ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮

সমুদ্রে বিলিন হওয়ার পথে কুয়াকাটা পর্যটন পার্ক

রাজীব দেবনাথ, পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশনার সময়

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৪৪

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ভাঙন কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। সমুদ্র একটু উত্তাল হলেই সমুদ্রের নোনা পানি পৌঁছে যায় কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট যে কোন নিন্মচাপ আকস্মিক ভাবেই আঘাত হানতে পারে কুয়াকাটা সৈকতের একমাত্র ট্যুরিজম পার্কে।

২০১৮ সালে তৎকালিন জেলা প্রশাসক ড. মো. মাছুমুর রহমান এই পার্কটি র্নিমাণ কাজের উদ্বোধন করেন। ২০২০ সালের মার্চে সদ্য বিদায়ি জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী এর উদ্বোধন করেন। এতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় কোটি টাকার উপরে। কুয়াকাটায় নির্মিত একমাত্র পর্যটন পার্কটিতে ওয়াস জোন, বিশ্রামাগার, কেন্টিনসহ সব ধরনের সুবিধা রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য দেয়া হয়েছে বাউন্ডারিও।

কুয়কাটার জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়েও নজর কারে এই পার্কটি। ক্রমাগত প্রকৃতির ধ্বংস লীলায় কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সকল সৌন্দর্য আজ হুমকির মুখে। প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা সমুদ্র সৈকতটির কোল ঘেসে গড়ে তোলা হয়েছে মানবসৃষ্ট এ ট্যুরিজম পার্কটি।

গত ২৫ মে উপকুলে আঘাত হানা ইয়াসে প্রভাবে লন্ডভন্ড হয়েছে কুয়াকাটা সৈকত। নিজের সৌন্দর্য হারিয়েছে এই সৈকতের পাশে থাকা মানবসৃষ্ট পর্যটন পার্কটি।

কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন(টোয়াক) এর সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের সেবা বাড়াতে পর্যটন পার্ক করা হয়েছে। কিন্তু সেটি এখন ভাঙনের মুখে। পার্কটি রক্ষায় দ্রুত উদ্যোগ না নিলে সৌন্দর্য হারাবে কুয়াকাটা। কারন অগনিত দুর্যোগে কুয়াকাটার অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ বিলিন হয়েছে। বাকি গুলো রক্ষা দরকার।’

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, কুয়াকাটার পর্যটন পার্কটির ব্যাপারে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সথে কথা বলেছি। ওনারা কুয়কাটা সমুদ্র সৈকত রক্ষায় জিয়ো টিউবের ব্যবহার শুরু করেছেন। হয়তো পর্যটন পার্কটি রক্ষার ব্যাবস্থাও করা হবে।

পটুয়াখালী কলাপাড়া উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের র্নিবাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফ হোসেন নয়া শতাব্দিকে জানান, পার্কটি এখন ভাঙনের মুখে। তবে পাউবো ভাঙন ঠেকাতে শীঘ্রই উদ্যোগ নেবে। জরুরি ভাবে ভাঙন রক্ষা করতে জিও টিউব ও জিও ব্যাগের ব্যাবহার করা হয়েছে। তবে শুধু পর্যটন পার্কটি নয়, স্থায়ী ভাবে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত রক্ষা করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের বিস্তারিত জানিয়েছি। এ ব্যাপারে একনেয়েক প্রধানমন্ত্রী প্রজেক্টটি অনুমোদন দিলে কাজ শুরু হয়ে যাবে। তবে করোনার কারণে দুটি বছর আমরা পিছিয়ে গিয়েছি।

বাংলাদেশে কক্সবাজার ও কুয়াকাটা দুটি সমুদ্র সৈকত রয়েছে। যার মধ্যে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ঢাকা থেকে কাছাকাছি হওয়ায় এর গুরুত্ব অনেক বেশি। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত স্থায়ী ভাবে রক্ষার জন্য যে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে তাতে সমুদ্রের ভাঙ্গন বন্ধ হয়ে সমুদ্র সৈকত ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করবে । তবে সৈকতটির স্থায়ী ভাঙন রক্ষার কাজ শুরু হতে অল্প কিছু সময় দেরি হতে পারে।

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x