ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০২৩, ১০ চৈত্র ১৪২৯, ১ রমজান ১৪৪৪

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ঘর উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী, টাকা নিলেন সংগঠনের সম্পাদক

প্রকাশনার সময়: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০:১৪

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় কর্তৃক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গৃহহীন দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মধ্যে গৃহনির্মাণ প্রকল্পে দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলায় তৃতীয় ধাপে ১০টি পরিবারকে বাড়ি বরাদ্দ দিয়ে টাকা নেওয়া ও নিজ আত্নীয় বাড়ি থাকার পরেও বাড়ি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আদিবাসী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ডুই টুডুর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকার অসহায় গৃহহীন ও দুঃস্থ পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দিবে বলে প্রথম আমাদের কাছে উপজেলা আদিবাসী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ডুই টুডু ভোটার আইডি কার্ড ও জমির কাগজপত্রেরে ফটোকপি জমা নেয়। তখন তিনি বলেন, উপজেলার অফিসে এক হাজার টাকা করে জমা দিতে হবে। তখন এক হাজার টাকা ডুই টুডুকে জমা দেয়। কিছুদিন পরে আমাদের জানানো হয় যে আমাদের নাম আসছে সরকারি ঘরের বরাদ্দের তালিকায়। আমরা শুনে তো মহা খুশি। কয়েকদিন পরে আমাদের ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বলে এখন ঘর নিতে হলে ৩০ হাজার টাকা করে দিতে হবে। আমরা তার কাছে জানতে চাই যে সরকারি ঘর তো প্রধানমন্ত্রী ফ্রি দিবে, তাহলে টাকা লাগবে কেনে? তখন ডুই টুডু বলেন, উপজেলার বড় অফিসারদের টাকা দিতে হবে; টাকা না দিলে ঘরের নাম কাটা যাইবে। তখন ডুই টুডুকে ৫ হাজার থেকে শুরু করে কেউ কেউ ২০ থেকে ২৩ হাজার টাকা পর্যন্ত তার হতে দেওয়া হয়েছে। টাকা দেওয়ার একমাস পার হয়ে গেলেও ঘর নির্মাণের কাজ এখনো শুরু হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আদিবাসী সংগঠনের এক সদস্য বলেন, যে ঘর পাওয়ার যোগ্য নয়, নিজ আত্মীয়কে যাদের ঘড়বাড়ি দালানের নামের তালিকায় তাদরে নাম দিয়েছে টাকা নিয়ে। যারা টাকা দিতে পারেনি তাদের ঘরের তালিকায় নাম দেয়নি আমাদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডুই টুডু।

ঘর পাওয়া প্রকল্পের তালিকায় নাম থাকা উপজেলার পুনট্রি ইউনিয়নের মিনতি মার্ডি বলেন, সরকারি ঘর পাব বলে আমাদের আদিবাসী সংগঠনের ডুই টুডু বলেন ঘর নিতে হলে ৩০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। আমি গরিব মানুষ, মানুষের বাসায় কাজ করে কোনো মতো সংসার চালাই; এতো টাকা পাব কই। তখন ডুই বলে টাকা না দিলে ঘরের তালিকা থেকে নাম কাটা যাবে। এখন টাকা লাগবে, না হলে ঘর পাবেন না। ঘর না হলে থাকার জায়গা নাই তাই বাধ্য হয়ে ২৩ হাজার টাকা জমা দিছি। টাকা নেওয়ার একমাস হলো কিন্তু ঘর নির্মাণকাজ শুরু করেনি। খালি বলে বাকি টাকা রেডি করো ঘর পেয়ে যাবে।

অমরপুর ইউনিয়নের রসেন সরেন বলেন, সরকারি ঘর নিতে হলে সরকারি একটা ফি আছে ৩০ হাজার টাকা। সেটা দিতে হবে, না হলে ঘর বরাদ্দ দিবে না বলে জানান ডুই টুডু। পরে তাকে ৪০০ টাকা কম ২০ হাজার টাকা দিছি। কিন্তু ঘর নির্মাণ শুরু হয়নি।

একই ইউনয়িনের পকোই সরেন বলেন, সরকার দিবে ঘর ফ্রি, এখন টাকা না দিলে বলে ঘর দিবে না। মুই গরিব মানুষ এখন এতুলা টাকা কোঠে পাইম। দুদিন আছিলো ডুই টুডু দুদিনে ৯০০ টাকা দিছু। আরও ২০ হাজার টাকা চাছে টাকা দিবার না পারো তাহে বলে ঘরের কাজ শুরু না করে।

উপজেলার ফতেজনংপুর ইউনিয়নের শান্তি বালা ও কুমহর রবি দাস বলেন, ঘরের পাওয়ার তালিকায় আমাদের নাম থাকলেও এখনো ঘরের কাজ শুরু করেনি। ঘর নেওয়ার জন্য আমার দুই পরিবার আপতত ৫ হাজার করে টাকা দিছি। টাকা না দিলে বলে কোনো কাজ হবে না। না হলে নাম কাটি দিয়া অন্য জনকে ঘর দিবে। তখন বলেছি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হলে আরও টাকা দিব আগে কাজ শুরু করেন।

উপজেলা আদিবাসী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডুই টুডু বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠছে, তা সত্য নয়। আমাদের আদিবাসী সংগঠনের কিছু লোক এসব বলতেছে। এর আগেও আমার নামে অসংখ্য অভিযোগ উঠছে, তদন্ত করে কিছু পায়নি। নিজ আত্মীয়কে দালানের ঘর বাড়ি থাকার পরেও ঘরের তালিকায় তাদরে নাম দিয়েছেন কেনো প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা আমার ভুল হলে তাদের নাম কেটে দেওয়া হবে। আর আমি এক হাজার দুই হাজার টাকা নিছি এটা ইউএনও স্যারও জানে।

এ বিষয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ হাসান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমারও কাছে আসছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নয়াশতাব্দী/এফআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ