ঢাকা | সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ আশ্বিন ১৪২৮

পাকশী রেল বিভাগে আমদানি পণ্যে রেকর্ড আয়

স্বাধীনা আক্তার, ঈশ্বরদী (পাবনা)

প্রকাশনার সময়

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:১৯

পর্যাপ্ত সুযোগ- সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারলেও পাকশী রেল বিভাগে ভারতীয় পণ্য পরিবহনে আমদানিকারকদের রেলে পণ্য পরিবহনে আগ্রহ বাড়ছে। ভারতীয় আমদানি করা পণ্যবাহী ট্রেন থেকে গত অর্থ বছরে (২০২০-২০২১) রেকর্ড আয় ১৫২ কোটি ৮৯ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৫ টাকা রাজস্ব আয় করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলওয়ের পাকশী রেল বিভাগ। আগের অর্থ বছর(২০১৯-২০২০) এখাতে আয়ের পরিমান ছিল প্রায় ৯৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৮ হাজার ১০৫ টাকা।

গত অর্থ বছরে (২০২০-২০২১) তার আগের অর্থ বছরের (২০১৯-২০২০) তুলনায় আয় বেড়েছে ৫৮ কোটি ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৫১০ টাকা। রেলের পাকশী বিভাগের দর্শনা, বোনাপোল ও রহনপুর ষ্টেশন দিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে পণ্য আমদানি করা হচ্ছে।

পাকশী বিভাগীয় ব্যাণিজিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রেলের পাকশী বিভাগে ভারতীয় সীমান্ত পথে পণ্য পরিবহন বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।

রেলের ঈশ্বরদীতে ভারতীয় পণ্য খালাসের ইয়ার্ড ঘুরে ও আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা না হলেও কোন রুপ ঝামেলা ছাড়াই ট্রেনে পণ্য পরিবহন ও অপেক্ষাকৃত কম খরচের জন্য রেলে পণ্য আমদানির প্রতি আমদানিকারকদের আগ্রহ বাড়ছে। রেলে আমদানি পণ্য পরিবহনে প্রতি টনে খরচ হয় মাত্র ৩৬৭ টাকা।

আমদানিকারকরা বলেন, শুধু সীমান্ত পথ উন্মুক্ত করলেই হবে না। এর সঙ্গে সঙ্গে পণ্য খালাসের রেল ষ্টেশেনগুলোকে আধুনিকায়ন, আমদানি পণ্য পরিবহন ও পণ্য খালাসের জন্য পর্যাপ্ত ইয়ার্ড তৈরি, ওজন স্কেল স্থাপনসহ আমদানির সঙ্গে সকল সুযোগ- সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

পশ্চিম জোনের ১৭ টি ষ্টেশনে আমদানি করা ভারতীয় পন্য খালাস করা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ ষ্টেশনেই নেই পণ্য খালাসের পর্যাপ্ত সুযোগ -সুবিধা। পশ্চিম জোনের পাকশী বিভাগের অন্যতম বড় ষ্টেশন ঈশ্বরদী। এখানে আমদানি করা ভারতীয় পণ্য খালাসের পর্যাপ্ত ইয়ার্ডে জায়গা না থাকাই দিনের পর দিন আমদানিকারকদের অপেক্ষা করতে হয়।

সোমবার ঈশ্বরদী ইয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক মজুমদার এন্টার প্রাইজের ভারত থেকে আমদানি করা চাল খালাস করছেন। শ্রমিকরা জানান, ইর্য়াড ছোট হওয়ায় এক সঙ্গে ৩ টির বেশী ট্রাকে মাল নামানো যাচ্ছে না। ফলে পণ্য খালাস করতে কয়েক দিন লেগে যায়।

ব্যবসায়ীরা বলেন, স্টৈশন এলাকায় রেলের পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও এসব জায়গা বেদখল হয়ে আছে। অথচ পার্কিংয়ের জায়গার অভাবে ভোগান্তিতে রয়েছেন আমদানিকারকরা। পণ্য খালাসের জন্য রেলওয়ের ইয়ার্ড সম্প্রসারণসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। সেই সাথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোর সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন করা গেলে বিদেশী পণ্য পরিবহণ আরও বাড়বে।

ভারত থেকে আমদানি করা চাউল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মজুমদার এন্টার প্রাইজের প্রতিনিধি বলেন, তিনটি ট্রাকে এই ষ্টেশন ইয়ার্ড থেকে পণ্য খালাস করা যায়। ফলে পণ্যবাহী ট্রেন খালাস করতে দীর্ঘ দিন সময় লেগে যায়।

সোমবার পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, আমদানিকারকদের স্বার্থে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে যেসব ষ্টেশনে পণ্য খালাস হয় সেগুলোর আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে। পাকশী রেল বিভাগের ১৮ টিসহ পশ্চিমাঞ্চল রেলের ২৬ টি ষ্টেশন চলতি অর্থ বছরে (২০২১-২০২২) আধুনিকায়নের কাজ চলমান আছে। এছাড়াও যমুনা নদীতে চলমান রেল সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হলে পণ্যবাহী ট্রেন সরাসরি পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য এলাকায় পরিচালনা করা হবে।

এদিকে বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা শুক্রবার ( ৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঈশ্বরদী জংশন রেলওয়ে ষ্টেশন পরিদর্শন কালে বলেন, শতবর্ষের পুরোনা রেল জংশন ষ্টেশন এরকম থাকবে না, অচিরেই ঈশ্বরদী জংশন ষ্টেশনকে একটি আধুনিক জংশন ষ্টেশনে রুপান্তরিত করা হবে।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x