ঢাকা | রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

খুলনা নগরীতে হাতের ইশারাতেই হচ্ছে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ!

সব ট্রাফিক সিগন্যালই অকার্যকর

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, খুলনা

প্রকাশনার সময়

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৩৮

আপডেট

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৪২

শনিবার বেলা সোয়া ১২টা। খুলনা নগরীর ব্যস্ততম শিববাড়ী মোড়। এ মোড় দিয়ে নিউ মার্কেট-ডাকবাংলা, ময়লাপোতা-সোনাডাঙ্গায় যাতায়াতের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চলে গেছে। সঙ্গতকারণেই ছোট-বড় যানবাহনের ছোটাছুটি। নেই কোন নিয়ন্ত্রণ।

কারণ: এখানে থাকা ডিজিটাল বা স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকেজো। তাই সিগনাল না থাকায় যানবাহনগুলোও চলছে ইচ্ছামত। যে যার মত। কিন্তু এখানে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য সাইফুল ইসলাম যখনই ঝুঁকি নিয়ে সড়কের মাঝে গিয়ে হাত উঁচু করে ইশারা করছেন, তখনই যানবাহনগুলো থেমে যাচ্ছে। আবার তার ওই হাতের ইশারাতেই চলছে।

শুধুমাত্র শিববাড়ী মোড়ই নয়, একইভাবে নগরীর ডাকবাংলো, পাওয়ার হাউস মোড়, রয়্যাল মোড়, পিকচার প্যালেস, সদর থানা, পিটিআই, ধর্মসভা, ময়লাপোতা ও ফেরিঘাট মোড়, সদর হাসপাতালের সামনে, সার্কিট হাউসের পাশে, হাজী মুহসীন সড়ক এবং দৌলতপুর, নতুন রাস্তা ও জোড়াগেট মোড়সহ ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি অকেজো অবস্থায় রয়েছে। ফলে খুলনা মহানগরীর পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থা বা যানবাহন নিয়ন্ত্রণই হাতের ইশারা নির্ভর হয়ে পড়েছে।

শিববাড়ী মোড়ে সকালের পালায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্য সাইফুল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও মো. নূরুজ্জামান বলেন, এ মোড়ের ৭টির সবকটি সিগনালই দীর্ঘ দিন ধরে অকেজো রয়েছে। এ কারণে হাতের ইশারাতেই তাদের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কিন্তু এসব সিগনাল বাতি সচল থাকলে হলুদ, লাল আর সবুজ বাতির সংকেতেই খুব সহজে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা যেত। এতে একদিকে যেমন যানজট ও দুর্ঘটনা কম হতো, অন্যদিকে আমাদের আর একটানা রৌদে দাঁড়িয়ে কষ্ট করে দায়িত্ব পালন করতে হতো না। কেন এ বাতিগুলো ঠিক করা হয় না- সেটি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষই ভালো জানেন- উল্লেখ করে তারা সিগনাল বাতিগুলো সচলের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেন।

নগরীর ব্যস্তমত ডাকবাংলা মোড়ে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সদস্য এসএম বিল্লাল হোসেন ও মো. আরিফ হোসেনও একই সুরে কথা বলেন। তারা আরও বলেন, যানবাহন চালকরা অনেক সময় সিগনাল মানতেও চান না। হাতের ইশারা না মেনেই গাড়ী চালিয়ে চলে যান। আবার অনেক চালক যানবাহন নিয়ে ট্রাফিক বিটেও (ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ পয়েন্ট বা চৌকি) ধাক্কা দেন। এ নিয়ে মাঝে-মধ্যেই চালকদের সঙ্গে তাদের বাগ-বিতন্ডা হয়। কিন্তু ডিজিটাল সিগনাল চালু থাকলে এ ধরণের বিড়ম্বনায় পড়তে হতো না। খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)’র সূত্র জানান, দুর্ঘটনা রোধের পাশাপাশি যানজট নিরসনে ১৯৮৭ সালের দিকে খুলনা মহানগরের ১৬টি মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপনা করা হয়। কিন্তু ২০০৫ সালের মধ্যে সবকটি বাতি অকার্যকর হয়ে যায়। বাতিগুলো মেরামতের উপযোগী না থাকায় কেসিসি নতুন করে আর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। মূলত এ সব ট্রাফিক সিগন্যাল হলুদ, সবুজ, কালারের বাতি জরাজিণর্ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে করে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে বেশ বেগ পেতে হয়। মাঝে মধ্যে রাতের বেলায় ইলেকট্রিক সিগন্যাল লাঠি ব্যবহার করতে দেখা গেলেও বেশির ভাগ সময়ে হাতে লাঠি আর বাশি নিয়ে যানজট নিরসনের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় এসব ট্রাফিক সদস্যদের। এতে করে নগরীতে দুর্ঘটনা বাড়ার পাশাপাশি পথচারি ও যানবহন চলাচলের ঝুকিঁও বাড়ছে।

খুলনা সিটি কর্পেরেশনের প্যানেল মেয়র-১ আমিনুল ইসলাম (মুন্না) বলেন, ট্রাফিক সংকেত বাতি বিকল আছে, আমি নিজেও বিষয়টি লক্ষ্য করেছি। তাছাড়া এতে করে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করতে সমস্যা হচ্ছে। মেয়রের সাথে এ বিষয়ে কথা বলে দ্রুত একটি কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মাদ তাজুল ইসলাম বলেন, খুলনা একটি সুন্দর ও আধুনিক শহর। অথচ ট্রাফিক সংকেত বাতি এখনও জনাজীর্ণ। এতে দায়িত্ব পালনে অনেক সময়ে আমাদের পুলিশ সদস্যদের জীবনের ঝুকি নিয়ে চলন্ত গাড়ীর সামনে দাড়িয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। এ বিষয়ে আমরা বেশ কয়েকবার খুলনা সিটি কর্পেরেশনকে চিঠি দিয়েছি। তবে এখনও কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তবে দ্রুত এসব ট্রাফিক সংকেত বাতি সংস্কার বা নতুন বাতি স্থাপনের প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x