ঢাকা | সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ আশ্বিন ১৪২৮

তিস্তায় পানি বৃদ্ধি, ভাঙন আতঙ্কে সহস্রাধিক পরিবার

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশনার সময়

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৪৩

চতুর্থ দফায় নীলফামারীর ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে দশটি ইউনিয়নের প্রায় দশ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। এতে নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে তিস্তা পাড়ের মানুষ।

তিস্তার পানি পারিমাপক (গেজ পাঠক) মো. নরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সকাল ছয়টায় বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে পানি । নীলফামারীর ডালিয়ার খালিশাচাঁপানী তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমা হচ্ছে ৫২.৬০ মিটার।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাকউদ্দৌলা জানান, কয়েক দফায় পানি বৃদ্ধির ফলে যেসব এলাকায় বাঁধ ভাঙন দেখা দিয়েছিলো সেগুলো মেরামত করা হয়েছে। আজ আবারও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজের ৪৪ জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে ব্যারেজ এলাকা।

গত ২৯ আগস্ট গভীর রাতে ডিমলা উপজেলায় ভেন্ডাবাড়ী কুটিপাড়া এলাকার তিস্তা ডানতীর বাঁধের ৪০মিটার সলিট স্পারটি পানির তোড়ে ভেঙ্গে যায়। তীব্র স্রোতে বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ ভাঙ্গনের মুখে বিলীন হয়ে যায় কুটিপাড়া এলাকার দুই শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও ফসলী জমি। পানিতে ভেসে গেছে ঘরবাড়ী, ধান-চাল, গরু-ছাগল ও আসবাবপত্র। সব কিছু হারিয়ে এসব পরিবার আশ্রয় নেয় তিস্তার ডানতীরের প্রধান বাঁধসহ অন্যান্য স্থানে।

বিধ্বস্থ বেড়িবাঁধটি মেরামতে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বাঁশের পাইলিং ও বালুর বস্তা ফেলে রক্ষার চেষ্টা করলেও আবার পানি বৃদ্ধির ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ভেন্ডাবাড়ির চরের দুই নম্বর স্পারটি। এতে ভাঙ্গন আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ‘ভেন্ডাবাড়ি কুটিপাড়া এলাকার দুই নম্বর স্পারটির ৪০ মিটার ভেঙ্গে যায়। এরফলে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি বিলিন হয়ে গেছে। আজ আবারও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙ্গন আতঙ্কে সহস্রাধিক পরিবার। বাঁধটি রক্ষা করতে না পারলে কপাল পুড়বে ওই এলাকার মানুষের।’

ডিমলা ইউনিয়নের পুর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, আবারো পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তার চর এলাকার এক হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এতে মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে তিস্তা।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘পানি বন্দি হয়ে পড়া মানুষরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। তারা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে রয়েছেন।’

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x