ঢাকা | বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

পুলিশের কেন লাইসেন্স নাই?

প্রকাশনার সময়: ২৫ নভেম্বর ২০২১, ১৮:৫১

রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ময়লাবাহী একটি গাড়ির ধাক্কায় নটরডেম কলেজের এক ছাত্র মারা যাওয়ার একদিনের মাথায় আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ময়লার গাড়ির ধাক্কায় আহসান কবির খান নামে আরও এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

এর প্রতিবাদে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল দশটার পর থেকে ঢাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে স্কুল-কলেজের ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীরা।

পুলিশের বাস আটকে রাখল শিক্ষার্থীরা

আন্দোলন চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি বাস এক ঘণ্টা ধরে আটকে রাখে। শিক্ষার্থীদের দাবি, পুলিশের ওই বাসচালকের লাইসেন্স নেই। তবে বাস চালক দাবি করেছেন, তার লাইসেন্স আছে, তবে সেটা অফিসে রাখা। বেলা দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত আটকে রেখে পরে বাসটি ছেড়ে দেন শিক্ষার্থীরা। তার আগে তারা বাসটির সামনে ও পাশে লিখে দেয় : ‘পুলিশের কেন লাইসেন্স নাই’।

বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া চালুর দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই রাজধানীতে বিক্ষোভ চলছিল। এর মধ্যে বুধবার গুলিস্তানে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ নতুন মাত্রা পায়।

হলিক্রস, বিজ্ঞান কলেজ ও ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বেলা ১১টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করলে সেখানে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে একটি বাস রাজারবাগ থেকে মিরপুরে যাওয়ার পথে বেলা দেড়টার দিকে ফার্মগেটে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়ে। ছাত্ররা বলছেন, লাইসেন্সবিহীন একজন চালকের কারণে তারা একজন সহপাঠীকে হারিয়েছেন। আর হারাতে চান না। পুলিশের বাসটির চালক তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। একজন ‘ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিকে’ তারা বাস নিয়ে রাস্তায় যেতে দিতে চান না। সে কারণে তাকে আটকে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে বাসটির চালক পুলিশের নায়েক লাল মিয়া বলেন, ‘তার লাইসেন্স রয়েছে। তবে সেটি অফিসে থাকায় তিনি দেখাতে পারেননি। একজন লাইসেন্স নিয়ে ঘটনাস্থলে আসছেন।’

বাসটি আটকে রাখার সময় পুলিশের একজন সদস্য ছাত্রদের ‘গালি দিয়েছেন’ বলে অভিযোগ উঠলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ছাত্রদের দাবির মুখে ওই কনস্টেবল শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান। বেলা আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা বাসটি ছেড়ে দেয়।

নয়া শতাব্দী/এম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন