম হবে শহর’ শ্লোগান অনুযায়ী দুলালবাড়ি চর উন্নয়নের আওতায় আসবে এবং নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x