ঢাকা | সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮

পারিবারিক অসচ্ছলতা : মেঘনার বুকে জেলে শিশুরা!

মনজুর রহমান, ভোলা

প্রকাশনার সময়

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২৯

ভোলা লালমোহন উপজেলায় পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া খালগড়া এলাকার জেলে বাদশ মিয়া। মেঘনায় জেলেদের নৌকায় তিনি ইলিশ শিকার করতো একসময় কিন্তু ঠান্ডাসহ শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে গেল ৬ মাস ধরে মাছ ধরতে যেতে পারছে না বাদশ মিয়া।

এদিকে সংসারে তিন সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের খরচ এবং এনজিও থেকে লোন করা কিস্তির টাকাও নিয়মিত পরিশোধ করতে হয় বাদশা মিয়াকে। বাদশা মিয়ার কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়ে তার পরিবার।

শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া বাদশা মিয়ার সন্তান সবুজ বাধ্য হয়ে মেঘনা নদীতে ছেলেদের সঙ্গে মাছ শিকার করতে বের হয়।

বর্তমানে ছোট্ট সবুজের সারাদিনের আয় দিয়েই চলে সংসারের খরচ, সপ্তাহ শেষে জমানো টাকায় দিতে হয় এনজিওর ঋণের কিস্তি। শুধু সবুজ নয় সবুজের মত এমন অনেক শিশু-কিশোরদের অনেকেই অভাবের কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই শিশু বয়সেই সংসারের হাল ধরতে হয়। তাই আজকাল হরহামেশাই মেঘনা নদীতে চোখে পড়ছে উপকূলের জেলে শিশুদের।

যে কোমল হাতে থাকার কথা তাদের বই খাতা সেই কোমল হাতেই ধরতে হয় নৌকার বৈঠা, জালের কাঠি কঠোর পরিশ্রম করতে হয় তাদের। শুধু জীবিকার তাগিদেই এসব শিশুরা নেমে পড়ছেন মাছ শিকারে।

অথচ এ বয়সেই তাদের পড়ালেখা আর খেলাধুলা করে সময় কাটানোর কথা। কিন্তু সেই সময়টাই ব্যায় করতে হয় মাছ শিকারে গিয়ে।

বাঁধের পাশেই জেলে পল্লি। যেখানে উপকূলের জেলেদের বসবাস। সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে তাদের নদীতে পাঠান অনেক অভিভাবক। তাই বাধ্য হয়ে উত্তাল মেঘনায় ঝুঁকি নিয়ে নেমে পড়তে হয় শিশুদের। এদের মধ্যে অনেকে আবার স্কুলে পড়ছে। কেউ আবার পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে কেউবা স্কুল বন্ধ থাকায় মাছ শিকারে নেমে পড়েছে।

সরেজমিনে মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীঘুরে চোখে পড়ে এসব শিশুদের। তাদের মধ্যে বাবার নৌকায় কেউবা আবার অন্যের নৌকায় মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত। জাল বেয়ে মাছ বিক্রি করে অভিভাবকের হাতে তুলে দেয় সেই টাকা।

বাতির খাল মৎস্য ঘাটের মিলন, কালু, ফয়সাল, ফিরোজসহ আরও অনেকই জানায়, জেলে শিশু তাদের মধ্যে কেউ আবার পড়াশুনার ফাঁকে অবসর সময়ে মাছ ধরে। এদের মধ্যে অনেকেই আবার ১২/১৩ বছর বয়সে হয়ে উঠছেন দক্ষ মাঝি।

অভিভাবকরা বললেন, করোনা ভাইরাসের কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরা মাছ শিকারে যায়, কেউ আবার অভাবের তাড়নায় নদীতে যায়।

সারাদিন মাছ শিকারের পর ঘাটে এসে আবার জাল প্রস্তুতের কাজ করতে হয় জেলে শিশুদের। নদীতে ইলিশ পেলে ভাগে বেশি টাকা মেলে নয়ত অনেক সময় খালি হাতেও ফিরতে হয় তাদের।

জীবিকার কারণে উপকূলের এসব শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। শিশুদের নৌকার জীবন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনে স্কুলমুখী করার দাবী সচেতনমহলের।

যদিও তাদের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকদের এই সব ঝরে পড়া শিশুদের খোঁজখ বর নেয়ার কথা থাকলেও চায়ের দোকান কিংবা বন্ধু আড্ডা বা গ্রামে জায়গাজমিনে বিচার করে সময় পার করছেন তারা।

মেঘনা-তেঁতুলিয়া পাড়ের জেলে পল্লিতে প্রজম্মের পর প্রজম্ম বেড়ে উঠছে উপকূলের শিশুরা। নানা সমস্যায় দিন কাটছে তাদের। চিকিৎসাশাস্ত্র শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার থেকে এই অঞ্চলগুলো শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় সময়।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আক্তারুজ্জামান মিলন বলেন, প্রতিটি শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া আছে অবিভাবকদের সাথে দেখা করে খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য।সরকারে নির্দেশে খুব শীঘ্রই স্কুল খুলে দিবে। স্কুল খুলে দিলে দেখা যাবে এই শিশুরা কেন আসে না।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x