ঢাকা, বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

কাউকে দেখছি না কেন? প্রশ্ন হৃদয়ের

প্রকাশনার সময়: ১৬ আগস্ট ২০২২, ০৭:৩২ | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২২, ০৭:৩৩
পুত্র হৃদয় ও পুত্রবধূ রিয়া মনির সঙ্গে উত্তরায় গার্ডার দুর্ঘটনায় নিহত রুবেল।

বিয়ের সাজে রাজধানীর উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি নববধূ রিয়া মনি (২১) ও তার স্বামী রেজাউল করিম হৃদয় (২৪)। হৃদয়স্পর্শী দুর্ঘটনার শোকে নির্বাক তারা।

হাসপাতালে স্বজনদের কাছে এক প্রশ্ন বারবার করছিলেন হৃদয়, ‘ওরা কোথায়? ওরা কি কেউ বেঁচে নেই? কাউকে হাসপাতালে দেখছি না কেন?’ এমন প্রশ্নে হঠাৎ এক স্বজন হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। এরপরই হৃদয় বুঝতে পারেন প্রাইভেটকারে থাকা বাকি পাঁচ প্রিয়জনের কেউই আর বেঁচে নেই। তখন হৃদয় আর্তনাদ করে বলেন, ‘বেঁচে রইলাম, এমন দুর্ভাগা কেন? ওদের কাছে এখনই নিয়ে চলো। আর বাঁচতে চাই না।’

অন্যদিকে হাসপাতালের বিছানায় বসে থাকা রিয়ার মুখে কোনো কথা নেই। শুধু কাঁদছেন তিনি।

এর আগে সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে উত্তরার জসীমউদ্দীন এলাকায় ক্রেন থেকে পড়ে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ফ্লাইওভারের গার্ডারে প্রাইভেটকার চাপা পড়ে। এ ঘটনায় ওই নবদম্পতির ৫ স্বজন নিহত হয়েছেন। অনুষ্ঠান শেষে স্বজনেরা নবদম্পতিকে নিয়ে কনের বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পরিবারটি।

নিহতরা হলেন- হৃদয়ের বাবা রুবেল (৬০), রিয়ার মা ফাহিমা (৪০), খালা ঝরনা (২৮), ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। বেঁচে থাকা নবদম্পতিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হৃদয়ের ডানপায়ে আঘাত লেগেছে। রিয়া মনির কোথাও আঘাত লাগেনি। তবে তারা শঙ্কামুক্ত হলেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

হৃদয় ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করা গেলেও ভায়াডাক্টচাপা সেই গাড়ির ভেতরে রয়ে যান হৃদয়ের বাবা রুবেল, হৃদয়ের শাশুড়ি ফাহিমা, ফাহিমার বোন ঝরনা, ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত ও জাকারিয়া।

ফায়ার সার্ভিস গাড়ি কেটে তাদের বের করা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে আরেকটি ক্রেন এনে ভায়াডাক্টটি সরানোর পর গাড়ি থেকে পাঁচজনেরই লাশ উদ্ধার করা হয়।

রিয়া মনির খালাত ভাই শুভ বলেন, দুটি গাড়িতে করে তারা কাওলা থেকে আশুলিয়া যাচ্ছিলেন। তাদের গাড়ি পেছনে ছিল।

তিনি বলেন, সামনের গাড়ি হৃদয়ের বাবা চালাচ্ছিলেন, পাশে বসেছিলেন হৃদয়। আর পেছনে বসেছিলেন হৃদয়ের স্ত্রী রিয়া মনি, তার মা, খালা ও তার দুই বাচ্চা।

এদিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহসীন হোসেন বলেন, পাঁচটি মরদেহের আলাদা করে সুরতহাল তৈরি করা হচ্ছে। সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন হলে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো পাঠানো হবে।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে নিহত ফাহিমা আক্তার ও ঝরণা আক্তারের ভাই মো. আফরান মণ্ডল বাবু বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় এ মামলা করেন। মামলায় ক্রেনের চালক, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোহসীন বলেন, উত্তরায় ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহত দুই বোনের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত দোষীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।

নয়াশতাব্দী/জেডআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ