ঢাকা | রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

‘ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া অসহায় পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে’

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশনার সময়

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:১৫

আপডেট

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:২৬

ডেঙ্গু বৃদ্ধির ব্যার্থতার দায় স্বীকার করে মৃত্যুর জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া অসহায় পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর এফডিসিতে ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ’ নিয়ে ছায়া সংসদে বিতর্কে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় মন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাবস্থাপনার পাশাপাশি নাগরিক সম্পৃক্ততা জরুরী। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেপ্টেস্বরের মধ্যেই ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, মশা নিধনের জন্য যে কীটনাশক ব্যবহার করা হয় তা যাতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি না করে সেদিকে সর্বোচ্চ নজর রাখা হচ্ছে। একইসাথে মশার ওষুধ ছিটানোর কাজে নিয়োজিত কর্মীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বা মৃত্যু নিয়ে কোন তথ্য বিভ্রাট নাই।

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ব্যাবহার নিশ্চিতকরনের জন্য ইন্টার্নাল অডিটের পাশাপাশি এক্সটার্নাল অডিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই সাবকন্টিনেন্টে কোন দেশই ডেঙ্গুমুক্ত নয়। ঢাকার দুই মেয়র ডেঙ্গু প্রতিরোধে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। সরকার ইতোমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। ডেঙ্গুতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে আমরা অনেক ভালো আছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। যেখান থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ডেঙ্গু রোগীদের এলাকা চিহ্নিত করে সে এলাকার প্রতি বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। ছায়া সংসদটির আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘মশক নিধনে ঢাকার সিটি কর্পোরেশন দুটিতে প্রতিবছর বড় অঙ্কের আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হলেও তেমন সুফল মিলছে না। মশক নিধনে নাগরিক কমিটি গঠন করার কথা বলা হলেও দৃশ্যমান ভাবে তা খেয়াল করা যায় নাই। ডেঙ্গু প্রতিরোধে করোনার মতো জাতীয় পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা উচিত। যে কমিটি কীট তত্ত্ববিদ, জনস্বাস্থ্যবিদ, প্রানীবিজ্ঞানী, বর্জ্য ব্যাবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে। একইসাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে এনজিওদের সমন্বয়ে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচী গ্রহণ করতে পারে। সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরির জন্য যেসব ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর প্রকোপ নেই সেসব ওয়ার্ডগুলোকে ডেঙ্গুমুক্ত মডেল এলাকা ঘোষনা করা যেতে পারে।’

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়ররা ডেঙ্গু আক্রান্ত মৃত্যুর জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও আমরা দেখিনি আর্থিক সহায়তা নিয়ে কোন অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাড়াতে।

তিনি বলেন, তবে কিছু কিছু অসচেতন মানুষ বাড়ির জানালা দিয়ে বাহিরে ময়লা ফেলাকে একটি অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর, মিরপুর সহ কয়েকটি এলাকার দুই বাড়ির মধ্যে যে প্যাসেজ রয়েছে জানালা দিয়ে ময়লা ফেলতে ফেলতে তা ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান বলেন, সামান্য ২০-৫০ টাকার কেরসিন বা ব্লিচিং পাউডার সিটিয়ে, জমা পানি ফেলে দিয়ে ডেঙ্গুর লার্ভা নির্মূল করা সম্ভব হলেও, কিছু কিছু নাগরিকের খামখেয়ালীপনার জন্য লার্ভা নির্মূল সম্ভব হচ্ছে না। কোন কোন নগরবাসী বাসার পানির মিটার, ফুলের টব, এসি-ফ্রীজের পানি পরিষ্কার না করলেও দামি দামি পোষাক, গাড়ী, পারফিউম ঠিকই ব্যাবহার করছে। তাই নগরবাসীকে ডেঙ্গুর থেকে সুরক্ষার জন্য আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নগরে বসবাসকারী মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সিটি কর্পোরেশন কিংবা সরকারের একার পক্ষে ডেঙ্গুর বিস্তার নির্মূল করা অসম্ভব।

প্রতিযোগিতায় আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি- বাংলাদেশকে পরাজিত করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর বিতার্কিকরা চ্যাম্পিয়ন হয়।

প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ট্রফি ও সনপত্র প্রদান করা হয়।

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক অনিমেষ কর, সাংবাদিক জান্নাতুল বাকেয়া কেকা, সাংবাদিক ফালগুনী রশীদ ও সাংবাদিক শেখ নাজমুল হক সৈকত।

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x