ঢাকা, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষে আহত যুবদল নেতা শাওন মারা গেছেন

প্রকাশনার সময়: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২:৩৫

বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে আহত মুন্সীগঞ্জের যুবদল নেতা শহীদুল ইসলাম শাওন মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বুধবার মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকন্ঠ মুক্তারপুরে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে শাওন আহত হন। গুরুতর অবস্থায় তাকেসহ জাহাঙ্গির মাদবর, তারেক হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসা হয়।

বিএনপির দাবি, পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন শাওন। মুন্সীগঞ্জ জেলার মীর কাদিম পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। দুই বছর আগে তিনি বিয়ে করেন। তার এক বছরের একটি শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান। শাওনের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন দলের নেতাকর্মীরা। এ সময়ে হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ও জেলার সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল ড্যাব সদস্য ডাক্তার পারভেজ রেজা কাঁকনসহ আরও অনেকে।

এ সময়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, হত্যা, গুলি আর নির্যাতন করে কোনো স্বৈরাচারী সরকারই টিকে থাকতে পারেনি। এই সরকারও পারবে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সরকারের পতন ঘটবে। সেদিন এই জুলুমের বিচার হবে। প্রতিটি ফোটা রক্তের হিসেব কড়ায় গন্ডায় নেওয়া হবে। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে শাওনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এরমধ্য দিয়েই তাদের আন্দোলনকে আরও বেগবান করা হবে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সদর উপজেলা, মুন্সীগঞ্জ শহর ও মিরকাদিম পৌর বিএনপি শহরের মুক্তারপুর এলাকার পুরাতন ফেরীঘাট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে পুলিশের বাধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত। মুত্তারপুরে পুরাতন ফেরীঘাট এলাকায় বিএনপির মিছিলের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজ-উল-ইসলাম ও সদর থানার ওসি তারিকুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ মিছিলে বাঁধা দেন এবং মিছিলের ব্যানার নিয়ে যান ও ছিড়ে ফেলায় এবং লাঠিচার্জ করায় নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে উপর্যপুরি ইটপাটকেল মারেন। এ সময়ে পুলিশও কাদানে গ্যাস, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিকসহ বিএনপির অন্তত ৬০ জন আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহতদের বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। শাওনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই তাকে আইসিইউতে নিয়ে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাত পৌনে ৯টায় মৃত্যু হয় তার।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুবদল নেতার মৃত্যতে গভীর শোক প্রকাশ ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

নয়া শতাব্দী/এফআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ