ঢাকা, বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ট্রমায় ভুগছেন নবদম্পতি, হঠাৎ হঠাৎ কেঁদে উঠছেন

প্রকাশনার সময়: ১৫ আগস্ট ২০২২, ২৩:৪৩

রাজধানীর উত্তরায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আহত নবদম্পতি হৃদয় (২৪) ও রিয়া মনি (২১) স্বজনদের মৃত্যুতে ট্রমার মধ্যে আছেন এবং হঠাৎ হঠাৎ কেঁদে উঠছেন তারা।

এর আগে সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে উত্তরার জসীমউদ্দীন এলাকায় ক্রেন থেকে পড়ে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ফ্লাইওভারের গার্ডারে প্রাইভেটকার চাপা পড়ে। এ ঘটনায় ওই নবদম্পতির ৫ স্বজন নিহত হয়েছেন। অনুষ্ঠান শেষে স্বজনেরা নবদম্পতিকে নিয়ে কনের বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পরিবারটি।

নিহতরা হলেন- রুবেল (৬০), ফাহিমা (৪০), ঝরনা (২৮), ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। বেঁচে থাকা নবদম্পতিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হৃদয়ের ডানপায়ে আঘাত লেগেছে। রিয়া মনির কোথাও আঘাত লাগেনি। তবে তারা শঙ্কামুক্ত হলেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। নবদম্পতি ট্রমার মধ্যে আছেন এবং হঠাৎ হঠাৎ কেঁদে উঠছেন।

এদিকে এই ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার রাতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নীলিমা আক্তার, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এডিসি মনজুর মোর্শেদ।

বিআরটি প্রকল্প পরিচালক সফিকুল ইসলাম বলেন, মূল বিষয় হচ্ছে কারিগরি ত্রুটি। আমাদের প্রকল্পের গার্ডারটি ক্রেন মিস করে প্রকল্প এলাকার বাইরে গিয়ে ছিটকে পড়েছে। কী কারণে এমন ঘটেছে, তার ব্যাখ্যা তদন্ত কমিটি দেবে। এই মুহূর্তে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ আমরা বলতে পারছি না। সেজন্য আমরা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। তাদের মঙ্গলবার সকাল ৯টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আহত হৃদয়ের বিয়ে গত শনিবার (১৩ আগস্ট) হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তার খালাত ভাই রাকিব হোসেন। তিনি বলেন, বিয়ের পর স্ত্রী ও বাবাসহ স্ত্রীর স্বজনদের নিয়ে আশুলিয়া খেজুর বাগানে শ্বশুড়বাড়ি যাচ্ছিলেন হৃদয়।

হৃদয় ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করা গেলেও ভায়াডাক্টচাপা সেই গাড়ির ভেতরে রয়ে যান রুবেল, হৃদয়ের শাশুড়ি ফাহিমা, ফাহিমার বোন ঝরনা, ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত ও জাকারিয়া।

ফায়ার সার্ভিস গাড়ি কেটে তাদের বের করা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে আরেকটি ক্রেন এনে ভায়াডাক্টটি সরানোর পর গাড়ি থেকে পাঁচজনেরই লাশ উদ্ধার করা হয়।

রিয়া মনির খালাত ভাই শুভ বলেন, দুটি গাড়িতে করে তারা কাওলা থেকে আশুলিয়া যাচ্ছিলেন। তাদের গাড়ি পেছনে ছিল।

তিনি বলেন, সামনের গাড়ি হৃদয়ের বাবা চালাচ্ছিলেন, পাশে বসেছিলেন হৃদয়। আর পেছনে বসেছিলেন হৃদয়ের স্ত্রী রিয়া মনি, তার মা, খালা ও তার দুই বাচ্চা।

হৃদয়ের খালাত ভাই বলেন, তার খালু রুবেল পোশাক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আর হৃদয়ের দোকান রয়েছে।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহসীন জানিয়েছিলেন, ক্রেন বেঁকে ফ্লাইওভারের গার্ডার পড়ে যায়। এতে গাড়িটি চাপা পড়ে। এরপর এক্সভেটর দিয়ে গার্ডারটি সরানো হয় এবং এরপর বাস থেকে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নয়াশতাব্দী/জেডআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ