ঢাকা, বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পদ্মা সেতুতে দু’টি বড় বাঁক, কিন্তু কেন?

প্রকাশনার সময়: ২৮ জুন ২০২২, ১০:৩৬

দ্বার খুলেছে বাঙালীর স্বপ্নের পদ্মা সেতুর। এই সেতু নিয়ে সাধারণের কৌতূহলের শেষ নেই। প্রতি দিনই এই সেতু, এর নির্মাণ নিয়ে নতুন নতুন তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে। মাত্র তিন সেকেন্ডে এই সেতুতে টোল নেওয়া যাবে।

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৯ কিলোমিটারেও বেশি। তবে পানির উপরের অংশে রয়েছে ৬.১৫ কিলোমিটার। কিন্তু একটি প্রশ্ন বার বারই অনেকের মনে উঠে আসছে যে, সোজা তৈরি করা সম্ভব হলেও কেন বাঁকিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই সেতু?

তবে শুধু পদ্মা সেতুই নয়, দেশ বিদেশ মিলিয়ে এ রকম বহু সেতু রয়েছে, যা সোজা তৈরি করা গেলেও বেশ খানিকটা গিয়ে এই রাস্তা বেঁকে গিয়েছে।

মুন্সিগঞ্জের মাওয়া থেকে শরীয়তপুরের জাজিরার কাছে এই দীর্ঘতম সেতু বাঁক খেয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সেতুটি বাঁকা না হয়ে সোজা হলে এর দৈর্ঘ্য কমত। পাশাপাশি এই প্রকল্পের ব্যয়ও কমত বলেও অনেকে মনে করছেন।

আবার অনেকের দাবি, সুন্দর দেখাতেই এই সেতুটি বাঁকিয়ে তৈরি করা হয়েছে। দুর্ঘটনা কমাতে এই সেতুতে এত বাঁক রয়েছে বলেও অনেকে মনে করছেন। নানা জনের নানা মত থাকলেও আসল কারণ কিন্তু অন্য।

সেতু বাঁকিয়ে তৈরি করা প্রসঙ্গে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মহম্মদ শফিকুল ইসলাম এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইচ্ছা করেই এই সেতুটি বাঁকা নির্মাণ করা হয়েছে।

তার কারণ সেতু সোজা হলে বেশি দৈর্ঘ্যের কারণে গাড়ি চালানোর সময় চালকের ঝিমুনি আসতে পারে। অনেক চালক স্টিয়ারিং ছেড়েও গাড়ি চালাতে পারেন। কিন্তু সেতুতে বাঁক থাকলে চালকেরা গাড়ি চালানোর সময় অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখবেন।

এর আগে, পদ্মা সেতু প্রকল্পের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রধান বিশেষজ্ঞ প্রয়াত ইঞ্জিনিয়ার জামিলুর রেজা চৌধুরী জানিয়েছিলেন, যদি আকাশ থেকে দেখা হয় তা হলে বোঝা যাবে যে, এই সেতুতে দু’টি বাঁক রয়েছে।

এক বার ডান দিকে এবং একবার বাঁ দিকে, এই দুই পথে বাঁক নিয়েছে পদ্মা সেতু। শুধু পদ্মাই নয়, আমেরিকা, চিন এবং জাপানেও বহু সেতু এই ভাবে বাঁকিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

জামিলুরও এই বিষয়ে একই যুক্তি দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, চালকদের কথা মাথায় রেখেই এই সেতু বাঁকিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেতু একদম সোজা হলে গাড়িচালকেরা মনঃসংযোগ হারান। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।

তবে সেতু বাঁকিয়ে তৈরি করা হলে চালকদের অতিরিক্ত সতর্ক হতে হয়। বড় দুর্ঘটনা থেকে বাঁচা যায় বলেও জামিলুর জানিয়েছিলেন।

পদ্মার মতো নদীর উপরে তৈরি বেশির ভাগ বড় সেতুই বাঁকিয়ে তৈরি করা হয়। এই সেতুগুলির উপরে যানবাহনের ওজনের পাশাপাশি নীচে নদীর জলের চাপ থাকে। সেতুতে একাধিক গাড়ি চলাচলের ফলে সেতুতে কম্পনের সৃষ্টি হয়।

কম্পনের ফলে চাপ বাড়ে সেতুগুলিতে। তবে সেতু বাঁকিয়ে তৈরি করা হলে এই চাপ ছড়িয়ে পড়ে এবং কমে যায়।

এই চাপ এক জায়গায় পড়লে বড় সেতুগুলির ভেঙে পড়ারও সম্ভাবনা থেকে যায়। সেতু বাঁকিয়ে তৈরি হলে সেতুর নিচে থাকা স্তম্ভেও চাপগুলি সমান ভাবে ছড়িয়ে যায়। কমে যায় ব্রিজের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা।

নদীতে জলের স্রোত থাকলেও এই স্তম্ভগুলিতে প্রবল চাপ পড়ে। কিন্তু সেতু বাঁকা হলে এই চাপের পরিমাণ অনেক কমে যায়।

সেতু বাঁকা হলে ভূমিকম্পের সময় সেতুর উপর কম কম্পন অনুভূত হয়। এই কারণগুলির জন্যই তৈরিতে বেশি খরচ হলেও পদ্মার মতো বেশির ভাগ দীর্ঘ সেতুই বাঁকিয়ে তৈরি করা হয়।

জামিলুরের মৃত্যুর পর ওই কমিটির প্রধান হন অধ্যাপক শামীম জেড বসুনিয়া।

এই একই কারণে পশ্চিমবঙ্গের মা উড়ালপুলও বাঁকিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এই উড়ালপুল নদীর উপর না হলেও দৈর্ঘ্য এবং যানবাহনের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে এই উড়ালপুল বাঁকিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রায় দু’যুগের পরিকল্পনার ফসল পদ্মা সেতু। নিজেদের টাকাতেই তিল তিল করে নির্মিত হয়েছে এই সেতু।

নয়া শতাব্দী/ এডি

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ