ঢাকা | রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

শেষ হলো ভোটগ্রহণ, গাড়ি পাঠালেও আসেননি ভোটার

শাহ শরীফ উদ্দিন, সিলেট ব্যুরো

প্রকাশনার সময়

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৫৭

অর্ধেক ভোটারও আসেননি কেন্দ্রে। দিনভর অনেকটা নীরবতার মধ্যদিয়েই শেষ হলো সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

শুরু থেকে ভোটারদের অনাগ্রহের বিষয়টি দেখা গেলেও প্রার্থীরা তা উড়িয়ে দেন। বলেন, ‘নীরব ভোটে বিপ্লব হবে।’ কিন্তু তাদের সকল কিছুকেই মিথ্যা প্রমাণিত করল ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোর নীরবতা। তাইতো ফাঁকা কেন্দ্রে আনসার সদস্যদেরও অলস সময় কাটাতে দেখা যায়।

সকাল ৮ টা থেকে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় বিকাল ৪ টায়।

কিন্তু সরেজমিনে অধিকাংশ কেন্দ্রই ফাঁকা দেখা গেছে। কোন কোন কেন্দ্রে নৌকার এজেন্ট ছাড়া বাকি তিন প্রার্থীরই এজেন্টই ছিলেন না। খোশগল্পে দিন কাটে আনসার সদস্যদের। এমন অবস্থায় বেলা ২ টা পর্যন্ত অন্তত ১৩ টি কেন্দ্র সারেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে সর্বোচ্চ ৩৮ শতাংশ থেকে সর্বনিম্ন ১৪ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে। এমনকি বাড়িতে গাড়ি পাঠিয়েও আনা যাচ্ছে না ভোটার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রায় একই অবস্থা ছিলো সকল কেন্দ্রেই। সে ক্ষেত্রে গড় ভোটগ্রহণ সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি মহালয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেলা ১ টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়েছে মাত্র ১৪ শতাংশ। এমনকি মোগলাবাজার এলাকার রাজা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার লুতফুর রহমান ২ টায় জানান মাত্র ৩১ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে। আর দক্ষিণ সুরমার জান আলী শাহ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩৮ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে।

একই অবস্থা পূর্বভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র। এখানে বেলা আড়াইটায় মাত্র ১৮ শতাংশের মত ভোটগ্রহণ হয়। এমন অবস্থায় নৌকার প্রার্থীর পক্ষ থেকে অটোরিকশা পাঠিয়ে বাড়ি বাড়ি থেকে ভোটার আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও ফের খালি গাড়ি ফিরছে কেন্দ্রে।

তবে কেন্দ্রে ভোটার না থাকলেও বাহিরে মানুষের চলাচল দেখা গেছে। এসময় দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি মহালয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারের উপস্থিতি হয়নি। যারাই এসেছেন সবাই কোন না কোন প্রার্থীর সমর্থক, কর্মী।

সকাল থেকেই ফাঁকা ছিলো ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সকল ভোটকেন্দ্র। মাইজগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর সাড়ে ১২ টায় দেখা যায় মাত্র ৩ জন ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত আছেন। সব মিলে অনাগ্রহেই গেলো ভোট।

এদিকে সকালে মোগলাবাজার এলাকায় রেবতি রেমন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে ইভিএম মেশিনে আঙুলের ছাপ না মেলায় প্রথমে ভোট না দিয়েই ফিরতে হয় জাপার প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিককে। পরে বিকাল ৩ টার দিকে গিয়ে ফের ভোট দেন তিনি।

দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৪৯ টি। সকল কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে চলছে ভোট। তবে নতুন এ পদ্ধতিতে ভোটারদের আগ্রহ বেশি থাকার কথা থাকলেও ১-২ জন করে কিছু সময় পর পর ভোটার আসছেন কেন্দ্রে।

এদিকে চলতি বছরের ১১ মার্চ এ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস-সামাদ চৌধুরী কয়েস করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে ১৫ মার্চ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন থেকে তফসিল ঘোষণা করা হলেও কয়েক দফায় পিছিয়ে চূড়ান্ত হয় ৪ সেপ্টেম্বর। সে অনুযায়ী সকাল থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ।

এ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে আতিকুর রহমান আতিক, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি করলেও স্বতন্ত্র থেকে মোটরকার প্রতীকে শফি আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকে জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়াসহ মোট চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

এদিকে রিটানিং কর্মকর্তা ও সিলেটের জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশের ১৭ থেকে ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। আর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে নিয়োজিত আছেন ১৮ থেকে ১৯ জন সদস্য।

অপরদিকে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে গঠিত ২১টি মোবাইল ফোর্স, ১২টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র‌্যাবের ১২টি টহল টিম ও ১২ প্লাটুন বিজিবি নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় বিজিবির সঙ্গে ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। তাদেরকে মনিটরিং করছেন ৩ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x