ঢাকা | রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮

বহরপুর-রামদিয়া সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে স্থানীয়রা

আবু মুসা বিশ্বাস, রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশনার সময়

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:১৮

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজার থেকে ইসলামপুরের রামদিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থা। অগণিত খনাখন্দের কারণে এ সড়কে চলাচলকারী জনসাধারণের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল কলাম আজাদ বলেন, ‘ ​আমার জানা মতে সোনাপুর থেকে জামালপুর ২২ কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। এ বছরেই হয়তো কাজ শুরু হবে। সোনাপুর বাজার থেকে রামদিয়া বাজার হয়ে বহরপুর বাজার দিয়ে জামালপুর সড়কটি ১৮ ফুট চওড়া এবং দুই পাশে ৩ ফুট করে সোল্ডার সড়ক থাকবে। আশা করছি দ্রুতই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এই সংস্কার কাজ আরম্ভ করবে। আর কাজ শেষ হলে জনদুর্ভোগ অবশ্যই লাঘব হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়ন ও ইসলামপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া বহরপুর-রামদিয়া সড়ক। সাড়ে ৪ কিলোমিটার এই সড়কটি ছোট-বড় সকল গাড়ি চালকদের কাছে এটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বহরপুর বাজার থেকে রামদিয়া সড়কে অসংখ্য খনাখন্দ।

এ বিষয়ে কথা হয় এই সড়কে চলাচলকারী ট্রাক, মাইক্রোবাস, ইজি বাইক, অটোরিক্সা, অটোভ্যান, নছিমন, করিমন, আলমসাধুর চালকদের সাথে।

তারা বলেন, বহরপুর থেকে রামদিয়া বাজার পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘ ৪/৫ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে পড়ে আছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে এই রাস্তায় গাড়ি চালাতে কষ্ট হয়। রাস্তা খারাপ থাকায় অনেক সময় দুর্ঘটনায় পড়তে হয়। গাড়ির নানা যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। মালামাল পরিবহণ করতে অনেক বেগ পেতে হয়। রোগী বহন করতে গেলে এই রাস্তায় তাদের অনেক কষ্ট হয়। সময় মতো রোগী নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এ কারণে রোগীর ক্ষতিও হয়।

বহরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি সিকদার বলেন, ‘রামদিয়া টু বহরপুর সড়কটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক দিয়ে সোনাপুর, কালুখালী, পাংশা, বেলগাছী, মদাপুর যাওয়া আসা করা যায়। এই সড়কটির পাশে অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ইসলামপুর ইউনিয়ন কমপ্লেক্স, বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বহরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদনগর আলিম মাদ্রাসা, বহরপুর ডিগ্রি কলেজ, জেলার ঐতিহ্যবাহী বহরপুর হাট অবস্থিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সড়কটি দিয়ে কোমলমতি ছাত্রছাত্রী ও হাটে আসা ক্রেতা বিক্রেতারা যাওয়া আসা করে। সড়কটির বেহাল দশা হওয়ায় অহরহ দুর্ঘটনার ফলে বড় রকমের ক্ষতির শিকার হচ্ছেন অনেকেই। সড়কটি দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।’

স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৩/৪ বছর কাল ধরে রামদিয়া-বহরপুর সড়কটি নাজুক অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অসুবিধায় পড়ছে এই সড়কে চলাচলকারীরা। আমাদের দাবি যেন খুব তাড়াতাড়ি এই সড়কটির সংস্কার কাজ করা হয়।

এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা জানান, আমরা নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। যেখানে রামদিয়া থেকে বহরপুর আসতে সময় লাগে ১৫ মিনিট। রাস্তা ভাঙাচুরা থাকায় সময় লাগছে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা। আর রাস্তা ভাঙা থাকায় মাজার ব্যথা, বুকের ব্যথাসহ শরীরের অনেক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

স্থানীয় সামাজিক সংগঠন সোনার বাংলা সমাজ কল্যাণ ও ক্রীড়া সংসদের আহ্বায়ক এস, এম হেলাল খন্দকার বলেন, ‘বহরপুর-রামদিয়া সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ইট, খোয়া বিটুমিন উঠে গিয়ে মিনি পুকুরের জন্ম হয়েছে। মাঝে মধ্যেই ছোট বড় গাড়ি এসব গর্তে পড়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। এসব দেখে আমরা মাঝে মাঝে এলাকার যুবকদের সাথে নিয়ে গর্তগুলোতে ইট, খোয়া দিয়ে ভরাট করি। বৃষ্টির পানিতে আর গাড়ি চলাচল করায় আবার যা তাই হয়ে যায়। এখন দ্রুত সড়কটির সংস্কার হওয়া প্রয়োজন।

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x