ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮

আকাশে মেঘ ডাকলেই চমকে ওঠে গুচ্ছগ্রামবাসী!

মনজুর রহমান,ভোলা

প্রকাশনার সময়

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩:০৪

আপডেট

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩:২৫

শারদীয় নীল আকাশে হঠাৎ যদি উকি মারে কালো মেঘ, মেঘ টইটম্বুর আকাশ কখনো যদি তুমুল গর্জন দিয়ে ওঠে চমকে ওঠে তারা, কপালে তাদের দুশ্চিন্তার ভাজ। বলছিলাম ভোলার জেলার আবাসন বাসিন্দাদের কথা । কেননা দীর্ঘদিনে সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ ঘরগুলোতে বৃষ্টির পানি পরে নষ্ট হয়ে গেছে অনেকদিন ধরে, পাশাপাশি কষ্টার্জিত আসবাবপত্রগুলোও , শুধু তাই না এমন বহু রাত নির্ঘুম কাটাতে হয় ঘরের এসব অতিথিদের । জরাজীর্ণ ঘরের এ চিত্র উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে নির্মিত সরকারী (গুচ্ছগ্রাম) আবাসন প্রকল্পের। অভিযোগ উঠেছে দুর্ভোগের শেষ নেই এখানে বসবাসরত দরিদ্র পরিবারগুলোর।

সরেজমিনে আবাসন প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণবস্থায় রয়েছে উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ আবাসন, উত্তর লর্ডহার্ডিঞ্জ নজির মিয়া বাড়ী সংলগ্ন আবাসন, উত্তর প্যায়ারীমোহন (বটতলা সংলগ্ন) সোনালী আবাসন, ধলীগৌরনগরের চতলা বাজার সংলগ্ন আবাসন, উত্তর চতলা মহাজন আবাসনসহ রমাগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ রায়চাঁদ আবাসন।

এখানে বসবাসরত পরিবারগুলো দিনযাপন করছেন এ জরার্জীণ ঘরেই। কেউ কেউ ঘরের উপর পলিথিন দিয়ে ইট চাপা দিয়েছেন। তবে আকাশে মেঘ দেখলেই সারারাত জেগে থাকেন। যদি বৃষ্টির সাথে বাতাস হয় তবে ওই পলিথিনও উড়ে গিয়ে পানিতে ভিজে নষ্ট হবে কষ্টার্জিত আসবাবপত্র।

এছাড়াও এখানে বসবাসরতদের মধ্যে রয়েছে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিও। কারণ আবাসনবাসীর জন্য নেই স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা।এ সময়ে চরম স্বাস্থ্যঝুকির আশঙ্কাও করছেন অসহায় পরিবারগুলো। তাই এসকল সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন বসবাসরত পরিবারগুলো।

রমাগঞ্জ ১নংওয়ার্ডের আবাসনের বাসিন্দা বিলকিস,বিল্লাল,ছালাউদ্দিন আবুল কালাম, আরিফ, হোসনেয়ারা, লাইজু জানান, অত্যন্ত কষ্ট করে আবাসনে থাকতে হয়। আকাশে মেঘ দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে যাই। নিজেরা ধার-দেনা করে মোটামুটি মেরামত করে পরিবার নিয়ে থাকি।

রমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা মিয়া বলেন, আবাসনের ঘরগুলো ৪/৫ বছর ধরে কোন মেরামত হয়নি বসবাসরত বাসিন্দাদের সমস্যার বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

তবে আবাসনে বসবাসরতরা জানান, লোক দেখানো কাজ করা হয়েছিল। তাই যেমন ঘর তেমনই রয়ে গেছে, রয়ে গেছে ভোগান্তিও। রায়চাঁদ আবাসনের বাসিন্দা কামাল বলেন, কয়েকবার উপজেলা থেকে স্যারেরা এসে ঘরের ছবি তুলে নিয়েছে। কেন নিয়েছে তা জানিনা, তবে আমাদের কোনও উপকার হয়নি।

জানা যায়, ২০০৪ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এসব আবাসনগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় জরাজীর্ণ ঘরগুলো মেরামতে কোনও উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কিছু কিছু মেরামত করা হলেও তা শুধু কাগজে কলমে, বাস্তবে নয়।

লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়া জানান, আবাসনের কাজগুলো তদারকি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা , প্রকল্প কর্মকর্তা ও ভূমি অফিস। তবে লর্ডহার্ডিঞ্জের শাহাবাজপুর আবাসন ও সোনালী আবাসনে মেরামতের কাজ হয়েছিল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

লালমোহন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সোহাগ ঘোষ বলেন, জরাজীর্ণ ঘরগুলো মেরামতের কোন উদ্যোগ কর্তৃপক্ষ নিবে কিনা, তা জানা নেই। তবে সরকার জরাজীর্ণ ঘরগুলো মেরামত না করে সেখানে এক তলা পাকা বিল্ডিং করার পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রকল্প -২ এর আওতাধীন ৬ টি ঘরের তালিকা আমরা পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নয়া শতাব্দী/এসকে

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x