ঢাকা | রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

আলুর বাজার নিম্নমুখী

বগুড়া প্রতিনিধি

প্রকাশনার সময়

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১৯

বগুড়ার বাজারে আলুর দরপতন হওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। গত সপ্তাহেও যেখানে আলুর কেজি বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা, সেখানে বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১৫ টাকা করে। আর পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১১ টাকা কেজিতে। এদিকে উৎপাদন থেকে শুরু করে হিমাগারে রাখা পর্যন্ত এক কেজি আলুর পেছনে খরচ হয়েছে ১৮ টাকা। এই হিসাবে হিমাগারে আলু রেখে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজিতে ৮ টাকা করে লোকসান গুনছেন।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, দেশের শীর্ষ আলু উৎপাদনকারী জেলাগুলোর একটি বগুড়া। কয়েক মৌসুম ধরে জেলাটিতে আলু আবাদ ও উৎপাদন ভালো হওয়ার কারণে আলুর দাম সহনীয় পর্যায়ে ছিল। ২০১৯-২০ মৌসুমে জেলায় আলুর ফলন ছিল প্রায় ১২ লাখ টন। ২০১৯-২০ মৌসুমে বগুড়া জেলায় আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫৫ হাজার ৪৫৪ হেক্টর। আর ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩৮ হাজার টন। শেষ পর্যন্ত বগুড়ায় গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়। জেলায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন পাওয়া যায়। কয়েক বছর ধরে বগুড়ায় ফলন বৃদ্ধি পাওয়ায় আলুর দাম নিয়ে কৃষকরা খুশি না হতে পারলেও বাজার ব্যবস্থায় আলুর দাম স্থিতিশীল থাকায় নিশ্চিন্ত ছিলেন ভোক্তারা।

কৃষি কর্মকর্তা বলেছেন, ভালো ফলনের কারণে জেলায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়। সদর উপজেলার বারপুর, ঘোড়াধাপ, মরাকাটা, চাঁদমুহা এলাকার কয়েকজন আলুচাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর আলুর ভালো ফলন পাওয়া যায়। ভালো ফলন পাওয়া গেলেও বাজারে ভালো দাম ছিল না। গত বছর মৌসুমের সময় বগুড়ার খোলা বাজারে ভালো মানের আলু ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। আর স্বাভাবিক আলু বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হয়েছে ১৫ থেকে ১৬ টাকা কেজি। সেই আলু চলতি বছর কোল্ডস্টোরে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১০ টাকা কেজিতে। এই আলু কোল্ডস্টোরে সংরক্ষণ করার সময় খরচসহ ব্যবসায়ীদের পড়েছে প্রায় ১৭ টাকা কেজি।

বগুড়ার সবজিবাজার খ্যাত মহাস্থান বাজারে আলু কিনতে আসা কবির হোসেন, আলাল হোসেন জানান, মহাস্থান হাটে আলু পাইকারিভাবে ১২ টাকা কেজি আর খুচরা বাজারে ১৪ থেকে ১৫ টাকা আর কিছু ভালো মানের আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬ থেকে ১৮ টাকা কেজি। পনেরো দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা কেজি। সেই আলুর দাম হঠাৎ করে কমে এসেছে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক দুলাল হোসেন জানান, বগুড়ায় সবজি হিসেবে আলুর উৎপাদন বরাবরই ভালো।

এ মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়েছে। অন্যদিকে এবার বন্যা হয়নি। সবজি রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে। তাতে আলুর চাহিদা সামান্য কমেছে। আবার বগুড়া অঞ্চল থেকে অন্য জেলায়ও আলু খুব একটা যায়নি। হিমাগারে সংরক্ষণ করা আলু খালাস না করলে ব্যবসায়ীদের লোকসান হবে। সব মিলিয়ে আলুর বাজারমূল্য কমে গেছে। বৃহত্তর বগুড়া জেলা কোল্ড স্টোরেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এবং আরবি হিমাগারের চেয়ারম্যান পরিমল প্রসাদ রাজ জানান, এবার ৫ লাখ টনের বেশি আলু সংরক্ষণ করা আছে বগুড়া-জয়পুরহাটের ৫৫টি হিমাগারে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ টন বীজ আলু। বাকি প্রায় ৪ লাখ টন এখন বিক্রির জন্য আছে। প্রতিটি স্টোরে প্রায় দেড় থেকে ২ লাখ বস্তা আলু ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। গত বছর বিভিন্ন স্টোরে কৃষকরা আলু সংরক্ষণ করে রাখেন।

এর সঙ্গে করোনাকালে আলু খালাস ও অন্যান্য জেলায় সরবরাহ হয়েছে কম। আবার সামনে আলুর সিজন আসছে। সব মিলিয়ে সংরক্ষণ করা আলু একযোগে খালাস হওয়ার কারণে বাজারে আলুর দরপতন হয়েছে। এতে করে তাদের কেজিপ্রতি আলু বিক্রিতে ৬ থেকে ৮ টাকা লোকসান হচ্ছে। গত কয়েক দিনের হিসাবেই এই দুই জেলার আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা ৩২০ কোটি টাকা লোকসানের মুখে রয়েছেন।

নয়া শতাব্দী/এমআর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x