ঢাকা | রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮

ওরা পদ্মার ভাঙনে ভিটেমাটি হারা

মুন্সীগঞ্জ  প্রতিনিধি

প্রকাশনার সময়

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৪৪

শরিয়তপুর জেলার সরিষাবন এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে সর্বশান্ত ২০ পরিবার মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পুরা বাজার সংলগ্ন বালুর মাঠে খোলা আকাশের নিচে টিনের চালা আড়াআড়ি করে আশ্রয় নিয়ে পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে।

রোববার ( ৫ সেপ্টেম্বর) পুরা বাজার এলাকার বালুর মাঠে গিয়ে দেখা যায় প্রায় শতাধিক মানুষ রোদের তাপ থেকে বাঁচার জন্য দুটি টিনের চালা বসিয়ে তার ভেতরে কোনোরকমে আশ্রয় নিয়েছে।

তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা সকলেই মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলা ঘেষা এলাকা সরিষাবন নদী ভাঙন এলাকা থেকে এখানে এসে উঠেছে। গত পাঁচ দিন যাবৎ খোলা আকাশের নিচে এভাবেই দিন যাপন করছেন তারা। প্রতিটি মুহুর্ত পার করছেন অনিশ্চয়তা এবং হতাশার মধ্য দিয়ে।

জানাযায়, মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দিঘিরপাড় শেষ সিমান্ত ঘেষে শরিয়তপুরের সরিষাবন অবস্থিত। তাই ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

নদী ভাঙন এলাকা থেকে আসা নারগিস বেগম জানান, নদীর ভাঙনে আমরা নি:স্ব হয়ে গেছি। আমাদের বাড়ি-ঘর সব নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কোনোরকম একটা ঘরের চালা নিয়ে এখানে এসেছি। খাবারের ব্যবস্থা নাই, স্বামীর কাজ-কাম নাই, ঘর তোলার সামর্থ নাই। যেকোনো সময় বাতাসে উড়িয়ে নিতে পারে ঘরের চালা। অনেকে এখানে অস্থায়ী ভাবে ঘর তুলে থাকবে কিন্তু আমার ঘর তোলার মত সেই সামর্থটুকুও নাই।

মানিক মিয়া জানান, আমাদের এই করুণ অবস্থায় দেখার কেউ নাই। সরিষাবন এলাকায় পদ্মার ভয়াবহ নদী ভাঙন আমাদের সবকিছু কেরে নিলো। আমরা নি:স্ব হয়ে গেলাম।

জাকির হোসেন জানান, আমাদের মত এমন শত শত পরিবার বসতভিটা হারিয়ে পথে বসেছে। যে যেখানে পারছে সেখানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আমাদের থাকার কোনো জায়গা না থাকায় আমরা এই খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছি।

যশলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমাস চোকদার জানান, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। খবর নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

টঙ্গীবাড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জগলুল হালদার ভুতু জানান, সরিষাবন এলাকায় নদী ভাঙনে অনেকের বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে। সেখান থেকে কিছু লোক পুরা বাজার এলাকায় বালুর মাঠে আশ্রয় নিয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিভিন্ন জায়গায় খাদ্যসামগ্রী ও নতুন টিন প্রদান করা হচ্ছে। তাদের ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা জানা যায়, ক্রমশ পদ্মায় পানি বাড়ছে। মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকূল পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ও মাওযা পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ।

টঙ্গীবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা পারভীন জানান, যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান টঙ্গীবাড়ীতে নদী ভাঙন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

রবিবার বিকেলে উপজেলার হাসাইল,কামারখাড়া,চৌষার পদ্মা নদীর ভাঙন এলাকার ১৫৫টি পরিবারের মাঝে ১০কেজি চাউল ও পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাজেদা সরকার, কামারখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হালদারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ।

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x