ঢাকা, বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

উত্তরায় নিহত রুবেলের ‘৭ বিয়ে’, মরদেহ নিয়ে ৫ স্ত্রীর কাড়াকাড়ি

প্রকাশনার সময়: ১৬ আগস্ট ২০২২, ১৪:৪৭ | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২২, ১৬:১৬

রাজধানীর উত্তরায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার ছিটকে পড়ে প্রাইভেটকারের নিহত পাঁচ আরোহীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দুপুর পৌনে একটার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত হয়।

ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক নাসেদ জামিল বলেন, নিহতদের বিষয়ে সুরতহাল প্রতিবেদনে যা লেখা আছে, আমরা ময়নাতদন্তে তাই পেয়েছি, ব্যতিক্রম কিছু নয়। নিহত প্রত্যেকের একাধিক পর্যবেক্ষণ (মাল্টিপল ফাইন্ডিংস) রয়েছে। প্রতিটার আলাদা করে বর্ণনা (ডেসক্রাইব) দেয়া সম্ভব নয়। সুরতহাল প্রতিবেদনে যেভাবে বর্ণনা করা আছে, হুবহু আমরা তাই পেয়েছি।

লাশ কখন হস্তান্তর করা হবে জানতে চাইলে ওই চিকিৎসক বলেন, আমাদের কাজ শেষ। এখন পুলিশ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

এদিকে, লাশ নিতে হাসপাতালের মর্গের সামনে পরিবারের কর্তাব্যক্তি রুবেলের স্ত্রীর সংখ্যা নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে মর্গের সামনে বাড়ছে রুবেলের স্ত্রীর সংখ্যা। নিহত রুবেল সাতটি বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে। মর্গের সামনে ৫ নারী নিজেকে রুবেলের স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন।

রুবেলের স্ত্রী দাবি করে হাসপাতালে আসা নারীরা হলেন, নারগিস বেগম, রেহানা বেগম, শাহেদা বেগম, সালমা আক্তার পুতুল ও তাসলিমা আক্তার লতা। এই পাঁচজন মর্গের সামনে এসে মরদেহ দাবি করছেন। আরেকজনের নাম টিপু। তিনি মারা গেছেন। রুবেলের সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়। এছাড়া বাকি একজনের নাম জানা যায়নি।

মঙ্গলবার সকালে মর্গের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নিহতদের আত্মীয়-স্বজনেরা ভিড় করছেন। অনেকেই কান্নাকাটি করছেন। এসময় এক এক করে রুবেলের পাঁচজন স্ত্রীর খোঁজ পাওয়া যায়।

তাদের মধ্যে প্রথম স্ত্রী রেহানার সাথে বিয়ে হয় ৩০ বছর আগে। সেই ঘরের প্রথম ছেলে সন্তান হৃদয় সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরেন।

প্রথম স্ত্রী রেহানার বোনজামাই ও রুবেলের ভায়রা ভাই রহমত বলেন, আমরা শরিয়তপুরে থাকি। আমাদের রুবেল বায়িং হাউজের ব্যবসা করতেন বলে জানতাম। আমরা তেমন একটা ঢাকায় আসতাম না। মৃত্যুর খবর শুনে আসলাম। শুনেছিলাম সে দ্বিতীয় আরেকটা বিয়ে করেছেন।

অন্যদিকে, রুবেলের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম জানা যায় শাহেদা। তার ঘরে রত্না নামে ১৪ বছরের একটি মেয়ে আছে। তার বাড়ি মানিকগঞ্জ সিংগাইর এলাকায়। ঢাকায় উত্তরা থাকেন।

তবে, দ্বিতীয় স্ত্রী শাহেদা নিজেকে প্রথম স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, আমার সাথে ১৯৯৯ সালে বিয়ে হয়েছে। আমিই প্রথম। আমাকে সে কখনো বলেনি তার আরেকজন স্ত্রী আছে।

প্রথম স্ত্রীর আত্মীয় রহমত বলেন, দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে তার একটি মেয়ে হয়েছে শুনেছিলাম। সেই স্ত্রীর আগে আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। সেই ঘরের একটা ছেলেও আছে। ছেলেসহ রুবেলের সাথে বিয়ে বসেন তিনি।

রুবেলের তৃতীয় স্ত্রী দাবি করা সালমা আক্তার পুতুল মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় থাকেন। ঘরে বসে সেলাই মেশিনের কাজ করেন। ২০১৪ সালে রুবেলের সাথে তার বিয়ে হয়। রুবেলের সম্পর্কে তিনি জানতেন সে একজন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ী। তবে, রুবেলের সাথে বিয়ের কোনো সনদ নেই তার।

পুতুল বলেন, আমাকে বিয়ে করেছে মিথ্যা কথা বলে। আমি জানতাম তার স্ত্রী আছে মাত্র একজন। প্রথম ঘরের স্ত্রী অসুস্থ বলে আমাকে বিয়ে করেছে। কিন্তু বিয়ের পর দেখি আরো অনেকের সাথেই তার সম্পর্ক আছে। পাতা খন্দকার নামে তার আরেক জন স্ত্রী আছে। পরে আমি প্রতারণার মামলা করি। মামলা আমার পক্ষেও আছে। এমনটাই দাবি তার।

এরপর খন্দকার বিউটি নামে আরেকজন স্ত্রীর সন্ধান পাওয়া যায়। পাতা খন্দকার বলেন, আমার সাথে বিয়ে হয়েছে অনেক দিন আগে। তবে কবে হয়েছে স্পষ্ট বলেননি তিনি। তিনি দাবি করেন, আমিই দ্বিতীয় স্ত্রী।

এছাড়াও সন্তান প্রসবের সময় তার এক স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা যায়।

রুবেলের সাত স্ত্রীর বিষয়ে প্রশ্ন করলে প্রথম স্ত্রীর আত্মীয় রহমত বলেন, এখন অনেকেই অনেক কিছু বলতে আসবে। কিন্তু তাতে কাজ হবে না। আমরা তাদের চিনিও না। আমরা প্রথম ঘরের আত্মীয়।

এদিকে প্রথম স্ত্রীর ছেলে সন্তান বেঁচে যাওয়া হৃদয় বলেন, তার জন্ম ১৯৯৫ সালে। অন্যদিকে শাহেদার সাথে বিয়ে হয় ১৯৯৯ সালে। কিন্তু শাহেদা আরেক স্ত্রী আছে জানতেন না বলেই নিজেকে প্রথম স্ত্রী দাবি করেন তিনি। এছাড়াও টিপু, নারগিস নামে আরো দুই স্ত্রীর পরিচয় পাওয়া গেছে ।

এর আগে সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে উত্তরার জসীমউদ্দীন এলাকায় ক্রেন দিয়ে একটি গার্ডার ওপরে তোলার সময় নিচে পড়ে যায়। এ সময় চলমান একটি প্রাইভেট কার গার্ডারের নিচে চাপা পড়ে। প্রাইভেটকারে আরোহী ছিলেন সাত জন। ছিলেন নববিবাহিত হৃদয়ের বাবা রুবেল (৬০), হৃদয়ের শাশুড়ি ফাহিমা (৪০), কনে রিয়া মনির খালা ঝরনা (২৮), ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। শুধু বেঁচে আছেন হৃদয় ও রিয়া।

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ