ঢাকা | সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮

কম খরচে লাভ বেশি, কলা চাষে ঝুঁকছে কৃষকরা 

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশনার সময়

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০০

অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে নীলফামারীর কৃষকদের। অন্যান্য ফসলের চেয়ে কলা চাষে খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন কলা চাষে ঝুঁকে পড়ছেন কৃষকরা। জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে চাষিরা কলার ভালো ফলন পাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কলা চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নীলফামারীতে এবার মোট ১৬৯ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। ইতিমধ্যে কলা চাষে অনেক কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী জেলায় বেশিরভাগ জমি দো-আঁশ মাটি হওয়ায় হিম সাগর, সবরী ও চম্পা জাতের কলা চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছে কৃষকরা। বিশেষ করে উর্বর দো-আঁশ মাটি কলা চাষের জন্য ভলো উপযুক্ত জমি। কলা বাগানে পর্যাপ্ত রোদ, পানি নিষ্কাশনের সুবিধা ও উচুঁ জমিতে কলা চাষের জন্য উপযুক্ত। কলার চারা বছরে তিন বার রোপণ করা যায়। বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ ফল কলা হওয়ায় এতে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি রয়েছে। কলাগাছ, কলাপাতা, কলাগাছের শেকড় ও কলা সবই উপকারী।

জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের বিন্নাকুরী গ্রামের অলিয়ার রহমান বলেন, অন্যান্য ফসলের চেয়ে কলা চাষে লাভ বেশি ও শ্রমিক খরচ কম হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকেরা কলা চাষ করছে। কলা চাষে জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করেই ভালো ফলন পাওয়া যায়।

ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম বোড়াগাড়ী এলাকার কৃষক ইব্রাহীম আলী জানান, বছরে তিন বার কলার চারা রোপণ করা যায়। প্রথম ধাপে বাংলা সালের আশ্বিন-কার্তিক মাস, মাঘ-ফাল্গুন দ্বিতীয় ও চৈত্র-বৈশাখ মাস তৃতীয় ধাপের চারা রোপণ করা হয়। চারা রোপণের জন্য সারিবদ্ধ ভাবে গড় দুই মিটার দূরত্ব বজায় রেখে চারা লাগাতে হয়। যাতে চারাগুলো গিচিমিচি না হয়ে দ্রুত বড় হয় এবং ভালো ফলন দেয়। ১১-১৫ মাসের মধ্যে কলাগাছ থেকে সব জাতের কলা সংগ্রহ করা যায়।

নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের কলা চাষি বাসুদেব জানান, নীলফামারী জেলার কলার বেশ চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরা ট্রাক ভর্তি কলা নিয়ে যায় রাজধানী ঢাকায়। এতে চাষিরা বেশি দামে কলা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক ভাবে কলা চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এখানকার বেশিরভাগ জমি দো-আঁশ মাটি হওয়ায় কলার ভালো ফলন হচ্ছে। এবার নীলফামারী জেলায় ১৬৯ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে।

নয়া শতাব্দী/এমআর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x