ঢাকা | সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮

মানিকগঞ্জের মেয়রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশনার সময়

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৪৮

দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি কাজে অনিয়ম এবং সরকারি জায়গায় মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র রমজান আলীর বিরুদ্ধে। অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছে। আর সরকারি জায়গায় মার্কেট নির্মাণ করায় মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে জেলা পরিষদ। কাজে অনিয়মের কথা স্বীকার করলেও সরকারি জায়গা নিজের দাবি করেছেন পৌর মেয়র।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ পৌরসভার ২০২০-২১ অর্থবছরের সাতটি প্যাকেজে বিভিন্ন রাস্তার উন্নয়নমূলক কথা ছিল। যা গত ৭ জুন মানিকগঞ্জ পৌরসভার রাজস্ব খাতের আওতায় ২ কোটি ৭৭ লক্ষ ৪২ হাজার ১৫৮ টাকায় সাতটি দরপত্র আহবান করা হয়। যা ৩০ জুন দরপত্রের শিডিউল কেনার শেষ দিন ছিল এবং পরের দিন ১ জুলাই দরপত্র জমা দেওয়ার দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু দরপত্রের আগের রাস্তার উন্নয়নমূল কাজ শুরু করা হয়।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ পৌরসভার এলাকার ৫৫নং পশ্চিম বান্দুটিয়া মৌজার আর এস ২নং খতিয়ানের ১১৫৩ ও ১১৫৪নং দাগের আংশিক ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ জায়গায় মানিকগঞ্জ পৌরসভা মার্কেট নির্মাণ করছেন। নির্মাণ কাজ বন্ধের জন্য একাধিকবার মৌখিকভাবে ও লিখিত বলা হয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার রাস্তার উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে এবং বেওথা এলাকায় মার্কেট নির্মাণের কাজ চলমান।

অনিয়মের বিষয় মানিকগঞ্জ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই বেশ কয়েকটা রাস্তার উন্নয়ন মূলক কাজ করে পৌর কর্তৃপক্ষ। এমন অভিযোগে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয় এবং তদন্ত শেষে গত মাসে তদন্ত প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা শাহওয়াজ বলেন, পৌরসভার বেওথা এলাকায় জেলা পরিষদের সরকারি জায়গায় মার্কেট নির্মাণ করছেন পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। কাজ বন্ধ রাখতে লিখিত ভাবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ওই জায়গায় কাটা তারের বেড়া দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মেয়র ও তার লোকজন দিয়ে তারের বেড়া উঠিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি মন্ত্রণালয় একটা ব্যবস্থা নিবেন।

অনিয়মের কথা স্বীকার করে পৌর মেয়র রমজান আলী বলেন, পৌরবাসীর ভোগান্তী ও বন্যার কথা বিবেচনা করে পৌর এলাকার কয়েকটি রাস্তার উন্নয়ন মূলক কাজ করা হয়েছে।

আর জেলা পরিষদের সরকারি জায়গায় মার্কেট নির্মাণের বিষয়ে মেয়র রমজান আলী বলেন, ওটা পৌরসভার জায়গাও আমি ছাড়বনা। কাজও বন্ধ করবোনা। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে যে কাটা তারের বেড়া দিয়েছি সেটা আমি ছিঁড়ে ফেলেছি।

এবিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ বলেন, জায়গার নিয়ে যেহেতু মালিকানা বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। মালিকানা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x