ঢাকা | রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮

শিম চাষে লাভবান কৃষক

চলতি বছর বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ৫৭ কোটি টাকা

আহসান আলম, চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশনার সময়

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:২১

শিম বাংলাদেশের অন্যতম এবং মাচায় আবাদ করা লতাজাতীয় শীতকালীন সবজি। লাভজনক হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় গ্রীষ্মকালীন সবজি হিসেবে শিম আবাদের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গার অনেক কৃষকই শিমের আবাদ করেছেন। গড়ে ৫০ টাকা দাম ধরে এ জেলার কৃষকরা ৯৫০ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ৫৭ কোটি টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ২০২০-২১ অর্থবছরে ৯৫০ হেক্টর জমিতে আগাম অটো জাতের শিম আবাদ করেছেন কৃষকরা। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪শ’ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৫০ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় ৩শ’ হেক্টর ও জীবননগর উপজেলায় ২শ’ হেক্টর জমিতে শিম আবাদ করেছেন কৃষকরা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮৫০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হলেও দাম ভালো পাওয়ায় চলতি মৌসুমে ১শ’ হেক্টর বেশি জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হেক্টরপ্রতি ১২ টন।

চুয়াডাঙ্গার বাজারে আগাম শিম উঠতে শুরু করেছে। অসময়ে শিমের আবাদ ভালো হওয়ায় ফলন যেমন বেশি, বাজারদর তেমনই ভালো। এতে কৃষকরা বেশ খুশি।

চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রামের মাঠের দিকে তাকালেই দেখা যায় জমিজুড়ে শিম আর শিমের মাচা। মাটি থেকে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ ফুট উচু বাঁশের মাচা তৈরি করে আবাদ করা হয়েছে উচ্চফলনশীল অটো জাতের শিম। বিকেল হলেই চাষিরা তাদের পরিবারের লোকজন নিয়ে শিমের পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন। কারণ বিকেলের দিকে শিমের পরিচর্যার উপযুক্ত সময়।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুঁকিয়াচাঁদপুর গ্রামের কৃষক খাইরুল ইসলাম জানান, তিনি ১৩ বছর ধরে শিম আবাদ করছেন। এ বছর তিনি দেড় বিঘা জমিতে শিমের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, আবহাওয়া ও বাজার দরও বেশ ভালো। তার দেখাদেখি অন্য কৃষকরা আগ্রহী হয়ে শিমের আবাদ করেছেন বলে তিনি জানান। প্রথমে অল্প অল্প জমিতে শিমের আবাদ করতে করতে কৃষকরা এখন ব্যাপক হারে শিম আবাদ করছেন। প্রতিবছর শিম বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। তিরি আরো জানান, গত বছরের মতো এ বছর দেড় বিঘা জমিতে অটো জাতের শিম চাষ করেছেন। তিনি আশা করছেন, বিঘাপ্রতি এক লাখ টাকার শিম বিক্রি হবে। এরই মধ্যে কয়েক মণ শিম বিক্রি করেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এ পরিস্থিতি থাকলে দেড় বিঘা জমিতে কমপক্ষে দেড় থেকে ২ লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ওই গ্রামেরই শিমচাষি সাহাবুদ্দিন, গৌতম সাহা ও আহম্মদ আলী বলেন, বিঘাপ্রতি খরচ বাদে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ হয়।

বর্তমানে শিমের আবাদে নানা উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেশি। বীজ লাগানোর পর থেকে এক বিঘা জমিতে শিম আবাদ করতে বীজ, সার, বাঁশ, তার, শ্রমিক, সেচ খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। শিমের গাছ মাচায় উঠে গেলে ফুল এবং ফল ধরার সময় পোকা দমন এবং পচন রোধে প্রায় প্রতিদিন ওষুধ ¯েপ্র করতে হয়। ৫০ থেকে ৫৫ দিনে গাছে শিম ধরা শুরু করে। এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত শিম বাজারজাত করতে অন্য কোনো স্থানে যেতে হয় না। পাইকারি ক্রেতারা এসে তাদের কাছ থেকে শিম কিনে নিয়ে যান বলে তারা জানান।

কুঁকিয়াচাঁদপুর গ্রামের শিম ব্যবসায়ী ফিরোজ আহম্মদ বলেন, আমাদের এলাকায় (বারি-১ বা স্থানীয় অটো জাতের) শিমের অগ্রিম আবাদ হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ জেলায় এই শিমের ব্যাপক চাহিদা। আমি কৃষকদের জমি থেকে ১২০ টাকা কেজি পাইকারি দরে ক্রয় করে কখনো ঢাকা, চট্টগ্রাম বা ময়মনসিংহ জেলায় পাঠাই। আবার কখনো কমিশনে বিক্রি করি।

সদর উপজেলার ঠাকুরপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এই ব্লকে ৬৫ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন শিমের চাষ হয়েছে। আমরা সব সময় কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ দিচ্ছি ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে থাকি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চুয়াডাঙ্গার প্রশিক্ষণ সম্পাদক সুফি মো. রফিকুজ্জামান বলেন, আমাদের চুয়াডাঙ্গা জেলার কৃষকরা সবজি আবাদে সব সময় অগ্রগামী। গত বছর ৮৫০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন শিমের আবাদ হয়েছিল। এ বছর ৯৫০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে শিমের উত্তোলন শুরু হয়ে গেছে এবং বাজারে বিক্রি হচ্ছে। অসময়ে শিমের দাম বেশি পাওয়া যায়, এজন্যই কৃষকরা আগ্রহী এবং লাভ ভালো পান। অসময়ে শিমের আবাদ করতে গেলে কিছু পোকামাকড়ের সমস্যা হয়।

এ ব্যাপারে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি আইটেম পদ্ধতিতে পোকামাকড় দমনে। যেহেতু শিমটা অসময়ে বাজারে আসে, তাই আমরা নিরাপদে যদি শিম বাজারে তুলতে পারি তাহলে একদিকে কৃষক যেমন লাভবান হবেন তেমনি ক্রেতারা নিরাপদ সবজি পাবেন। যার কারণে আমাদের জেলায় দিন দিন শিমের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হেক্টরপ্রতি ১২ টন। পরিশেষে বলা যায়, এখন শিমের কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। গড়ে ৫০ টাকা দাম ধরে এ জেলার কৃষকরা ৯৫০ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ৫৭ কোটি টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন।

নয়া শতাব্দী/এমআর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x