ঢাকা | সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ আশ্বিন ১৪২৮

৩০০ আসনের নেতাদের চিঠি বিএনপির

মো. শফিকুল ইসলাম

প্রকাশনার সময়

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৮

করোনা মহামারিতে জনগণের আরো কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি। জেলায় জেলায় হেল্প সেন্টার চালু করার পাশাপাশি ৩০০ সংসদীয় আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া নেতাদের কেন্দ্র থেকে আলাদাভাবে চিঠি দিয়ে সহযোগিতার নির্দেশনাও দিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে যারা দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ফরম সংগ্রহ করেছিল, তাদের ওই চিঠি দিয়ে দলের করোনা হেল্প সেলের কার্যক্রমের পাশাপাশি জনগণের পাশে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। কিন্তু অনেকেই একে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন।

নয়া শতাব্দীর সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন, আগামী নির্বাচনে তাদের মধ্যে থেকে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। দলীয় স্বার্থ নয়, তাদের রাজনীতি হোক মানুষের জন্য। শুধু মিছিলে স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করা নয়, দুঃসময়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোকেও রাজনীতির বড় দায়িত্ব মনে করছেন তারা।

সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্র্বাচনের প্রার্থী ও মনোনয়ন প্রত্যাশীসহ মোট ২ হাজার ৬০০ জনকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার পাশাপাশি নানাভাবে তারা প্রচারেও নেমেছেন। দলীয় প্যাডে এই চিঠির ঘটনা অনেক নির্বাচনী এলাকায় দলের স্থায়ী কমিটির নেতা থেকে শুরু করে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা নেতা, সর্বোপরি গত নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। তবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ওই চিঠি দেয়ায় কেউ মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না। অবশ্য কেউ কেউ এই চিঠি দেয়ার ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখছেন। তারা বলছেন, আগে-ভাগে চিঠি দেয়ার কারণে বিএনপির নেতারা কিছুটা হলেও চাঙ্গা হবে।

দলীয় নেতাকর্মীরা সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি আদায় ও আন্দোলনে তাদের ভূমিকা ও কৌশল নির্ধারণ করেত পারবেন। আবার নির্বাচনের পর বেশিরভাগ মনোনয়নপ্রার্থী নিষ্ক্রিয় ছিলেন। বিদেশে চলে গেছেন অনেকে। ‘খারাপ পরিস্থিতি’ দেখে অনেকে চুপচাপ রয়েছে। কিন্তু চিঠি পাওয়ার পর তাদের অনেকে আবারো দলের কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। চিঠি দেয়ায় আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। ঘুমিয়ে থাকা নেতারা ফের সক্রিয় হচ্ছে।

বিএনপি নেতারা জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। সে লক্ষ্যে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নের জন্য আবেদনকারীদের মাঠে কাজ করার জন্য দলীয় প্যাডে চিঠি দিয়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চিঠি পেয়ে নিষ্ক্রিয় থাকা ব্যক্তিরা কিছুটা উজ্জীবিত হয়েছেন। এছাড়া সারাদেশের তৃণমূলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সব সাংগঠনিক কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। নেতাকর্মীদের ফের ঐক্যবদ্ধ করে সময়মতো আন্দোলন গড়ে তোলাই দলের লক্ষ্য। ২০২৩ সালের নির্বাচন নিরপেক্ষ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনও আদায় করার চেষ্টা হবে।

জানা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৭ আগস্ট ৩০০ আসনে প্রার্থী ও মনোনয়নপ্রত্যাশী মিলিয়ে মোট দুই হাজার ৬০০ জনকে চিঠি দিয়ে দলের করোনা হেল্প সেলের কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানায় দলটি। করোনায় চিকিৎসাসেবাসহ নানা সহায়তার জন্য সারাদেশে ৮০টিরও বেশি হেল্প সেল কার্যক্রম চালু করেছে বিএনপি। সহায়তা করছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। তবে তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছেন জেলা ও বিভাগীয় শীর্ষ নেতারা। কারা কতটুকু ভূমিকা পালন করেছেন তা তদারকি করে এ বিষয়ে কেন্দ্রে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য পৃথক আরেকটি নির্দেশনা পাঠিয়েছে বিএনপি। গত ২৪ আগস্ট বিএনপি মহাসচিব স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি সারাদেশের সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদককে পাঠানো হয়। একই চিঠিতে বিএনপির জেলা ও মহানগর পর্যায়ের কমিটিতে ১৫ শতাংশ নারী সদস্যের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয়েছে কিনা সে বিষয়েও তদারকি করে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি।

জানা গেছে, গত নির্বাচনে দলের প্রার্থী ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের করোনা সেলে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হলেও চিঠি দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নেতারা ভেবেছেন, হয়তো মৌখিকভাবে বিষয়টি প্রার্থীদের জানানো হবে। কিন্তু এখন চিঠি দেয়ায় বেশিরভাগ নির্বাচনী এলাকায় কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। চিঠি নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে বলছেন, মনোনয়ন তাকেই দেয়া হবে। দলের বাইরেও কেউ কেউ মাঠে নেমে পড়েছেন। এমনকি বিদেশ থেকে এসে যারা ফরম কিনেছিলেন, তারাও ফোন করে কেন্দ্রের কাছে ওই চিঠি চাইছেন। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এজন্য কেউ কেউ এ ঘটনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেও দেখছেন।

বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, যেহেতু চিঠি দেয়া হয়েছে। তাই আমি মনে করছি, আমাকে মূল্যায়ন করছে দল। মাঠে-ময়দানে শুধু স্লোগান আর বুলি আওড়ানো নয়। মানুষের পাশে থেকে মানুষের সেবা করাটাই বড় রাজনীতি বলে আমি মনে করি। সরকারি, বিরোধী দল সব রাজনৈতিক দলকে আমি আহ্বান করব এই করোনাকালে মানুষের সেবা করি। মানুষের পাশে থাকি। এটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় রাজনীতি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজু নয়া শতাব্দীকে বলেন, আমিসহ বাগেরহাট জেলার অনেক নেতা ওই চিঠি পেয়েছেন। করোনা মহামারির সময়ে আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, এই দুর্দশায় পাশে দাঁড়ানোর মতো ভালো কাজ, মহৎ উদ্যোগ আর কিছু হতে পারে না। করোনা শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সাধ্যমতো বাগেরহাটবাসীকে সহায়তা করে যাচ্ছি। শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, মানুষ কীভাবে যে আমাদের সাধুবাদ জানাচ্ছে সেটা বলার নয়। এজন্য আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্যালুট জানাই। এই দুর্দিনে তিনি এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যেখানে সন্তান তার বাবা-মাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে সেখানে আমরা জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x